advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

বর্ষসেরা লেভানদোভস্কি

ক্রীড়া ডেস্ক
১৯ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:৩৩ এএম
রবার্ট লেভানদোভস্কি। পুরোনো ছবি
advertisement

টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের রেকর্ড সৃষ্টিকারী স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানদোভস্কি। ফিফার সদর দপ্তর জুরিখে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত বছরের অন্যতম আলোচিত এ অনুষ্ঠানে সব দৃষ্টিই যেন ছিল এই পোলিশ তারকার দিকে। দুর্দান্ত ফর্মে ২০২১ সালটা কাটালেও নভেম্বরে লেভানদোভস্কি ব্যালন ডি’অর না পাওয়ায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছিলেন। আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকার উপহার দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী পুরস্কারটা লিওনেল মেসির হাতেই উঠেছিল। এবারও ফিফার বর্ষসেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায় লেভানদোভস্কির সঙ্গে লড়াইয়ে ছিলেন পিএসজির মেসি ও লিভারপুলের মিসরীয় তারকা মোহামেদ সালাহ। গত মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ৩৩ বছর বয়সী পোলিশ তারকা লেভানদোভস্কি বায়ার্নের শিরোপা জয়ের পথে রেকর্ড ৪১ গোল করেছিলেন। ২০২১ সালে এক ক্যালেন্ডার বছরে করেছেন সর্বমোট ৪৩ গোল। দুটোই বায়ার্নের- আরেক সাবেক কিংবদন্তি গার্ড মুলার ১৯৭২ সালের রেকর্ডকে স্পর্শ করেছিলেন। নারীদের বিভাগে সেরা হয়েছেন বার্সেলোনার অধিনায়ক অ্যালেক্সিয়া পুটেলাস। এর আগে তিনি ব্যালন ডি’অরও জয় করেছিলেন। পুটেলাসের নেতৃত্বে বার্সেলোনা প্রথমবারের মতো নারী চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতেছে। তার বার্সেলোনা সতীর্থ জেনিফার হারমোসো ফিফার বর্ষসেরার তালিকায় তৃতীয় হয়েছেন। এ তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালিস্ট চেলসির স্যাম কার।

পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই সেরা কোচের পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছে চেলসির দুই কোচ থমাস টুখেল ও এমা হায়েস। টুখেল আবারও এই তালিকায় পেছনে ফেলেছেন ম্যানচেস্টার সিটির পেপ গার্দিওলাকে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটিকে শিরোপা উপহার দেওয়া গার্দিওলা হয়েছেন তৃতীয়। ইতালিকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে নেতৃত্ব দেওয়া রবার্তো মানচিনি ফিফা ভোটিংয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছেন। এদিকে বার্সেলোনার কোচ লুইস কোরটেসকে পেছনে ফেলে চেলসির হায়েসের বর্ষসেরা হওয়াটা ছিল বিস্ময়কর। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে বার্সেলোনা ৪-০ গোলে চেলসিকে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জয় করেছিল। ইংল্যান্ডের কোচ সারিনা উইগম্যান হয়েছেন তৃতীয় সেরা কোচ।

বিশ্বসেরা একাদশ বেছে নেবার ক্ষেত্রেও পুরুষ ও নারী উভয় তালিকায় বেশ কিছু বিস্ময় দেখা গেছে। নারীদের বিশ্বসেরা একাদশে ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কারের শীর্ষে থাকা তিন খেলোয়াড়ের একজনও জায়গা পাননি। এমনকি এ তালিকায় বার্সেলোনার কোনো খেলোয়াড়ও জায়গা পাননি। পুরুষ বিভাগে ৩-৩-৪ ফর্মেশনে জায়গা খুঁজে পাননি সালাহ। আক্রমণভাগে এ তালিকায় রয়েছেন মেসি, লেভানদোভস্কি, আর্লিং হালান্ড ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। জুরিখের অনুষ্ঠানে রোনালদো তারকা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ১১৫ গোল করার কৃতিত্ব হিসেবে রোনালদোর হাতে একটি বিশেষ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। সেরা গোলের জন্য পুসকাস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন এরিকা লামেলা। মার্চে প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে টটেনহ্যামের হয়ে তার দুর্দান্ত গোলটি এবার সেরার তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। সেরা গোলরক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন চেলসির এডুয়ার্ডো মেন্ডি। ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপের সময় ডেনমার্কের তারকা মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাঠে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি ছিল বছরের আলোচিত ঘটনা। এ ঘটনায় ডেনমার্কের খেলোয়াড় ও মেডিক্যাল স্টাফরা যেভাবে এরিকসেনকে মাঠের মধ্যে সহযোগিতা করেছে সে কারণে ড্যানিশ পুরো দল ফিফার ফেয়ার প্লে পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া ওই একই ঘটনা ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের সমর্থকরা যেভাবে এরিকসেনের সমর্থনে সেদিন সমস্বরে চিৎকার করে উঠেছিল তারই পুরস্কার হিসেবে বর্ষসেরা সমর্থকের পুরস্কার পেয়েছে দল দুটি।