advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

টাইগার শোয়েব ও শ্রীলংকার গায়ানের বন্ধুত্বের গল্প

ক্রীড়া প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম থেকে
১৭ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৬ মে ২০২২ ১০:১৪ পিএম
advertisement

সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পাশে হসপিটালিটি বক্সের ওপরের রুফটপে বসে খেলা দেখার সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে। এই রুফটফের মাঝখানে সামনের সারিতেই একসঙ্গে দেখা গেল বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার দুই আইকনিক ফ্যান টাইগার শোয়েব ও গায়ান সেনায়েকেকে। গায়ানের নিজ দেশ শ্রীলংকায় অস্থিরতা চলছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে দ্বীপ দেশটি। এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশে সিরিজ খেলতে এসেছে শ্রীলংকা ক্রিকেট দল। এই অবস্থার মধ্যে শ্রীলংকা থেকে নিজ দেশকে সমর্থন জানাতে এসেছেন গায়ানও। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন থেকেই গ্যালারিতে শ্রীলংকার পতাকা উঁচিয়ে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন এই লংকান।

নানা সমস্যায় জর্জরিত শ্রীলংকা। এ সময় লংকান ক্রিকেটের সেরা ভক্ত পরিবার ফেলে নিজ দেশের ক্রিকেটকে সমর্থন জানাতে বাংলাদেশে এসেছেন গায়ান। ক্রিকেট তার কাছে এক আবেগের নাম। যেখানে শ্রীলংকা দল খেলতে যায়, সেখানে গ্যালারিতে পতাকা হাতে হাজির হন তিনি। গতকাল চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন চা বিরতির সময় গায়ান জানালেন, আমি সপ্তমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছি। টাইগার শোয়েব তার ভালো বন্ধু। রায়ান বাংলাদেশে এলে কিংবা শোয়েব শ্রীলংকায় গেলে দুজন দুজনকে নানা ভাবে সহযোগিতা করেন। দুজনের মধ্যে রসায়নটা বেশ ভালো। শোয়েবও বললেন একই কথা। দুজনের পরিচয় হয় ২০১২ সালে শ্রীলংকা, যেবার মুশফিক ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন, ওই টেস্ট ম্যাচে। এর পর থেকে সম্পর্ক গাঢ় হয় তাদের। এর পর থেকেই গ্যালারিতে একসঙ্গে থাকেন তারা। চলমান টেস্টে আপনার প্রত্যাশা কী? গায়ান বলেন, ‘টেস্ট ড্র হবে- এমনটাই চাই।’ এ সময় শোয়েব মজা করে বললেন, ‘ঢাকায় কিন্তু আমরা তোমাদের হারিয়ে দেব।’

দলের ফল যা-ই হোক- গায়ানকে বাংলাদেশে আসার সুবিধা করে দিয়েছে ডিবিএল নামে শ্রীলংকান কোম্পানি। তাকে টিকিট কেটে দিয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানটি। চট্টগ্রামে এসে উঠেছেন এক বন্ধুর বাসায়। রায়ান বলেন, ‘এখানে আমার অনেক বন্ধু রয়েছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ গার্মেন্টস কোম্পানিতে কাজ করেন।’ এদিন শোয়েব ও গায়ানের পাশে দেখা গেল ১০-১২ জনের শ্রীলংকান সমর্থকের একটি দল। তারা প্রত্যেকেই গার্মেন্টস কোম্পানিতে চাকরি করছেন। এই সমর্থক দলের প্রাণ হলেন গায়ান সেনানায়েকে। শ্রীলংকান সমর্থকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, তাদের দেশে অস্থির অবস্থা চললেও ক্রিকেটকে অনেক ভালোবাসেন তারা। ক্রিকেটের টানে দেশকে সমর্থন জানাতে সাগরিকার মাঠে ছুটে এসেছেন। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে অনেক শ্রীলংকান কাজ করছেন। অনেক লংকান ছাত্র রয়েছেন। চট্টগ্রামেও অনেক লংকান আছেন। তাদের সহযোগিতা পাচ্ছেন গায়ান। বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গেও সখ্য রয়েছে তার। চট্টগ্রামের মাঠে এসে মুশফিকের সঙ্গে ‘হাই-হ্যালো’ হয়েছে। সাকিব, মুমিনুলদের সঙ্গে পরিচয় রয়েছে। টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গেও পরিচয় রয়েছে বলে নিজেই জানালেন গায়ান। ম্যাথুস ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করবে- এমন আশায় ছিলেন তিনি; কিন্তু মাত্র এক রানের জন্য ম্যাথুসকে ডাবল সেঞ্চুরি পেতে দেননি নাইম।

অন্যদিকে সুন্দরবন থেকে ৫৫০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে চট্টগ্রামে এসে নিজ দলকে সমর্থন জানাতে এসেছেন টাইগার শোয়েব। লাল-সবুজের পতাকা হাতে দলকে সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছেন দেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এই ভক্ত।