advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চট্টগ্রামের ১৮ খালের পানি চলাচলে ২০ প্রতিবন্ধকতা

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২৩ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ জুন ২০২২ ১২:৫৮ এএম
ছবি : দৈনিক আমাদের সময়
advertisement

টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ এলাকা ছিল পানির নিচে। খোদ সিটি মেয়রের বাসায়ও ছিল হাঁটুসমান পানি। বিষয়টি সকল সংস্থাকে নাড়া দিয়েছে। বৃষ্টির পানি সরতে না পারার কারণ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ খালের মধ্যে পানি চলাচলে ২০ প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এদিকে ভোগান্তির পর কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের কমিটি করেছে চসিক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

গতকাল বুধবার বিকালে জলাবদ্ধতার প্রকোপ নিরসনে করণীয় নির্ধারণ সংক্রান্ত বিশেষ সভায় এ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নগরীর টাইগারপাস সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পক্ষে থেকে পানি চলাচলে ২০ প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি জানানো হয়।

সভার শুরুতে নগরীর ১৮ খালের মধ্যে পানি চলাচলে ২০ প্রতিবন্ধকতার চিত্র তুলে ধরেন সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার সিটি করপোরেশনের

প্রকৌশলীরা সরেজমিন পরিদর্শন করে এসব চিত্র ধারণ করেন। তার মধ্যে নগরীর পতেঙ্গা নির্মাণাধীন কর্ণফুলী টানেলের মুখে ৬০ ফুটের একটি খালকে ৩ ফুটের নালায় পরিণত করা, নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপ ৪১ নম্বর একটি খালকে মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলা, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় খালগুলোর প্রতিরোধ দেওয়াল নির্মাণের জন্য যে লোহারপাত পোতা হয়েছে সেগুলো রয়ে যাওয়া, নির্মাণকাজের জন্য ফেলা মাটিতে খাল ভরাট হওয়ার কারণে পানি নামতে পারছেন না বলে দাবি করেন তিনি।

সভা শেষে সাংবাদিকদের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আগের সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খালের বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। তবুও কেন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, জনগণ ভোগান্তিতে পড়ছেন- এটি নির্ণয় করতে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামসকে প্রধান করা হয়েছে। সদস্য করা হয়েছে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, জলাবদ্ধতার নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহ আলী ও সিটি করপোরেশনের ৪১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের প্রতিনিধি হিসেবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি মোবারক আলীকে।

মেয়র বলেন, বৃষ্টি হলে পানি উঠবে। কিন্তু পানি যাতে দ্রুত নেমে যায় সেটার সমাধান খুঁজতে চার সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে কোন খালে পানি প্রবাহের কি প্রতিবন্ধকতা আছে তা সরেজমিন পরিদর্শন করে বের করবে কমিটি। এর পর ক্র্যাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে খাল-নালায় পানি প্রবাহের সব প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আশা করছি জনগণের ভোগান্তি কমে যাবে।

নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্পটি নিয়েছে সিডিএ। বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রকল্পটির আওতায় নগরের ৫৭টি খালের মধ্যে ৩৬টি খালে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চারটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়। তবুও জলাবদ্ধতা অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। উল্টো আরও অবনতি হয়েছে বলে দাবি নগরবাসীর। গত শুক্রবার থেকে ভারী বর্ষণে নগরের অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে যায়। বৃষ্টিপাত বন্ধ হলেও গতকাল বুধবার পর্যন্ত নগরের অনেক এলাকায় পানি জমে আছে।