advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বদলে যাবে মাগুরার কৃষি-শিল্প অর্থনীতি

মোখলেছুর রহমান, মাগুরা
২৩ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২২ জুন ২০২২ ১১:২৭ পিএম
advertisement

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যান্য জেলার সঙ্গে বদলে যাবে মাগুরার অর্থনীতি। জেলার কৃষি ও শিল্প খাতে রাখবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। কৃষিপ্রধান এ জেলার উৎপাদিত সবজিসহ কাঁচামাল সহজে রাজধানীসহ সারাদেশে পৌঁছে দিতে পদ্মা সেতু আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে কৃষকদের কাছে। পাশাপাশি এ জেলায় বাস্তবায়নাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগসহ কর্মসংস্থানের অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

advertisement

সদর উপজেলার হাজরাপুর এলাকার লিচু চাষী কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, মাগুরার স্থানীয় হাজরাপুরী জাতের লিচু গুণেমানে ভালো হওয়ায় সারাদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ বছর লিচুর ভালো ফলন হলেও তিনি ব্যাপারিদের কাছে অনেক কম দামে লিচু বিক্রি করেছেন। কারণ লিচু পচনশীল কৃষি পণ্য হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে তিনি তা ঢাকার বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারেনি। পদ্মা সেতু চালু হলে আগামী বছর তিনি সরাসরি ঢাকায় লিচু বিক্রি করে দ্বিগুণের বেশি অর্থ উপার্জন করবেন বলে আশা করছেন। মাগুরা একতা পাইকারি কাঁচাবাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বলেন, পাদ্মা সেতু আমাদের মতো

কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের জন্য আশির্বাদ। প্রতিদিন মাগুরা পাইকারি একতা কাঁচাবাজার থেকে আট থেকে ১০ ট্রাক সবজি, মরিচ ও পেঁয়াজ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালান হয়ে থাকে। কিন্তু ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় অধিকাংশ সবজি বা কৃষি পণ্য ফেরি ঘাটেই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক ও ব্যাপারি সর্বশান্ত হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর ফলে কোনো ব্যবসায়ীকে আর সর্বশান্ত হতে হবে না।

গণকমিটি মাগুরা জেলার সদস্য সচিব প্রকৌশলী শম্পা বসু জানান, পদ্মা সেতু চালু হলে অন্যান্য জেলার মতো মাগুরা জেলাও লাভবান হবে। তবে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় পরির্বতন ও উন্নয়ন ঘটবে। কৃষিপ্রধান জেলা হিসেবে কৃষকরা লাভবান হবে। পাশপাশি পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে এখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জোড়ালো দাবি জানাচ্ছি।

মাগুরা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক তানভির রহমান রেমন জানান, প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই শত প্রতিকুলতার মধ্যেও নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য। পদ্মা সেতু তৈরিতে যে কয়টি জেলা সুবিধা ভোগ করবে তার মধ্যে অন্যতম মাগুরা জেলা। পদ্মা সেতুকে মাথায় রেখে ইতোমধ্যে মাগুরাতেও ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। অল্প সময়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে ঢাকায় পৌঁছানোর জন্য অভ্যন্তরীণ বাইপাস রোড তৈরির কাজ প্রায় সমাপ্তের পথে। চলছে রেললাইনের কাজ। আগামী ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মাগুরা থেকে ছেড়ে যাওয়া রেল পদ্মা সেতু হয়ে রাজধানী ঢাকা পৌঁছবে। পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে মাগুরাকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে দাঁড় করানোর কাজ চলছে। সাশ্রয়ী শ্রমমূল্য ও যাতায়াতে সহজলভ্যতা হওয়ায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠান এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হায়াৎ মাহমুদ জানান, চলতি মৌসুমে সদরের সাড়ে ৬শ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। চাষীরা সবমিলিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি করেছেন। পদ্মা সেতু চালু হলে আগামী মৌসুমে কৃষকরা ঢাকার বাজারে সরাসরি লিচু বিক্রি করে অধিক লাভবান হতে পারবেন। শুধু লিচু নয়, এ জেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি, ১২ হাজার হেক্টরে পেঁয়াজ ও উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণ জমিতে কাঁচা মরিচ চাষ হয়ে থাকে। পদ্মা সেতু চালু হলে মাগুরার গোটা কৃষি অর্থনীতির চেহারা পাল্টে যাবে।

advertisement