advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শ্রীলংকার বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিতে হবে

আবু আলী
১৬ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৬ মে ২০২২ ০৯:০৩ এএম
advertisement

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকা। দেশটি এরই মধ্যে ৫১ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে অপারগতা জানিয়েছে। মহামারীর অভিঘাতে পর্যটন ও রেমিটেন্সে ধস এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি। দেশটিতে দেখা দিয়েছে খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট। নিত্যপণ্যের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি জনগণকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগও জনগণের ক্ষোভ এতটুকু কমাতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে কথা উঠেছে। বিশেষ করে বিএনপি নেতারা বিভিন্ন সভাসমাবেশে বলে আসছেন যে বাংলাদেশের পরিস্থিতিও শ্রীলংকার মতো হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রীলংকা যেসব কারণে বিপর্যয়ে পড়েছে, বাংলাদেশের সেসব কারণ নেই। তবে সব অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের’ (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। গতকাল আমাদের সময়কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে শ্রীলংকার সঙ্গে তুলনা করার মতো পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি। তবে বাংলাদেশকে শ্রীলংকা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। শ্রীলংকা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বের কাছে একটি শিক্ষণীয় দেশে পরিণত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে আমরা যাতে এ রকম কোনো সমস্যায় না পড়ি, সেজন্য এখন থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

advertisement

তিনি বলেন, ‘কোনো সংকটই একদিনে সৃষ্টি হয় না। যে কোনো সংকট আসার অনেক আগেই তার লক্ষণ ফুটে ওঠে। লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হলে বিপর্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব। প্রয়োজন এবং সামর্থ্যরে বেশি সরকারি ব্যয় শ্রীলংকার দীর্ঘদিনের একটা সমস্যা। বাড়তি ব্যয়ের ফলে সৃষ্ট ঋণের চাপ সামাল দিতে গিয়ে দেশটিতে দেউলিয়া পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।’

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘শ্রীলংকা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কাটছাঁটে দ্রুত মনোযোগী হতে হবে। সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও বাড়াতে হবে। এখনই সাবধান না হলে আমাদেরও একই অবস্থা হতে পারে।’ ঋণ ব্যবস্থাপনা নীতিকে শক্তিশালী করা এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে জোর দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘প্রতিবছরই বাজেটের আকার বাড়ছে, কিন্তু বাস্তবায়নে সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়ছে না। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এতে বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি। এজন্য আগের মতো করে চললে সমস্যায় পড়তে হবে। এজন্য রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘কার্ব মার্কেটে ৯০ টাকার ডলার ব্যাংকে ৮৫ টাকা। এটা হতে পারে না। ভর্তুকির লাগাম টানতে না পারলে বড় ধরনের সংকটে পড়তে হবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের মূল্য সমন্বয় করতে না পারলে আগামী অর্থবছরে এখানে ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা শুধু ভর্তুকি হিসেবে দিতে হবে। তাই দ্রুত বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের দাম সমন্বয় করতে হবে।’

জানা গেছে, আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাজেটের ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ- এ তিন খাতে একত্রে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৭ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেটের ২৬ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় ২৭ হাজার ৯১০ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরে এ তিন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ভর্তুকির লাগাম টানতে হবে।

তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয় এনবিআরকে। সেটি অর্জন করতে পারেনি। চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়নি। কিন্তু তারপরও আদায় করতে পারবে না। বড় ধরনের ঘাটতি থাকবে। আগামী অর্থবছরেও এটি পূরণ করতে পারবে না। এটি হতে পারে না। রাজস্ব আহরণে আমরা শ্রীলংকার চেয়ে পিছিয়ে আছি। সেখানে কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে উদ্যোগী হতে হবে। নইলে সংকট সমাধান হবে না।’ 

 

advertisement