advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাজবাড়ীতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আইনজীবীর পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা

সোহেল রানা রাজবাড়ী
১৭ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৭ মে ২০২২ ০১:১৪ এএম
advertisement

ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার কাজী জহুরুল আলম শেলীর রাজবাড়ীর পৈতৃক জমি জবরদখলের অপচেষ্টা চলছে। স্থানীয় একটি মহল পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে ওই জমি বেদখল করার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে।

advertisement

জানা গেছে, স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে দেশের উচ্চ আদালতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কর্মরত ব্যারিস্টার কাজী জহুরুল আলম শেলীর পরিবার বংশানুক্রমিকভাবে রাজবাড়ী শহরের কাজীকান্দা এলাকার পৈতৃক আবাদি জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। ২০০৫ সালে প্রতিবেশী কাজী মমিন উদ্দিন ওরফে হারুন কাজী কথিত প্রজাস্বত্ব মালিকানা হিসেবে দাবি করে ওই জমি নিয়ে রাজবাড়ীর সদর সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেন। মালিকানা প্রমাণিত না হওয়ায় ২০১২ সালে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। এর পর মহামান্য হাইকোর্টে এ নিয়ে একটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানালে আদালত ওই আবেদনও নামঞ্জুর করেন। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, কাজীকান্দা মৌজার এসএ ১৩১নং খতিয়ানভুক্ত

বিএস ২১৯, ২২০ ও ২৯৯নং খতিয়ানের ৪টি দাগে মোট ১ একর ৪ শতাংশ জমি এবং আরএস ৩৪১ নং বিএস ৯৬৩নং দাগে ৮৫ শতাংশসহ প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের ১ একর ৮৯ শতাংশ জমি নিজেদের মালিকানার দাবিতে স্থানীয় একটি মহল ওই জমিতে জোরপূর্বক সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছেন।

প্রয়াত ব্যারিস্টার কাজী জহুরুল আলম শেলীর ২ ছেলে ও ১ মেয়ে প্রবাসে বসবাস করেন দীর্ঘদিন। অন্য নিকট আত্মীয়স্বজনও উচ্চশিক্ষা শেষে বিদেশে কর্মরত। এ সুযোগে ওই মহলটি জমি বেহাত করার অপচেষ্টা শুরু করে।

এদিকে ব্যারিস্টার কাজী জহুরুল আলমের পারিবারিক জমির বিষয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় তার ভাগ্নে ফরিদপুরের বাসিন্দা সৈয়দ গোলাম আব্বাস গত ২৮ মার্চ রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা একটি করেন। মামলায় রাজবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কমিশনার কাজী মাহতাব উদ্দিন তৌহিদ, চাচাতো ভাই কাজী মমিন উদ্দিন ওরফে হারুন কাজী, ভাই আফজাল উদ্দিন ওরফে সুফি কাজী, কাজী আহসান উদ্দিন শহীদ, কাজী সোহেল, ভাতিজা কাজী জামিল, কাজী সাজিদ, কাজী সাব্বিরকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য রাজবাড়ী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ নালিশি জমির বিষয়ে বিবাদী পক্ষকে নোটিশ প্রদানের পরও তারা কাজী জহুরুল আলমের পৈতৃক ভিটাসহ জমি দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

ব্যারিস্টার কাজী জহুরুল আলম শেলীর ওয়ারিশি জমি দেখাশোনা করার দায়িত্বে নিয়োজিত গোলাম রসুল রাসেল বলেন, বেদখলের চেষ্টাকারীরা যে মালিকানার দাবি করছে তা সম্পূর্ণ ভুয়া। তাদের মালিকানা সম্পর্কিত আইনগত কোনো কাগজপত্র নেই। আইনগতভাবে না পেরে তারা পেশিশক্তির জোরে ব্যারিস্টার শেলীর সম্পত্তি বেদখলের অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

ব্যারিস্টার কাজী জহুরুল আলম শেলীর ছেলে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আরিফ আলম শিরিশ বলেন, আমার বাবা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎবরণের পর তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের প্রলোভন উপেক্ষা করে পদত্যাগ করেন। আমরা ভাইবোনেরা প্রবাসে থাকার সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রটি জোর করে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি বেদখলের অপচেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ ও তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ ব্যাপারে রাজবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কমিশনার কাজী মাহতাব উদ্দিন তৌহিদ বলেন, জমিদারিপ্রথা সূত্রে ওই জমির ৭৫ শতাংশ অংশের মালিক আমরা। ২৫ শতাংশ জমির মালিক কাজী জহুরুল আলম শেলী। পুরো সম্পত্তি তার নামে রেকর্ড হওয়ার কারণে আমাদের পক্ষে কাজী মোমিন উদ্দিন (হারুন), কাজী আবু আশরাফ ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি হাইকোর্টে আবেদন করলে বিচারাধীন ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। রায়ে যদি আমরা পাই তাহলে দখল করব। ওই জমি যাতে বিক্রি করতে না পারে সে কারণে জমিতে মামলার সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। আমরা কাউকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছি না। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে।

advertisement