advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তদন্তে সম্পূর্ণ নির্দোষ টিটিই শফিকুল

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
১৭ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৭ মে ২০২২ ০১:১৩ এএম
advertisement

রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আকতার মনির ফোনে বরখাস্ত হওয়া ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম সম্পূর্ণ নির্দোষ। দোষ মিলেছে গার্ড শরিফুলের। এ জন্য তার শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

advertisement

এ ঘটনায় হওয়া তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য

জানান পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম। তবে বরখাস্ত করতে মন্ত্রীর স্ত্রীর চাপ এবং অভিযোগ যাচাই না করে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া কর্মকর্তার ব্যাপারে তদন্তই করেনি কমিটি। ঘটনার সব দায় ১৩ গ্রেডের কর্মচারী গার্ড শরিফুল ইসলামের বলে প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত কমিটি। এতে করে সব দোষ কর্মচারী গার্ডের ওপর চাপিয়ে কর্মকর্তার কোনো দোষ উল্লেখ করা হয়নি।

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, কমিটি শুধু ট্রেনের ভেতর যা ঘটেছে তার তদন্ত করেছে। টিটিই শফিকুলের দোষ মেলেনি। ট্রেনের গার্ড শরিফুল মন্ত্রীর আত্মীয় যাত্রীদের উসকানি দিয়েছিলেন অভিযোগ করতে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে কমিটি। গতকাল সোমবার সকালে পশ্চিম অঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন তিনি।

এদিকে গার্ড শরিফুল জানিয়েছেন, ৪ মে রাতে খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে সুন্দরবন এক্সপ্রেস। মন্ত্রীর স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একজন নারী তাকে ফোন করেন। তার কয়েকজন আত্মীয় যাবেন বলে জানান। তার কিছুক্ষণ পর সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (এসিও) নুরুল আলম টেলিফোনে তাকে জানান মন্ত্রীর তিনজন আত্মীয় ঈশ্বরদী থেকে ঢাকায় যাবেন। এসি সিøপারে (এসি কেবিন) তাদের বসিয়ে দিতে বলেন এসিও। ক বগির ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর বার্থ ফাঁকা ছিল। ঈশ্বরদীতে ট্রেন পৌঁছালে মন্ত্রীর স্ত্রীর আত্মীয়রা তাকে ফোন করেন। তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে নিয়ে কেবিনে বসিয়ে দেন।

শরিফুল আরও জানান, আত্মীয়দের জরিমানা করায় মন্ত্রীর স্ত্রী পরিচয় দেওয়া নারী তাকে ফোন করেন। তখন তিনি খুবই রাগান্বিত ছিলেন। শফিফুল বলেন, ‘আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। মন্ত্রীর স্ত্রীর মতো বড় মানুষের সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থা তো আমার মতো কর্মচারীর নেই। উনি ক্ষেপে আছেন, বুঝে আমি ভয়ে কোনো কথা বলিনি। আমি শুধু স্যারদের জানাতে বলেছিলাম।’

রেল সূত্রমতে, টিটিই শফিকুলকে বরখাস্ত করতে মন্ত্রীর স্ত্রী ফোনে চাপ দেওয়ার পর ডিসিও নাসির উদ্দিন বিষয়টি ডিআরএম শাহিদুল ইসলাম এবং পশ্চিমাঞ্চলের জিএম অসীম কুমার তালুকদারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তাদের মৌখিক সম্মতির পর শফিকুলকে বরখাস্ত করেন ডিসিও নাসির। এখন ওই ঘটনায় নাসির, মন্ত্রী স্ত্রী কিংবা কর্মকর্তাদের দায় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। শুধু গার্ড শরিফুলের দোষ খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গতকাল ডিআরএম শাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তদন্তে টিটিই শফিকুল সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে। যাত্রীদের সঙ্গে তার অসদাচরণের বিষয়টিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত কমিটি আরও তথ্য পেয়েছে গার্ড শরিফুল বিনা টিকিটের যাত্রীদের সহযোগিতা করে টিটিই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করিয়েছেন। এ ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে গার্ড শরিফুলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। 

রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর ফোনে টিটিই শফিকুল ইসলামকে বরখাস্তের ব্যাপারে ডিআরএম বলেন, রেলমন্ত্রীর স্ত্রী রেলওয়ের কোনো কর্মকর্তা নন, তার কথায় টিটিই শফিকুল ইসলামকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিনের। এ ব্যাপারে তাকে শোকজ করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (আজ) জবাব দেওয়ার শেষ দিন।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর টিটিই শফিকুল ইসলাম তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আমি কোনো অপরাধ করিনি। সত্যের জয় হয়েছে। আল্ল­াহ তাআলার দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া। আমি অন্যায় করিনি কিংবা কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করিনি। আমি সবাইকে বলতে চাই- সত্য, ন্যায় আর নৈতিক শক্তি পৃথিবীর সব থেকে বড়। সঠিক তদন্তের জন্য তদন্ত কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের আগেই কার নির্দেশে ডিসিও নাসির টিটিই শফিকুলকে বরখাস্ত করেছিলেন- এ প্রশ্নে তদন্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি তদন্তের আওতার মধ্যে ছিল না। কমিটি শুধু দেখেছে টিটিই যাত্রীদের কাছে ঘুষ চেয়েছিল কিনা? দুর্ব্যবহার করেছিল কিনা? ঘুষ ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’ মিথ্যা অভিযোগ করায় মন্ত্রীর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে গার্ড শরিফুলকে শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ কেন করা হয়েছে- এ প্রশ্নে সাজেদুল ইসলাম বলেছেন, ‘কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছেই। যা বোঝেন।’

advertisement