advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

খাদ্যপণ্যের মূল্যে প্রভাব ফেলছে ইউক্রেন যুদ্ধ

সংলাপ অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী ।। পেঁয়াজ নিয়ে চিন্তার কারণ নেই ॥ বিকল্প ৫ উৎস থেকে গম আমদানির চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৭ মে ২০২২ ০৯:৫১ এএম
advertisement

নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ নয়, স্থিতিশীল রাখতে চান বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ তিনি এসব কথা বলেন। বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের উপস্থাপনায় সংলাপ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি তপন বিশ্বাস। ভোজ্যতেলের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রচুর ব্যবসায়ীকে আমরা ধরছি। সেটি ধরে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করছে ভোক্তা অধিকার। সেখানে অনেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে এবং জেলেও পাঠানো হয়েছে। তবে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাই না, যেন বাজার অস্থিতিশীল হয়। রমজান মাসটা সংযমের। ব্যবসায়ীরা জানে ঈদের পর দাম বাড়বে তারা সেই সুযোগ নিয়েছে। তবে আমাদের ভুল হয়েছে টানা দুই মাস তেলের দামটা নির্ধারণ করিনি, যদি করতাম তা হলে তারা সুযোগটা নিতে পারত না। এ সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামটা বেড়েছিল, তাই সেটি আগে ফিক্স করলে সমস্যাটা হতো না। ব্যবসায়ীরা সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে

কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত না। আমরা ব্যবসায়ীবান্ধব। আমরা আন্তর্জাতিক বাজারের দাম অনুযায়ী দাম ফিক্সআপ করে দিই। সে অনুযায়ী বাজারে দামটা থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না, বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাই।

advertisement

পেঁয়াজের বিষয়ে তিনি বলেন, পেঁয়াজের আইপি বন্ধ করে কৃষি মন্ত্রণালয়। কৃষকরা যাতে দাম পায় সেটি দেখতে হবে। আমরা দেখছি কৃষকরা যাতে অন্তত ২৫ টাকা পায়। বাকি ট্রান্সপোর্টসহ অন্য খরচ মিলে ঢাকার মানুষ ৪৫ টাকায় যাতে খেতে পারে। কৃষকরা যাতে দাম পায় এবং ভোক্তারাও যাতে কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পারে সেটি আমরা দেখছি।

বর্ডার হাট সম্পর্কে তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে কথা বলেছিলাম এ বিষয় নিয়ে। আশা করছি তিন চারটি প্রোপাজাল দেবেন। মিজুরামে গিয়েও আলোচনা হয়েছে। ছোট রাজ্য হলেও তারা এটি খুব পজিটিভলি দেখছে। একটা সাজেকের কাছাকাছি আরেকটি ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এটি নিয়ে দ্রুত দেখতে। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অনেকটা প্রভাব ফেলেছে আমাদের খাদ্য পণ্যের ওপর। সেজন্য সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। সামনের দিকে কিছুটা সংকট রয়েছে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আশপাশের শ্রীলংকার অবস্থা দেখে অনেকে প্রচার করছে সে অবস্থা হতে পারে। সে রকম কোনো আশঙ্কা নেই। আমরা নিজেরাই শ্রীলংকাকে ঋণ দিয়েছি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এক কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দিয়েছি দুবার। আমাদের মাথায় আছে এক কোটি মানুষকে দেওয়া রেগুলার করব। ১৫-১৬ তারিখ থেকে যেটা দিতে চেয়েছিলাম, সেটা কিন্তু এক কোটি মানুষকে নয়, ট্রাকে করে ঢাকা-চট্টগ্রাম এমন শহরগুলোতে।

‘প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে বলেছেন শহরের এই মানুষগুলোকে দেওয়া হচ্ছে, গ্রামের মানুষকে তো দেওয়া হচ্ছে না। তোমরা একটু সময় নিয়ে ঢাকাতে আমরা দেব...’ বলেন টিপু মুনশি।

এর আগে টিসিবি থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ১৬ মে থেকে খোলাবাজারে ১১০ টাকা লিটার সয়াবিন তেলসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি শুরু করা হবে। তবে রবিবার রাতে হুট করেই সেই কার্যক্রম স্থগিত করে বিজ্ঞপ্তি দেয় সংস্থাটি।

সংস্থাটি বলছে, রাজধানীতেও এখন শুধু ফ্যামিলি কার্ডে পণ্য দেওয়া হবে। খোলাবাজারে ট্রাকে করে আর পণ্য বিক্রি হবে না। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে সোমবার (১৬ মে) থেকে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি স্থগিত করা হয়েছে।

 

advertisement