advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নেই তারা আজ কোনো খবরে

শিমুল আহমেদ
২৬ মে ২০২২ ০৬:০৮ পিএম | আপডেট: ২৬ মে ২০২২ ০৬:৪০ পিএম
চিত্রনাায়িকা শাবানা, অঞ্জু ঘোষ (উপরের বাঁ থেকে), তামান্না, রিচি সোলায়মান, মোনালিসা, কানিজ সুবর্ণা ও তিশমা। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

পর্দা কাপানো এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিংবা শ্রোতাপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীরা এখন অনেকেই হারিয়ে গেছেন শোবিজ অঙ্গন থেকে। তাদের খবর মাঝে মধ্যে মিললেও অভিনয় বা গানে তেমনটা দেখা যায় না।

আবার এমন অনেক তারকাশিল্পী রয়েছেন, যাদের খবরও পাওয়া যাচ্ছে না বহু বছর। তাদের মধ্যে কেউ দেশে আছেন, কেউ পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। শোবিজের এমন কয়েকজন তারকা নিয়ে আজকের আয়োজন।

শুরুটা হোক সিনেমার জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানাকে নিয়ে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী শাবানা। সাবলীল অভিনয়ের কারণে অল্প সময়ে দর্শকদের মন জয় করে নেন তিনি। ১৯৬৭ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘চকোরী’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে তার আগমন। তবে তার প্রথম অভিনয় ১৯৬২ সালে ‘নতুন সুর’ সিনেমায় ছোট্ট মেয়ের চরিত্রে।

সর্বাধিক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করা এই অভিনেত্রী ১৯৯৭ সালে হঠাৎ করেই সিনেমা অঙ্গন থেকে বিদায় নেন। ২০০০ সাল থেকে তিনি সপরিবারে আমেরিকার নিউজার্সিতে বসবাস করছেন। সেখানেই স্থায়ী ঠিকানা গড়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেত্রী। মাঝে মধ্যে দেশে আসেন ঘুরতে। তবে অভিনয়কে পুরোপুরি বিদায় জানিয়েছেন শাবানা।

আশির দশকের পর্দা কাপানো আরেক অভিনেত্রী অঞ্জু ঘোষ। সিনেমায় আগমনের আগে তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন মঞ্চে অভিনেত্রী হিসেবে বেশ পরিচিত পান। ১৯৮২ সালে এফ কবীর চৌধুরী পরিচালিত ‘সওদাগর’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি পর্দায় তার অভিষেক। প্রথম সিনেমা দিয়েই রাতারাতি তারকা বনে যান। তার অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ ব্যবসাসফল সিনেমার সব রেকর্ড ভেঙে দেয়। কিন্তু অজানা কারণে ১৯৯৮ সালে দাপুটে এই অভিনেত্রী দেশ ছেড়ে চলে যান কলকাতায়। শুরুতে সেখানেই অভিনয়ে নিয়মিত হন তিনি। ২০১৮ সালে দেশে আগমন ঘটে তার। ইচ্ছে প্রকাশ করেন সাঈদুর রহমান সাঈদের সিনেমা ‘মধুর ক্যান্টিন’-এ অভিনয়ের। কিছুদিন কাজ করার পর সিনেমার শুটিং অসম্পূর্ণ রেখেই চলে যান কলকাতায়। 

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তামান্না। আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় স্টারশিপের একটি বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে ১৯৯৫ সালে শোবিজে তার পথচলা শুরু। ছোট পর্দা দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও নাম লেখান সিনেমায়। তার প্রথম অভিনয় সাইফুল আজম কাশেম পরিচালিত ‘ত্যাজ্যপুত্র’। এই সিনেমার শুটিং চলাকালেই কাজ করেন শহিদুল ইসলাম খোকনের ‘ভন্ড’তে। কিন্তু ২০০৩ সালে সুইডেন পাড়ি জমান এই অভিনেত্রী। তার অভিনীত শেষ সিনেমা মঈন বিশ্বাসের ‘পাগল তোর জন্য রে’। সেটি মুক্তি যায় ২০১৩ সালে।

এখন স্বামীকে নিয়ে স্থায়ীভাবে সুইডেনের স্টোকহোমে বসবাস করছেন তিনি। কয়েক দিন আগে নতুন বিয়ে নিয়ে খবরের শিরোনামে আসেন এই অভিনেত্রী। গুজরাটি বংশোদ্ভূত সুইডিশ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ দাহইয়ার সঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন তিনি।

শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৮৯ সালে অভিনয়ের ভূবনে পা দেন এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান। তার প্রথম অভিনয় ‘ইতি আমার বোন’ নাটকে। বড় হওয়ার পর ১৯৯৮ সালে টনি ডায়েসের বিপরীতে ‘বেলা অবেলা’য় প্রথম অভিনয় করেন তিনি। একুশে টিভিতে আহির আলমের ‘প্রেত’ নাটকে অভিনয় করে সবার নজর কাড়েন রিচি। এরপর শুরু হয় শুধুই এগিয়ে চলা।

২০০৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাশেকুর রহমান মালিকের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন এই অভিনেত্রী। এরপরই স্বামীর সঙ্গে নিউইয়র্কের স্থায়ী বসবাস শুরু করেন রিচি। মাঝে ছুটিতে ঢাকায় আসলে অনুরোধে দু-একটি কাজ করেন রিচি। সবশেষ গত বছর দেশে এসে কাজ করেন চয়নিকা চৌধুরীর ‘মন কেমনের দিন’ ও ‘জলতরঙ্গ’ নাটকে।

২০০০ সালে মিস ফটোজনিক খেতাব নিয়ে মিডিয়ায় পা রাখেন জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী মোনালিসা। পুরো নাম মোজেজা আশরাফ মোনালিসা। তবে শোবিজে তার পদচারণা শুরু হয় ১০ বছর বয়সে নাচ ও মডেলিং দিয়ে। এরপর তারিক আনাম খানের নির্দেশনায় একটি কসমেটিক্সের বিজ্ঞাপন দিয়ে সবার নজর কাড়েন এই অভিনেত্রী। শুরু হয় টিভি নাটকের পথচলা, একুশ বছর বয়সে তিনি অভিনয় করেন ‘কাগজের ফুল’ নাটকে। পরে হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘তৃষ্ণা’ নাটকে অভিনয় করেন।

২০১৩ সালের ১৪ জুন শেষের ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যান মোনালিসা। যাওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরই হুট করেই সেখানে বাগদান হয় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নারায়ণগঞ্জের ছেলে ফাইয়াজ শরীফের সঙ্গে। এরপর দেশে ফিরে বিয়ের মহা জমকালো আয়োজন কুর্মিটোলা আর্মি গলফ ক্লাবে। ১২.১২.১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় মোনালিসার বিয়ে। দুই বছরের মধ্যেই তাদের  বিচ্ছেদ হয়। এই তারকা এখন থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্সে। দেশে এলে অনুরোধে কাজ করেন, তা-ও হাতেগোনা।

সংগীতের জনপ্রিয় তারকাশিল্পীদের একজন কানিজ সুবর্ণা। এক সময় গানের ভূবনে দাপিয়ে বেড়ানোর তালিকায় শীর্ষে ছিলেন এই গায়িকা। স্টাইল, পারফরমেন্সের দিক দিয়েও অন্যরকম ছাপ রেখেছিলেন তিনি। স্টেজ, অডিও ও মিউজিক ভিডিও দিয়ে মাতিয়ে রেখেছিলেন শ্রোতা-দর্শকদের। তার পথ ধরে বেশ কিছু পপ তারকার আবির্ভাব ঘটে সংগীতের ভুবনে। কানিজ সুবর্ণাকে পপ ঘরানার গানে নারী শিল্পীদের পথ প্রদর্শকও বলা চলে। তবে মাইলস ব্যান্ডের দলনেতা হামিন আহমেদের সঙ্গে বিয়ের পর থেকে অনেকটাই অনিয়মিত হয়ে পরেন কানিজ।

আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার মধ্যেই ২০০৬ সালে ঘর-সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরেন তিনি। এ পর্যন্ত পাঁচটি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন তিনি। তার সবশেষ অ্যালবাম ‘সোনার কাঠি, রুপার কাঠি’। সম্প্রতি এই গায়িকা খবরে এসেছেন। তবে গানে নয়, এসেছেন সিনেমার অভিনয় নিয়ে। নব্বই দশকে জনপ্রিয় এই পপগায়িকা অভিনয় করছেন জাহিদ হোসেন পরিচালিত ‘সুবর্ণ ভূমি’ শিরোনামের একটি সিনেমায়। এরই মধ্যেই ঢাকার অদূরে পূবাইলে এর দৃশ্যধারণে অংশ নিয়েছেন তিনি।

সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে গণমাধ্যমকে কানিজ সুবর্ণা বলেন, ‘আমার দুজন সন্তান আছে। ওদের লালন-পালনে যথেষ্ট সময় দিতে হয়। আসলে পরিবারে সময় দিতে গিয়ে গান-বাজনা থেকে অনেকটা অনিয়মিত হয়ে পড়েছি। তবে আশা করছি, খুব শিগগিরই নতুন গান নিয়ে ফিরব।’

এক সময়ের পপ তারকা তিশমা। পপগানের সুরে মন জয় করে নিয়েছিল লাখো শ্রোতাদের হৃদয়। ২০০৩ সালে প্রকাশ হয় তার প্রথম একক গানের অ্যালবাম। তার প্রতিটি গানই শ্রোতামহলে দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। টানা আট বছর অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে প্রকাশ হয় তার অসংখ্য গান।

২০১৮ সালে সবশেষ ‘এক্সপেরিমেন্টাল’ নামের তার গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকলেও আর কোনো নতুন গান প্রকাশ করেননি এই গায়িকা। তবে স্টেজ শোতে নিয়মিতই পাওয়া যায় এই পপশিল্পীকে।