advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রধানমন্ত্রীর বন্যা এলাকা সফর
বন্যাকালীন ও পরবর্তী কাজই এখন গুরুত্বপূর্ণ

২৩ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২২ ১১:৩৫ পিএম
advertisement

আজ দুই দিন ধরে বৃষ্টি একটু কমেছে। এতে দেশের বন্যা পরিস্থিতি কোথাও কোথাও প্রশমিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন, এর পর দেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে। আর শ্রাবণ মাসে বন্যা দেখা দেবে দক্ষিণাঞ্চলে। আজকাল বন্যার সঙ্গে শহরগুলোয় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। বন্যার পানিও কেবল পলিমিশ্রিত নয়, তা মানবসৃষ্ট বহু ধরনের আবর্জনা বহন করছে। ফলে এ পানি খুবই দূষিত। বর্তমানে বন্যার ফল হিসেবে উর্বরতা ছাপিয়ে দূষণের মাত্রাই বেড়ে চলেছে। ফলে বন্যার পর জনজীবনে অন্য ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

advertisement

বন্যার পর পর আসে নানা রকমের রোগ। ডায়রিয়া এর স্বাভাবিক সঙ্গী। তবে এবার ডেঙ্গুর আশঙ্কা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তা ছাড়া করোনার চতুর্থ ঢেউ দরজায় কড়া নাড়ছে। ফলে কেবল ত্রাণ বিতরণ করেই বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। এখন থেকেই বন্যা-উত্তর রোগবালাই মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। করোনা মোকাবিলার পর সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতাও বেড়েছে। ফলে আমরা আশা করব, বন্যার পর দেশে মহামারী দেখা দেবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে করে সিলেটের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সফর শেষে তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এতে তিনি দুর্গত সব মানুষকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং বলেছেন, সরকার সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত আছে।

আমরা জানি, দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ উন্নত দেশের তুলনায়ও অনেক সক্ষম। এই বিষয়ে মানুষের স্বাভাবিক উদ্যোগ এখনো বহাল। ত্রাণকাজে আমাদের দেশের মানুষ উৎসাহ নিয়ে অংশগ্রহণ করে থাকে। তবে উৎসাহী মানুষজনকে কাজে লাগানোর কোনো দক্ষ ব্যবস্থাপনা এখনো গড়ে ওঠেনি। আমরা মনে করি, বিশাল জনসংখ্যার এই দেশে বন্যার মতো আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় আকারের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী প্রস্তুত রাখা দরকার। এখন থেকেই বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মানুষের এখন বিশুদ্ধ পানি, পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধপথ্য দরকার। গণমাধ্যমের খবরে দেখা গেছে- যেসব সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় কম। আমরা বলব- যথাসময়ে সহায়তা না পৌঁছানো গেলে যে সংকট ছোটখাটো থাকার কথা, তা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে। তাই দ্রুত সব রকম সহায়তা প্রদান ও প্রথম সুযোগে দুর্গত সব মানুষকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এ বিষয়ে তদারক করবেন এবং ভুক্তভোগী মানুষের দুর্ভোগ আর বাড়তে দেবেন না।

বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের পাশাপাশি কৃষি খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাকেও অগ্রাধিকার দিতে হবে।

advertisement