advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

‘আমি বনের নয়, জীবন চলার পথের সন্ন্যাসী হতে চাই’

তারেক আনন্দ
১৫ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:৪৬ এএম
advertisement

পপস্টার ফেরদৌস ওয়াহিদ। সংগীতে তার বর্ণাঢ্য জীবন। পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। বর্তমান সময়টাকে তিনি কতটা উপভোগ করছেন, কেমন কাটছে তার ব্যস্ততা। বিস্তারিত কথা হয় কিংবদন্তি এই শিল্পীর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন-তারেক আনন্দ

নিজের জীবনকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন?

আমার জীবনটাকে যদি তিন ভাগে ভাগ করি তা হলে বলব, ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত চলে গেছে নিজেকে বোঝার মধ্য দিয়ে। এর পর থেকে জীবনকে চিনতে শিখলাম। চল্লিশের পর থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত গানের পাশাপাশি আমার মাঝে ছিল অন্য চিন্তা।

সেই অন্য চিন্তার সফলতার দেখা কি পেয়েছেন?

যে চিন্তাটা আমি করেছিলাম সেই চিন্তার দরজায় মাত্র পা রেখেছি।

দরজার ভেতরে যাওয়ার পরের গল্পগুলো কি হতে পারে?

এই মুহূর্তে যে ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তা হলো- জন্ম এবং মৃত্যু। এখানে কারোর কোনো হাত নেই। আমার কাছে আগে সৌরজগতের শাসনকর্তা তার পরই ধর্ম। এত বছর সত্য-মিথ্যার দোলাচলে আমার জীবন পরিচালিত হয়েছে। এখন জীবন সায়াহ্নে এসে আমি আমার শাসন কর্তার পরে নিজের ভেতর ধর্মে প্রবেশ করে এখন থেকে চলতে যাচ্ছি সত্যের ওপর। সকাল, সন্ধ্যা, রাত্রিকে চেনা এবং নিজেকে উপলব্ধি করা। পথিবীতে যেমন আমি নিজের ভালোর জন্য জন্ম নিলাম, অন্যের ভালোটা দেখার ব্রত নিয়ে আমি সত্যের সন্ধানী হতে চাই। আমি বনের সন্যাসী হতে চাই না। জীবনচলার পথের সন্ন্যাসী হতে চাই।

আপনার স্বর্ণালি সময়ে ফিরে যেতে চাই, যে জীবন ছিল আনন্দের; উদযাপনের। পেছনে ফিরে তাকালে ভাবনায় কী আসে?

যখন পেছনে ফিরে তাকাই, আমার আনন্দ, আমার জীবনকে উপভোগ করার সামর্থ্য এবং ইচ্ছা, ভালো-মন্দ নিয়ে তা হলে আমি বলব, শুধু বড় সমুদ্রে সাঁতার কেটেছি। দেখেছি সেই সাঁতারের ঢেউয়ের মধ্যেও আমার নিজের ঢেউ; কিন্তু আজকে ৪০ বছর পর একটি জিনিসই ভেবেছি, ওই মুহূর্তগুলোই ছিল আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি আমার মাত্র ঘুম ভাঙল। এখন আমার বিবেক যা বলে, যা চায়, তার সাথেই বন্ধুত্ব করতে চাই।

তাহলে কি আপনি গানের জগত থেকে দূরেই চলে গেলেন?

ঘোষণা দিয়েছিলাম- আমি গান আর গাইব না। সেটা ছিল বাণিজ্যিকভিত্তিক কোনো গানে আমাকে পাবেন না। এখন যা গাইব সেটি হতে হবে বিষয়ভিত্তিক গান। যে গানে আমার মনের খুধাটাও মিটবে, মানুষের বিবেককেও যেন নাড়া দেয়। বিষয়ভিত্তিক গানে আমাকে পাবেন।

সম্প্রতি একটি গানে সুর করলেন। নতুন এই গানটি সম্পর্কে জানতে চাই...

গানটি বাংলাদেশ লানক ফাউন্ডেশনের থিম সং। কথা লিখেছেন ডা. কাজী বেননূর। এটির সুর ও সংগীত করেছি আমি। আমার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন ন্যানসি। কোরাস পার্টে গেয়েছেন তাবাসসুম, সুইটি, পাপন ও শহীদ মাহমুদ। গানটির পরিকল্পনায় ছিলেন ডা. শাকুর।

মাঝে সুরকার হিসেবে আপনাকে দীর্ঘদিন পাওয়া যায়নি, কেন? প্রথম সুর করা গানের কথা মনে পড়ে?

১৯৭৩ সালে ঢাকা রেকর্ডিং কোম্পানি থেকে আমার কথা, সুর ও কণ্ঠে ‘চাঁদ জাগে তারা জাগে’ শিরোনামের গানটি ছিল আমার জীবনের প্রথম রেকর্ড। এ ছাড়া আরও কিছু গানের সুর করেছি। সেগুলো সম্পর্কেও ভক্ত-শ্রোতাদের বলতে চাই। ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত আমার কথা, সুর ও কণ্ঠে ‘পাপি আমি তা তো জানি (তৃতীয় রেকর্ড)’। ‘কেমন করে তোমাকে (১৯৭৭ সালে রেকর্ড)’। ওই সময় আর নিজের কথা ও সুরে গান করা হয়নি। এর কারণ অন্যের কথা ও সুরে গাওয়া নিয়েই ব্যাপক ব্যস্ত ছিলাম। ২০১০ থেকে ১২ সালের মধ্যে আবার কিছু গানের সুর করেছি। যেমনÑ ন্যান্সী ও আমার দ্বৈত ‘ওরে আমার বাঁশিওয়ালা’, কনার কণ্ঠে আমার কথা ও সুরে ‘তুমি আমার ভালোবাসা’, আরফিন রুমির কণ্ঠে ‘আরে লে ছাক্কা’, মিলন মাহমুদের কণ্ঠে ‘মইরা গেলে এক পয়সার দাম নাই’ প্রভৃতি।

কালজয়ী গান ‘এমন একটা মা দেনা’ গানটির রেকর্ড কততম ছিল?

এটি ছিল দ্বিতীয় রেকর্ড। প্রকাশ হয় ৭৬ সালে। প্রকাশের পর পরই বিটিভিতে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের ‘সপ্তবর্না’ অনুষ্ঠানে এই গান নিয়ে পারফর্ম করি। শুধু তা-ই নয়, বিটিভিতে আমার গান দিয়েই শুরু হলো লিপসিং যাত্রা। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারকে লিপসিংয়ের বিষয়টি রাজি করাতেই আমার অনেক কষ্ট হয়েছে। প্রকাশের পর পরই সারাদেশে অভাবনীয় জনপ্রিয়তা পেয়ে যায় ‘এমন একটা মা দেনা’, এই গান আজঅব্দি সমানভাবে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।

পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার আপনার। দীর্ঘ এই সংগীতজীবন থেকে যদি বলা হয় আপনার ১০টি গান বেছে নিতে, তা হলে কোন গানগুলো বেছে নেবেন?

এটা বলা খুবই মুশকিল। কারণ প্রতিটি সৃষ্টিই তো নিজের কাছে সমান।

তার পরও থাকে না। চোখ বন্ধ করে যদি বলতে থাকেন, কোনগুলো বলবেন?

১. এমন একটা মা দেনা; গীতিকার, সুরকার নাসির আহমেদ অপু। ২. আগে যদি জানিতাম, মোহাম্মদ নূরুল হুদার কথায় সুর করেছেন লাখী আখন্দ। ৩. মামুনিয়া, মোহাম্মদ নূরুল হুদার কথায় সুর করেছেন লাখী আখন্দ। ৪. আমার পৃথিবী তুমি, চলচ্চিত্র : আসামি হাজির (১৯৭৬), দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর কথায় সুর করেছেন আলম খান। ৫. আমি এক পাহারাদার সাধ্য আছে কার বাবার, চলচ্চিত্র : অশিক্ষিত (১৯৭৭), গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথায় সুর করেছেন সত্য সাহা। ৬. আমার প্রেমের তরী, চলচ্চিত্র : মহেষখালীর বাঁকে (১৯৭৮), মুকুল চৌধুরীর কথায় সুরকার আলম খান। ৭. ওগো তুমি যে আমার কত প্রিয়, চলচ্চিত্র : লাভ ইন শিমলা (১৯৭৮)। মুকুল চৌধুরীর কথায় সুর করেছেন আলম খান। ৮. সব আগুন যায় নেভানো, মোহাম্মদ নূরুল হুদার কথায় সুরকার লাখী আখন্দ। ৯. রাখি লক্ষ্মীসোনা রাখি, মানিকের কথায় সুর করেছেন মনোয়ার হোসেন টুটুল। ১০. তার পরে কি হবে কি হবে আর ভেবে রে, চলচ্চিত্র : অগ্নিশিখা (১৯৮০), সুরকার সত্য সাহা।

 

advertisement
advertisement