advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নাগরিক প্ল্যাটফরমের ব্রিফিং
মূল্যস্ফীতি হতে পারে ১২ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৭ মে ২০২২ ০১:১৪ এএম
advertisement

সরকার ৬.২২ শতাংশের যে মূল্যস্ফীতির কথা বলছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার আদৌ মিল নেই। এমনকি এ তথ্য বিজ্ঞানসম্মতও নয়। মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশ হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয় বলে আমাদের ধারণা। আগামী দিনে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, জাতীয় বাজেট ও অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন। সভাপতিত্ব করেন সিপিডির আরেক বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের পরিবেশ, জলবায়ু ও সবুজ অর্থনীতিবিষয়ক কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রুমানা হকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

advertisement

ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘সরকার মূল্যস্ফীতির কথা ছয় শতাংশের ওপরে বলে, যেটি বাস্তবতার সঙ্গে আদৌ মেলে না। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার অনেক বেশি। যেমন- ভোজ্য ও পাম তেলের দাম বেড়েছে ৬১ শতাংশের ওপরে। আটা-ময়দার

মতো পণ্যের দামও বেড়েছে ৫৮ শতাংশ। তবে মোটা চালের দাম বাড়েনি।

কিন্তু মাঝারি বা সুগন্ধি চালের দাম অনেক বেড়েছে। সার্বিকভাবে তেল, ডাল, ডিম, মুরগি ও মাছসহ ইত্যাদি পণ্যের দাম বাড়ার যে হার দিচ্ছে টিসিবি, তা বিবিএসের দেওয়া তালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গেও মিলে না। বিবিএস যে মুদ্রাস্ফীতির তথ্য দিচ্ছে তা বাস্তবসম্মত নয়, এমনকি বিজ্ঞানসম্মতও নয়। আমাদের ধারণা, মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। আগামী দিনে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। বিশ্ববাজারে যেসব পণ্যের দাম বেড়েছে, সেসব পণ্য এখনো দেশের বাজারে আসেনি। সেগুলো যখন আসবে, তখন নিত্যপণ্যের দাম আরেক দফা বাড়বে।

অর্থনীতির তিনটি বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, অন্যদিকে টাকার মূল্যমান কমে যাচ্ছে। যে কোনো অর্থনীতির ভেতরে সুদের হার, বিনিময় হার ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। যে প্রত্যাশায় সুদের হার কম রাখা হচ্ছে, সেই বিনিয়োগ গত কয়েক বছরে বেড়েছে এমন কোনো তথ্য নেই। সুদের হার কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো যাবে এমন সূত্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন টাকার আমানতে গড় সুদের হার ৪.৪ শতাংশ। কিন্তু মূল্যস্ফীতি ৬.২২ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকে টাকা রাখলে প্রতিবছর প্রকৃত মূল্য দুই শতাংশ করে কমে যাবে। এটা বড় ধরনের সঞ্চয়বিরোধী। আগামীতে টাকার মান অবশ্যই নিম্নমুখী হবে। তাই অবশ্যই বাড়াতে হবে সুদের হার। সামষ্টিক অর্থনীতিকে ধরে রাখতে মূল্যস্ফীতিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে গরিব, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ তাদের আয় পণ্যমূল্যের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে না।’

সামষ্টিক অর্থনীতির ভিতরে বড় ধরনের টানাপড়েন দেখা দিয়েছে মন্তব্য করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘বিগত বছরে আমাদের আর্থিক যে আয়-ব্যয়ের হিসাব রয়েছে, তা সবসময়ই দুর্বল ছিল। দুর্বলতার লক্ষণ হচ্ছে আমাদের গড় জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশের ওপরে ওঠেনি। একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয়ের চেয়ে পরিচালন ব্যয় অনেক বেশি। দেশে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা হলো- একদিকে অর্থের অভাব, অন্যদিকে সম্পদ থাকলেও তা যথাপযুক্তভাবে খরচ করতে না পারা।’

বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ কমে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে দ্রব্যমূল্য যদি আরও বাড়তে থাকে, তা হলে আমাদের রিজার্ভে বড় ধরনের টান পড়বে। অন্যদিকে বাজার স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার ছাড়ার সক্ষমতা থাকছে না। এর ফলে টাকার পতনের ধারা অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে টাকা ও ডলারের বিনিময় হারে বড় ধরনের পার্থক্য হয়ে গেছে। সাম্প্রতিককালে সরকার পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়াতে চাচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো অনুচিত। গরিব, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের সঞ্চয় কমে যাচ্ছে। এ কারণে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা করা উচিত।’ প্রান্তিক ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ প্রণোদনা এবং সুরক্ষা ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন তিনি।

advertisement