advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জিয়াউর রহমানের আজ ৮৬তম জন্মবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ০২:০৬ এএম
advertisement

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজ ৮৬তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীর নশিপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ী গ্রামে তার জন্ম। জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে তার দল ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রসায়নবিদ মনসুর রহমান ও জাহানারা খাতুন দম্পতির পাঁচ ছেলের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়। তার ডাক নাম কমল। ১৯৫৩ সালে তিনি কাকুল পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্টে পদোন্নতি পান। তিনি ১৯৫৭ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি (অধিকাংশ বাঙালি সৈনিক ও অফিসার

নিয়ে গঠিত) হন। আর ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত কাজ করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে। ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কোম্পানি অধিনায়ক ক্যাপ্টেন জিয়া প্রচ- সাহসিকতার সঙ্গে চরম রণদক্ষতা দেখান। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। ওই বছরের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে প্রথমে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার নিযুক্ত হন এবং চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাঙামাটি, মীরসরাই, রামগড়, ফেনী প্রভৃতি স্থানে মুক্তিযুদ্ধ করেন। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১১ নম্বর সেক্টরের ও জেড ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধে অংশ নেন জিয়া। স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরত্বের জন্য তাকে বীরউত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

বিপথগামী একদল সেনাসদস্যের হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যার শিকার হন। এর পর ঘটনাবহুল ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। তার রাষ্ট্রক্ষমতার সময়কাল সংক্ষিপ্ত হলেও রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃৃতি, ক্রীড়া, নারী, শিশু সবকিছুতেই একটা বিপ্লব ঘটান। জিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টি, বৈপ্লবিক চেতনা, বিশ্বাস ও স্বাধীনচেতা দৃঢ়চরিত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে তিনি নিহত হন।

জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিকালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্প্রবর্তক জিয়াউর রহমান এক ঐতিহাসিক যুগান্তকারী দায়িত্ব পালন করেন। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে দেশের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী হয় এবং স্বাধীন জাতি হিসেবে আন্তর্জাতিক মর্যাদার আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ। তাই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেদের নীলনকশা বাস্তবায়নের কাঁটা ভেবে জিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কিন্তু তার এই আত্মত্যাগে জনগণের মধ্যে গড়ে উঠেছে দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে এক ইস্পাতকঠিন গণঐক্য।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, “শহীদ জিয়ার জন্মদিনে তার প্রদর্শিত পথেই আমরা স্বৈরাচারী অগণতান্ত্রিক শক্তির থাবা থেকে মুক্ত হব ও গণতন্ত্র ফিরে পাব। আর এর জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ‘গণতন্ত্রের মা’ গৃহবন্দি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আমরা দেশনেত্রীর বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।”

দলের প্রতিষ্ঠাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে আজ বুধবার সকাল ৬টায় সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন, বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং বেলা ২টায় রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনাসভা। একই দিন নয়াপল্টনে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব এবং আগামীকাল বিএনপির উদ্যোগে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন থাকবে। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় দৈনিকে জিয়াউর রহমানের ওপর ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে বিএনপি। ইতোমধ্যে তার ছবিসংবলিত পোস্টার প্রকাশ করেছে দলটি।