advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বাংলাদেশ ব্যাংক
এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশের কাছে

জিয়াদুল ইসলাম
১৫ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২২ ০৩:২০ এএম
advertisement

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। করোনা পরিস্থিতির উন্নতিতে রপ্তানি খাত ভালো করায় এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে আগেই জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশের কাছাকাছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রত্যাশা বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। এ ছাড়া ডিজেল ও কেরোসিনের অভ্যন্তীরণ মূল্যবৃদ্ধির কারণে চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত মাসে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এমনই প্রত্যাশা ও শঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ছিলেন। বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস-২০২২ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আর পরবর্তী ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। এর আগে গত বছরের জুনে এক পূর্বাভাসে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। এর আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলেছিল, চলতি অর্থবছরে

বাংলাদেশের জিডিপি হবে

৬ দশমিক ৬ শতাংশ। আইএমএফের আর্টিকেল-ফোর মিশনের একটি প্রতিনিধি দল গত মাসে ঢাকা সফর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন পূর্বাভাস দেয়। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক শীর্ষক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে এই দুই সংস্থার পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে ব্যাংকার্স সভায় উপস্থাপিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাপরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন দেশের সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্প্রসারণমূলক রাজস্ব ও মুদ্রানীতির আওতায় নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এরই মধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে বৈশ্বিক জিডিপি ২০২০ সালে ৩ দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পেলেও ২০২১ ও ২০২২ সালে তা যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় সরকারের সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রসারণ ও সঙ্কুুলানমুখী মুদ্রানীতি গ্রহণের ফলে দেশীয় অর্থনৈতিক কর্মকা-ে অনেকটা গতিশীলতা ফিরে এসেছে। এতে বলা হয়, করোনার প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন টাকার ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন টাকার ১০টি প্যাকেজ বাস্তবায়নের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি যুক্ত। এ ছাড়া, করোনার প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বের অন্যান্য উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকও স্বল্পসুদে ঋণের জোগান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো-বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বাণিজ্যিক ব্যাংকের নগদ জমার হার (সিআরআর) ও নীতি সুদহার হ্রাসকরণ, এডিআর ও আইডিআর বৃদ্ধিকরণ, ব্যাংকগুলোর কাছে রক্ষিত অতিরিক্ত সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়ের ওপর গুরুত্বারোপ এবং অর্থনীতির অগ্রাধিকারমূলক খাত যেমন-রপ্তানিমুখী শিল্প, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম বর্ধিতকরণ। এসব পদক্ষেপের ফলে ২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আগের অর্থবছরের চেয়ে অনেকটা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশে পৌঁছায়। এ ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের কাছাকাছি হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরে মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির কারণে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট সাধারণ মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এবং নভেম্বর থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের অভ্যন্তরীণ মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী মাসগুলোয় গড় সাধারণ মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে মূল্যস্ফীতি ধরে রাখা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন আশঙ্কার প্রতিফলন দেখা গেছে সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যন ব্যুরোর (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির তথ্যেও। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ নভেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আগের মাস অক্টোবরে যা ছিল ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। এ সময়ে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

advertisement
advertisement