advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

বেনাপোল দিয়ে দেশ ছাড়েন পি কে হালদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ মে ২০২২ ০৯:১০ পিএম | আপডেট: ১৪ মে ২০২২ ০৯:১০ পিএম
advertisement

প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর ডাকযোগে চিঠি পাঠায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই চিঠি পর দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে এসে পৌঁছায়।

কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ, তার ৫২ মিনিট আগেই বেলা ৩টা ৩৮ মিনিটে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশত্যাগ করেন এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার।

ইমিগ্রেশন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আমদের সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

পি কে হালদারের পাসপোর্ট জব্দ করার পরও কীভাবে বিদেশে পালিয়ে গেলেন, সে বিষয়ে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি জানতে চান হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পি কে হালদার যেদিন দেশত্যাগ করেন, সেদিন বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরতদের এবং দুদকের দায়িত্বে কে ছিলেন, তাদের তালিকা দাখিল করতে বলেন।

এ ছাড়া মামলার সর্বশেষ অগ্রগতিও জানতে চেয়ে গত বছরের ১৫ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হইকোর্ট বেঞ্চ।

ওই বেঞ্চে নিয়োজিত ডিএজি আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘পি কে হালদারসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশন ডাকযোগে ইমিগ্রেশন পুলিশকে চিঠি দেয়। ওই তালিকার সর্বশেষ ব্যক্তিটি ছিলেন পি কে হালদার। ইমিগ্রেশনের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুদকের ওই চিঠি তারা হাতে পান ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টায়। চিঠি পেয়ে ফাইল পুটআপ দিয়ে সব বন্দরে নিষেধাজ্ঞার আদেশ যখন পৌঁছায়, তখন বাজে বিকাল ৫টা ৪৭ মিনিট। অন্যদিকে ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারির প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই বিকাল ৩টা ৩৮ মিনিটে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পি কে হালদার দেশত্যাগ করেন।’

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএলএফএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। আইএলএফএসএল গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে পি কে হালদারের বিদেশ পালানোর পর ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি দুদক তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে। পরে দুই বিনিয়োগকারীর করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ এক আদেশে প্রশান্ত কুমার হালদারসহ সংশ্লিষ্ট ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এরপর বিদেশে পালিয়ে থাকা পি কে হালদার গত বছরের ২৮ জুন আইএলএফএসএলের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে তার দেশে ফেরার জন্য ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন। হাইকোর্ট তাতে অনুমতি দিলেও পি কে হালদার না ফেরায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ঢাকার একটি আদালত ইতোমধ্যে পি কে হালদারের সব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করারও আদেশ দিয়েছেন।

এরই মধ্যে আজ শনিবার পি কে হালদারসহ ছয়জনকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়। সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইনফর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাদের গ্রেপ্তার করে।