advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দেশে ফিরেছিলাম মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে

এনইসি সভায় প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৮ মে ২০২২ ১২:৫২ এএম
advertisement

দেশের জনগণের মুখে হাসি ফোটানোর একটিমাত্র লক্ষ্য নিয়েই নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফিরেছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আমি দেশে ফিরেছিলাম। কারণ, এটি আমার বাবার স্বপ্ন ছিল। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি

advertisement

যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

১৯৮১ সালের ১৭ মে নির্বাসিত জীবন থেকে ফিরে আসার কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, যখন আমি বিমানবন্দরে অবতরণ করি, নিকটাত্মীয়দের কাউকে পাইনি, কিন্তু লাখো মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এটিই আমার একমাত্র শক্তি এবং এই শক্তি নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ নির্মমভাবে নিহত হন। এ সময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় বেঁচে যান। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপরই ৬ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটাতে বাধ্য হওয়া শেখ হাসিনা সে সময়কার সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এক রকম জোর করেই ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন।

টাকা ব্যয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান

এই মুহূর্তে দেশের জন্য যেটি দরকার সেই প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে টাকা ও সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি মন্ত্রণালয় এবং বিভাগগুলোকে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেন। করোনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ^ব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং দেশে দেশে মুদ্রাস্ফীতি ও খাদ্য সংকটের প্রসঙ্গ টেনে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশবাসীকে মিতব্যয়ী হওয়ারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার পত্রিকা পড়ে নয়; বরং দেশের মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে এবং তাদের প্রয়োজন অনুভব করে দেশের উন্নয়নে নানামুখী সিদ্ধান্ত নিয়ে এতদিন দেশ পরিচালনা করেছে এবং সেটাই অব্যাহত রাখতে চায়। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে কোথায় কী লেখা হলো না হলো তা নিয়ে চিন্তা না করে নিজের আত্মবিশ^াস নিয়ে চলার আহ্বান জানান।

করোনা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ উন্নত ও অনুন্নত দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে এবং দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে সভায় সরকারপ্রধান বলেন, ইউরোপের অনেক দেশ আছে যেখানে ১৭ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। জার্মানির মতো জায়গায় ভোজ্যতেলের অভাব। একমাত্র অলিভ ওয়েল ছাড়া কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। ইংল্যান্ডের মতো জায়গায় তেল নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে, এক লিটারের বেশি কেউ নিতে পারবে না। আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি ৮ ভাগের ওপরে উঠে গেছে, ১০ ভাগে উঠে যাবে। ১ ডলারের ডিজেল-পেট্রোলের দাম ৪ ডলারে উঠে গেছে।

তিনি বলেন, আমদানিনির্ভর এসব পণ্যের প্রভাব অর্থনীতিতে পড়বেই। কারণ, উৎপাদন যেমন হ্রাস পেয়েছে তেমনি শিপমেন্ট ব্যয় বেড়ে গেছে। এ কারণে দেশের ভেতর একটু মূল্যস্ফীতি বা জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে।

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে ‘অহেতুক অধিক অর্থ ব্যয় হয়েছে’ এমন সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, পিপিপির ভিত্তিতে পরিবেশবান্ধবভাবে তৈরি এই অত্যাধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ আমাদের অর্থনীতির ভিত যে কতটা মজবুত করবে তা তারা চিন্তা করেন না। এ সময় পদ্মা সেতুতে রেললাইন রাখা এবং অর্থ ব্যয় নিয়ে সমালোচনার জবাবে নানা পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

advertisement