advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বক্তারা
বাংলাদেশে অসাধ্য সাধন বঙ্গবন্ধুকন্যার কারণে

পদ্মা সেতুর নাম শেখ হাসিনার নামে করার দাবি

১৮ মে ২০২২ ০৫:৫৪ এএম
আপডেট: ১৮ মে ২০২২ ০৫:৫৪ এএম
advertisement


অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরার কারণেই বাংলাদেশে অসাধ্য সাধন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলটির আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা দেশে এসেছেন বলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পাপমোচন সম্ভব হয়েছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে অসাধ্য সাধন করেছেন। সামনের দিনগুলোতে সব প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের মানুষ তার সঙ্গে আছে, থাকবে। গত ৪৭ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসক, সফল কূটনীতিক ও সৎ এবং জনপ্রিয় নেতার নাম শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের পদ্মা সেতুর নামকরণের বিষয়ে নেতাকর্মীদের কাছে জানতে
চাইলে তারা সমস্বরে ‘শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু’ করার দাবি তোলেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নাম ছাড়া পদ্মা সেতু- তাকে অসম্মান করা হয়। কিন্তু তিনি চান না। শেখ রেহানাও চান না। তারা বলেন, পদ্মা সেতু পদ্মার নামেই হোক। আপনারা কি মানেন? এ সময় নেতাকর্মীরা হাত নাড়িয়ে ‘না’ বলেন। নেতাকর্মীদের ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি নেত্রীকে জানিয়ে দেব। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, দিনক্ষণ ঠিক করার জন্য সারসংক্ষেপ যাচ্ছে নেত্রীর কাছে, তিনি তারিখ দেবেন যখন, তখনই উদ্বোধন হবে। তবে এ কথা ঠিক জুন মাসেই উদ্বোধন হবে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ রেহানা আছেন, তাকেও আমরা বলেছি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকার জন্য।
পদ্মা সেতুর শুরুর কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশ্বব্যাংক আমাদের চোর অপবাদ দিয়ে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করা থেকে সরে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে- শেখ রেহানা, জয়, ববি, সবার বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। সেদিন শেখ হাসিনা না থাকলে পদ্মা সেতু করার সাহস হতো না।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাহজান খান, আবদুুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ আজ শান্তির দেশ, সমৃদ্ধির দেশ। অতীতেও আমরা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেছি। আগামী দিনেও সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেই দেশকে এগিয়ে নেব। তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে সুন্দর সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন।
গতকাল সারাদেশে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শেখ হাসিনার কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করা হয়। এছাড়া আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপন করে।

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক জানান, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গতকাল দুপুরে একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলা একাডেমি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব আবুল মনসুর। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও একাডেমির সচিব এএইচএম লোকমান। সঞ্চালনা করেন একাডেমির উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) সায়েরা হাবীব।