advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরুর ইতিহাস

আলপ্তগীন তুষার
১৩ এপ্রিল ২০২২ ০৯:১৭ পিএম | আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২২ ১২:২৯ এএম
advertisement

নববর্ষ উৎসবের শুরু অগ্রহায়ণে। অগ্র অর্থ প্রথম, হায়ণ অর্থ বছর। অগ্রহায়ণের অর্থ হচ্ছে বছরের প্রথম। সেই সময় ফাগুনের পূর্ণিমা তিথিতে নববর্ষের উৎসব অনুষ্ঠান পালিত হতো। বৈশাখে নববর্ষ উৎসবের আয়োজন কখন শুরু হয় তা কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। ষাটের দশক থেকে রমনা বটমূলে গানের মাধ্যমে বৈশাখী উদ্যাপন শুরু করে। ১৯৮৯ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট (বর্তমান চারুকলা অনুষদ) ঢাকায় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু করে। যার উদ্যোক্তা ছিল চারুকলার ১৯৮৬ ব্যাচ।

আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, মানুষ যখন তার খর্বিত মৌলিক, মানবিক অধিকার আর বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য সোচ্চার, ঠিক এই সময় হতাশা-যন্ত্রণার মাঝে আনন্দের দীপশিখা জ্বালিয়ে আশার বাণী শোনাবার জন্য চারুকলার ১৯৮৬ শিক্ষাবর্ষের কিছু তরুণশিল্পী বৈশাখী উৎসবের মধ্য দিয়ে একটি আনন্দ-উদ্দীপনা আনতে প্রয়াসী হয়। ১৯৮৯ সালের ১ বৈশাখে ঢাকা শহরে প্রথম আনন্দ শোভাযাত্রার সূচনা হয়। তার আগে ১৯৮৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর এই গ্রুপের নেতৃত্বেই জয়নুল জন্ম উৎসব ৮৮-এর আনন্দ শোভাযাত্রার সূত্রপাত ঘটে। তবে বাংলাদেশে প্রথম ১৯৮৬ সালে ১ বৈশাখে  শোভাযাত্রার সূত্রপাত ঘটায় যশোরের চারুপীঠের শিল্পী এবং শিক্ষার্থীরা। চারুকলা ইনস্টিটিউটের (বর্তমানে চারুকলা অনুষদ) মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং বর্ষবরণের উৎসব সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং জাতীয় পর্যায়ে রূপলাভ করেছে।

advertisement 3

আমরা ৮৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা তখন পুরনো প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। ১৯৮৮ সালে ঢাকা শহরসহ সারাদেশে প্রচণ্ড বন্যা হয়। তখন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে নিসার হোসেন স্যার এবং আজিজ শরাফী স্যারের তত্ত্বাবধানে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ তৎপরতা চালানো হয়। আমি, সোহেল, শুকু, মণি, মুক্তি, তুহিন, মিঠু, মিলি এবং আমাদের ক্লাসের আরও অনেকে পরিবাগ এবং ইস্কাটন থেকে শুরু করে মগবাজার মোড় পর্যন্ত সব বাড়ি এবং ফ্ল্যাটে গিয়ে খাদ্য এবং কাপড়-চোপড় সংগ্রহ করি। মাহাবুব, সাখাওয়াত, নাজিম, কামরুল, ফরিদ, সালেহ এরা অন্যদিকে কাজ শুরু করে। এরপর আমাদের সঙ্গে ১ম বর্ষের (শিক্ষাবর্ষ ১৯৮৭-৮৮) দেবাশীষ, ইলিয়াস, এনাম, লিটু, শামীম এবং ২য় বর্ষের কনক ভাই, বিপুল ভাই এবং পাপিয়া আপা, লুবনা আপা কল্যাণপুর, তল্লাবাগ এবং সোবহানবাগ এলাকায় ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করে। এ সময় বিরামহীন পরিশ্রমে আমি এবং মিঠু প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়ি। রাতে রুটি এবং স্যালাইন বানানো আর দিনে সেগুলোকে বন্যাদুর্গত এলাকায় পৌঁছানো এসব কাজ করতে গিয়ে আমরা সংগঠিত এবং একত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম। সে সময় কিছু ভিন্ন মতাবলম্বী সিনিয়র ছাত্র আমাদের এসব কর্মকাণ্ড বিরোধিতা করেছিল। তার ফলে একটি তুচ্ছ ব্যক্তিগত ঘটনাকে ইস্যু করে নিসার হোসেন স্যারকে তারা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। আমাদের ব্যাচের সবাই জোরালো প্রতিবাদ, পোস্টার লিখে ক্লাস বর্জন করি। এই প্রতিবাদ সভায় নেতৃত্ব দেয় মূলত মাহাবুব, ফরিদ এবং শিপু। আমরা বাকিরা প্রত্যক্ষভাবে এর সঙ্গে ছিলাম। এতে অনেকের ওপর প্রতিপক্ষরা চড়াও হয়, কাউকে কাউকে শাহনেওয়াজ হলে এসে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। মিঠু, হেলাল ও খোকনের ভাষ্য মতে তারা কয়েকজন নিসার হোসেন স্যারের বাসায় দেখা করে আমাদের সিদ্ধান্তের কথা জানায়। নিসার হোসেন স্যার সবাইকে ভালো কিছু করে দৃষ্টান্ত রাখার পরামর্শ দেন। পরে ফরিদ, যশোরের শামীম ভাই এবং লিপু নিসার হোসেন স্যারের কাঁঠালবাগানের বাসায় দেখা করতে যায়। স্যার ড্রইং রুমেই ছিলেন। এ সময় নিসার হোসেন স্যারের বাবা  শিল্পী এমদাদ হোসেন ড্রইং রুমে এসে বসেন। তিনি যশোরে পৌষ মেলার প্রসঙ্গে বলেন সেই কথার সূত্র ধরে শামীম ভাই যশোরের উদযাপিত ১ বৈশাখের উৎসব ও শোভাযাত্রার উদাহরণ দিয়ে আগত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মদিন উপলক্ষে চারুকলায় একটি শোভাযাত্রার প্রস্তাব দেন।

advertisement 4

 আমরা কতিপয় ছাত্র জিয়া হলের পাঁচ তলায় প্রথম জয়নুল জন্মোৎসবের কাজ শুরু করি খুব গোপনে। শাহনেওয়াজ হল এবং এ.এফ. রহমান হল থেকে পুরনো খবরের কাগজ সংগ্রহ করা হলো। সে সময় শাহনেওয়াজ হলে কাজ করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। তাই বাঁশের চটা এবং কাগজ ইত্যাদি সরঞ্জামসহ জিয়া হলে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে যথাক্রমে রুম নং ৫২৬, ৫২৭, ৫২৮ এ শিপু সালেহ, লিটন এবং আমার সিট ছিল (জিয়া হলে সিট থাকলেও আমি শাহনেওয়াজ হলেই শেষ পর্যন্ত ছিলাম), বাঁশের চটাগুলো হলের ছাদে নিয়ে রাখা হলো। সেদিন বিকালে সালেহ মাহমুদ কী একটা কাজে কিশোরগঞ্জ চলে যায় এবং ২৮ তারিখ সন্ধ্যায় ফিরে এসে কাজে যোগ দেয়। ২৮ ডিসেম্বর শোভাযাত্রার আগে থিওরি রুমের জানালায় কালো পর্দা টাঙিয়ে দেওয়া হয় যেন বাইরে থেকে দেখা না যায়। খুব কম লোক এটার সম্পর্কে অবগত ছিল। ২৯ তারিখ সকালে আমরা মুখোশ ও মুকুট পরে গলায় বুকের সামনে ফেস্টুন ঝুলিয়ে রেডি। সকাল ৮টায় আগে থেকে প্রস্তুত রাখা একটি ঢাক বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে থিওরি রুমের দরজা খুলে আমরা এক সঙ্গে সবাই হইহই করে নাচতে নাচতে বের হয়ে এলাম।

শোভাযাত্রার ব্যানারে নাম ছিল জয়নুল জন্মোৎসব ’৮৮। এই প্রোগ্রামে আমরা যারা প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছিলাম তারা হলাম- মাহাবুবুর রহমান, সাখাওয়াত হোসেন, কামরুল আহসান খান, ফরিদুল কাদের খান, হানিফ তালুকদার, শহীদ আহমেদ মিঠু, কালাম, এস.এম. ফারুকুজ্জামান হেলাল, আহসান হাবীব লিপু, মনিরুজ্জামান শিপু, সালেহ মাহমুদ, হালিমুল ইসলাম খোকন এবং আমি আলপ্তগীন তুষার।

কিছুদিন পর পহেলা বৈশাখে শোভাযাত্রার  মাধ্যমে পালন করার জন্য শামিম, ফরিদ, মাহাবুব তরুণদার সঙ্গে আলাপ করে। তরুণদা জুইস ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এত কম সময়ে এটা করা সম্ভব নয় জুইস ভাইয়ের এ কথায়  সাখাওয়াত এবারেই আয়োজন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। পেছনের ক্যান্টিনে আমরা দুপুরের খাবার খেতাম। ফরিদ টিফিনের ১০ টাকা চাঁদা দিয়ে আমার কাছে দশ টাকা নিয়ে ফান্ড কালেকশন শুরু করে। একে একে অনেকের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া শুরু করে। তারপরও টাকার অভাব। ইউনুস স্যার দুইশ টাকা দেন। ফরিদ, হেলাল, আমি ক্লাসমেট জুইসহ ফরিদ ভাইয়ের বাসায় গেলাম।

এরপরে একদিন ফরমালি মিটিং হলো দোতলায় টিচার্স রুমের পাশের বারান্দায়। সেখানে উপস্থিত ছিল মাহাবুব, কামরুল, সাখাওয়াত, হেলাল, ফরিদ, বাবুল, কাকলী, মিঠু, অনি, লিপি, প্রথম বর্ষের শোভা, লাভলী এবং ছোট শিপু, সিনিয়রদের মধ্যে ছিল শামীম ভাই, কাঞ্চন ভাই, শিল্পী তরুণ ঘোষ, কামাল পাশা চৌধুরী এবং সম্ভবত মিনু ভাই। সিদ্ধান্ত হলো ১৯৮৯ সালের ১ বৈশাখ উৎসবের মাধ্যমে পালন করা হবে। কেউ একজন এটাকে র‌্যালি আখ্যা দিল। কামাল ভাই বলল কার্নিভাল। কিন্তু ফাইনালি এটা আনন্দ শোভাযাত্রা রাখা হয়। (পরে পহেলা বৈশাখে ওয়াহিদুল হক এবং শিল্পী এমদাদ হোসেনের  প্রস্তাবে এর নাম রাখা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা)। প্ল্যান হলো হাতি, ঘোড়া, মুখোশ, মুকুট বানানো হবে। এবার আগে থেকেই পোস্টারের মাধ্যমে প্রচার করা হলো। পোস্টার ডিজাইন করলেন শিল্পী তরুণ ঘোষ, পোস্টারের অক্ষর বিন্যাস করলেন মিনু ভাই। পোস্টার প্রিন্টের ব্যাপারে সাহায্যে করল এশিয়াটিক সোসাইটি ও সানোয়ারা করপোরেশন । বিসিক থেকে সাখাওয়াত একটা ফোক হাতির মডেল নিয়ে এলো, মাহাবুব নিয়ে এলো সোনারগাঁওয়ের ফোক হাতির মডেল। ফাইনালি সোনারগাঁওয়ের মডেলটিকে বড় করা হলো। ঘোড়াগুলো বানানো হয়েছিল বাঁশের চটার স্ট্রাকচার দিয়ে। তার ওপরে পাতলা চট আবৃত করা হয়। চটের ওপর গমের আঠা দিয়ে পুরু করে খবরের কাগজ লাগিয়ে দেওয়া হয়। ঘোড়ার ঘাড়ের কেশর পাট দিয়ে করা হয়। প্রথম অবস্থায় ঘোড়াগুলো ভারী ছিল। দুই পাশে দড়ি দিয়ে মাঝখানে ফাঁকা অংশে একজন মানুষ ঢুকে কাঁধে ঝুলিয়ে নিয়ে মুখের সঙ্গে লাগানো লাগাম দিয়ে ব্যালেন্স করে চালানো হতো। ঘোড়াগুলোর গায়ে সাদা রং করে তার ওপর প্লাস্টিক কালার দিয়ে ডিজাইন করা হয়। ঘোড়ার চার পাশে কাপড়ের ঝালর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাতে মানুষের পাগুলো দেখা না যায়। এবারও স্ট্রাকচার বানানোর মূল দায়িত্বে ছিল মাহাবুব এবং অন্যরা তাকে সাহায্য করে। মাটি দিয়ে মোল্ট করে তার ওপর পুরু খবরের কাগজ আঠা দিয়ে লাগিয়ে গ্রোটেক্স মুখোশ বানানো হয়। আমরা সবাই মিলে এগুলো রং করি। মোল্টগুলো মাহবুব তৈরি করে দেয়। এবার আমাদের ক্লাসের মেয়েরাও অংশগ্রহণ করে, তারা হলো- মিলি, মনি, অনি, লিপি, তুহিনসহ অনেকে এবং জুনিয়রদের মধ্যে শামীম, ছোট শিপু, আমিনুল হাসান লিটু, শোভা ও নাজিয়া প্রমুখ। আমাদের কাজে মাঝে মাঝে আগের ব্যাচের বিপুল ভাই, কনক ভাই এবং সাইফুল ভাই সাহায্য করেন। এ সময় কাঞ্চন ভাইয়ের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। তা ছাড়া জাহিদ মুস্তাফা এবং অশোক কর্মকারেরও ভূমিকা ছিল। শামীম ভাই এবং সাখাওয়াতসহ আমাদের ক্লাসের অনেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে গিয়ে চাঁদা নিয়ে এলো ফান্ড কালেকশনের জন্য। নাট্যব্যক্তিত্ব মরহুমা নাজমা আনোয়ার যথেষ্ট সহায়তা করেন। মুখোশগুলো রং করতে সাহায্য করেন শিল্পী তরুণ ঘোষ, শিশির ভট্টাচার্য্য। ১টি হাতি, ১০টি ঘোড়া ও ৫০টির বেশি মুখোশ বানানো হয়, বানানো হয় অসংখ্য মুকুট। শোভাযাত্রার আগের দিন সন্ধ্যায় সাইদুল হক জুইস ভাই একটি বড় চমৎকার কাগজে ফোল্ট করা বাঘের মুখোশ নিয়ে হাজির হন।এবারের ঘোড়াগুলো ভারী ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে পহেলা বৈশাখে ব্যবহৃত ঘোড়াগুলো জুইস ভাই মোডিফাই করেন। বাঁশের চটার পরিবর্তে মোটা তার দিয়ে ফ্রেম করে তার ওপর দিয়ে কাগজ ফোল্ট করে লাগান। রং লাগালে ভিজে যাবে তাই রঙের পরিবর্তে রঙিন কাগজে আঠা দিয়ে ডিজাইন করে লাগিয়ে দেন। তিনি পরবর্তী সময়ে অনেক ভ্যারাইটিজ মুখোশ তৈরি করেন। সেইগুলো ছিল অত্যন্ত চমৎকার। তরুণদা এবং শিশির ভট্টাচার্য্য অনেক মাটির সরার ওপর তুলি দিয়ে ডিজাইন করেন। আমারও অনেক মুখোশ এবং মাটির সরার ওপর ডেকোরেশন করি।

১৯৮৯ সালের (বাংলা ১৩৯৬) পহেলা বৈশাখে সকাল ৮টায় চারটি ঢাকের শব্দের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। ঢাকে বাড়ি দিয়ে উদ্বোধন করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক ফয়েজ আহমদ। শোভাযাত্রা চারুকলার গেট দিয়ে বের হয়ে শাহবাগ হয়ে রমনাতে যাওয়া মাত্র ছায়ানটের প্রোগ্রাম থেকে অসংখ্য লোক এই অভিনব শোভাযাত্রায় এসে যোগ দেয়। তারপর আমরা শিশু একাডেমি এবং দোয়েল চত্বর ঘুরে টিএসসি হয়ে আবার চারুকলায় ফিরে আসি। 

 তিন মাস আগে জয়নুল জন্মোৎসবে যারা প্রত্যক্ষ বিরোধিতা করেছিল তাদের অনেককে এই শোভাযাত্রায় নাচতে দেখা যায়। কেউ কেউ আমাদের কাছ থেকে ঘোড়া চেয়ে নিয়ে কাঁধে ঝুলিয়ে লাফাতে থাকে। শোভাযাত্রা সফল হলো।

১৯৮৯ সালের পহেলা বৈশাখের পর, ১৯৯০ সাল থেকে মাহাবুব, ফরিদ, লিপি, যশোরে গিয়ে পহেলা বৈশাখের কর্মকাণ্ডে শামীম ভাইকে সহায়তা করতে থাকে।

ঢাকায় স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর ’৯০ এবং ’৯১ সালে পহেলা বৈশাখ উদযাপন এবং শোভাযাত্রা বের করা হয়। ১৯৯১-এ প্রবাসী শিল্পী রুহুল আমিন কাজলের প্রস্তাবে চারুকলার সামনের দেয়ালে ডেকোরেশন করা হয়। চারুকলার বাঁপাশের গেটে গার্ড রুমের দেয়ালে রুহুল আমিন কাজলের সঙ্গে আমি ফোক স্টাইলে পেইন্টিং করি। ১৯৯১ সালে দুটো বড় কচ্ছপ বানানো হয়েছিল যার একটি ছিল মুভিং এটা মূলত আমি এবং ১৯৮৮-৮৯ ব্যাচের মোহাম্মদ আলী পাপ্পু মিলে বানিয়ে ছিলাম। মিঠু সে সময় বানানোতে সাহায্য করেছিল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালে উপাচার্য অধ্যাপক আবু ইউসুফ স্যারের সময়। একটি বড় বাঘ ও বক, অনেক ঘোড়া এবং মুখোশ বানানোর দায়িত্ব ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক আলপ্তগীন তুষারের ওপর, যা ছিল তার ঢাকা চারুকলার অভিজ্ঞতার ফসল।

ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে একটি সংস্কৃতিক বলয় তৈরির জন্য শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান স্যার অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে কাজ করেছিলেন। সেই লক্ষ্যে শিল্পী নাজমা আক্তারের পরিকল্পনা এবং ভিসি স্যারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিভাগ খুলে আলপ্তগীন তুষারকে চট্টগ্রাম থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সিনিয়রিটির নিয়ম মেনে অর্পণ করেন। ২০১৪ সালে একটি বাঘ এবং বক তৈরি করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ। সেটা নিয়ে প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ২০১৫ সালে পরাক্রমশালিতার প্রতীক হিসেবে বড় একটি হাতি বানানো হয়েছিল। এসব তৈরির মূল দায়িত্ব পালন করেন আলপ্তগীন তুষার। সঙ্গে সহযোগিতা করেন সহকর্মী শিল্পী রশিদ আমিন, রেজাউল সাদাত, ইমাম হোসেন সুমন এবং চারুকলার ছাত্রছাত্রী।

আলপ্তগীন তুষার: অধ্যাপক, চারুকলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

advertisement