advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিবাহিত স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশি আক্রান্ত হয় মানসিক রোগে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৭ মে ২০২২ ০১:০৫ এএম
advertisement

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারীকালে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, কুশলাবস্থা, সংশ্লিষ্ট ফ্যাক্টরগুলো এবং মানিয়ে নেওয়ার কৌশল শীর্ষক জাতীয় জরিপের ফল প্রকাশ হয়েছে। জরিপের গবেষণায় স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের মানসিক সুস্থতায় কাউন্সেলিং প্রোগ্রাম ব্যবস্থা জোরদার ও প্রবর্তনে দেওয়া হয়েছে পরামর্শ। গবেষণায় উঠে এসেছে, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত বিবাহিত স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশি মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

advertisement

গতকাল বৃহস্পতিবার নিজেদের কার্যালয় মিলনায়তনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থায়নে এই গবেষণা পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। গবেষণা

দলের প্রধান নিপসম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ ফলাফল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পিটিএসডি আক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা পেশাদাররা সবার থেকে দূরে সরে থাকতে পারেন বা চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন বা তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা থাকতে পারে। এই স্বাস্থ্য সমস্যাটির সমাধান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের করা উচিত।

তিনি জানান, নিপসমের গবেষণাটি ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে ১ হাজার ৩৯৪ জন স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর। তাদের মধ্যে ছিলেন ৫৯৬ জন চিকিৎসক, ৭১৩ জন নার্স এবং ৮৫ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট। এসব স্বাস্থ্যকর্মী অন্তত এক মাস করোনা রোগীদের সঙ্গে কাজ করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব স্বাস্থ্যকর্মী বিশেষ করে নারীরা করোনা রোগীর চিকিৎসায় কাজ করেছেন তাদের মধ্যে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের (পিটিএসডি) ঝুঁকি ছিল বেশি। যাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ৬২.৯ শতাংশেরই ছিল পিটিএসডি। এই স্বাস্থ্যকর্মীদের ৮৩.৬ শতাংশ ছিলেন বিবাহিত। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের কাজের চাপ অনেক বেশি ছিল, তারা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রীর (পিপিই) অপ্রতুলতায় ছিলেন এবং করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে ছিলেন। বাংলাদেশে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে ২৩.৫০ শতাংশ পিটিএসডি আক্রান্ত হন। এর মধ্যে চিকিৎসকদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ ছিল। এরপরেই ছিলেন টেকনোলজিস্ট ও নার্স। পিটিএসডিতে আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক ২৪.৩০ শতাংশ, টেকনোলজিস্ট ২৩.৫০ শতাংশ এবং নার্স ২২.৮০ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেবার পাশাপাশি গবেষণাও বাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, গবেষণা ফলাফলের ওপর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোর্সের সময়ে ভিন্নতা দেখা যায়। একই কোর্স এমপিএইচ কোথাও ৬ মাস, কোথাও ৯ মাস, কোথাও ১২ মাস আবার কোথাও ১৮ মাস। ফলে সময় নিয়ে জটিলা সৃষ্টি হয়ে থাকে। এ জটিলতা দূর করতে হলে সব স্বাস্থ্যসেবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই এমপিএইচ কোর্সকে দুই বছর মেয়াদি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব সাইফুল হাসান বাদল। আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেন প্রমুখ।

advertisement