advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কাজের সন্ধানে কুয়েতে গিয়ে ‘বিপাকে’ বাংলাদেশিরা

সাদেক রিপন,কুয়েত
১৫ জুন ২০২২ ০৫:৪৩ পিএম | আপডেট: ১৫ জুন ২০২২ ০৯:৫৯ পিএম
কুয়েতে চলছে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার অভিযান। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

কুয়েতে নানা অপরাধে যুক্ত ও অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনায় বিপাকে পড়েছে দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশিরা।

গত ১০ দিন ধরে দেশটির জিলিব আল সুয়েখ, আব্বাসিয়া, ফরওয়ানিয়া, খাইতান, সুয়েখ, হাওয়াল্লি, মাহবুল্লাহসহ অভিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।

স্থানীয় গণমাধ্যম আরব টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ দিনের অভিযানে প্রায় ১ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশ, ভারত ও ফিলিপাইনের নাগরিক।

তাদের বিরুদ্ধে দেশের আবাসন আইন লঙ্ঘন, মাদক বেচাকেনা, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, জুয়া, ভিক্ষাবৃত্তি ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের নিজে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়াসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কুয়েত সরকার।

কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি রফিকুল ইসলাম ভুলু বলেন, বাংলাদেশিরা ড্রাইভার, হাউস বয়, বাবুর্চি, ক্লিনিং ও সিকিউরিটিসহ অন্য কাজের ভিসা নিয়ে কুয়েতে প্রবেশ করে। কিন্তু অনেক কোম্পানি ঠিকভাবে বেতন পরিশোধ না করায় দেশটিতে থাকা-খাওয়া ও দেশে পরিবারের ভরণপোষণের দায়ে অন্যত্র কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশিরা। সেটা স্থানীয় আইনের লঙ্ঘন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, ঋণ করে প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে দালালের মাধ্যমে কুয়েত আসেন তিনি। দেশটিতে ৭৫ দিনার বেতনে একটি কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে বেতন না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে ডিউটি শেষে অন্য জায়গায় কাজের সন্ধান করেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, ‘বছর শেষে বা কোম্পানির চুক্তি শেষে আকামা লাগাতে টাকা দিতে হচ্ছে। ভালো জাগায় ডিউটি নিতে কোম্পানির সুপারবাইজার ও ফোরম্যানদের ঘুষ দিতে হয়। যে বেতন পাই তাতে আমাদের নিজের ও পরিবারের খরচ বহন করতে কষ্ট হয়ে যায়। তাই আমার অনেকে কোম্পানির ডিউটি শেষে অন্য জাগায় কাজের সন্ধান করি। এতে ভাগ্য খারাপ হলে চেকে ধরা পড়ে নিজ দেশে ফেরত চলে যেতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোম্পানির সুপারবাইজার, ফোরম্যানদের অতিরিক্ত ঘুষ প্রদান, বকেয়া বেতন, আকামা সমস্যা ইত্যাদি হয়রানির কথা কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে কোম্পানি। সেই ভয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করার সাহস করে না।’

কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।