advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ টাকায় কম্পিউটার বিক্রি!

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
১৫ মে ২০২২ ০২:৩৫ পিএম | আপডেট: ১৫ মে ২০২২ ০৩:৩০ পিএম
পুরোনো ছবি
advertisement

কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় একশ পুরাতন কম্পিউটার, ১০-১২টি ফটোকপি মেশিন ও প্রিন্টার, পুরাতন ব্যবহারযোগ্য লোহার পাইপ ইত্যাদি বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ৫০ টাকায় কম্পিউটার বিক্রি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল এস্টেট অফিস প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) টিপু সুলতান ও তার সহযোগী উকিল উদ্দীন ও সাবু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর রুম পরিষ্কারের কথা বলে পুরাতন জিনিসপত্র বিক্রি করেন। বিক্রি করা জিনিসের মধ্যে রয়েছে- কম্পিউটার, মনিটর, লোহার পাইপ, জানালার গ্রিল, ফটোকপি মেশিন, প্রিন্টার ও চারশ কেজি কাগজপত্র। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই এসব জিনিসপত্র বিক্রি করা হয়। প্রতিটি কম্পিউটার ৫০ টাকা এবং সিপিইউ ও অন্যান্য জিনিস ওজনে বিক্রি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অব্যবহৃত পুরাতন জিনিস বা কোনো কিছু বিক্রি করতে হলে উপচার্যের অনুমোদন নিয়ে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। এজন্য ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়াকে নিলাম কমিটির আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি করেন উপাচার্য। তবে কমিটির কেউই এই জিনিস বিক্রি সম্পর্কে অবগত নয় বলে জানা গেছে।

এর আগেও টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা বেশি মূল্যে ক্রয় এবং অফিসের জিনিসপত্র ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তার সহযোগী উকিল উদ্দীন বলেন, ‘আমি শুধু মাপামাপির সময় ছিলাম। পরে চলে আসছি। আমি এসব কিছু জানি না।’

বকুল হোসেন নামের আরেকজন জানান, ‘আমাকে টিপু স্যার হিসাব রাখা এবং মাপ ঠিক আছে কি না এটা দেখার জন্য পাঠিয়েছিল। আমি হিসাবগুলো লিখেছি।’ তিনি প্রতিবেদককে ৪৩টি পুরাতন কম্পিউটার ৫০ টাকা করে, তিনটি বড় লোহার পাইপ (বাইশ থেকে তেইশ কেজি), সিপিইউ (ওজনে) এবং প্রায় ৪৫০ কেজি কাগজ বিক্রির হিসাব দেন।

অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে টিপু সুলতান বলেন, অনুমোদনের বিষয়টা অনেক সময় মেইনটেইন করা হয়। আবার অনেক সময় মৌখিক অনুমোদন নেওয়া হয়। বিক্রিত বেশিরভাগ জিনিসই কাগজে ছিল। রুমটা পরিষ্কার করার দরকার ছিল তাই ট্রেজারার স্যারের মৌখিক অনুমোদন নিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন বলেন, স্টোর রুমের জিনিস বিক্রির বিষয়ে আমাকে জানালে আমি বলেছিলাম, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো জিনিস মুখে মুখে অনুমোদন হয় না। তারা কার অনুমোদন নিয়ে জিনিস বিক্রি করেছে।