advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রবাসে জেলে থাকা নূরুলকে দেশে ফেরাতে ইউএনওর সহযোগিতা

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
২৩ জুন ২০২২ ১০:২৮ পিএম | আপডেট: ২৩ জুন ২০২২ ১০:৪৮ পিএম
ইউএনও আক্তারুজ্জামান ও প্রবাসী নূরুল ইসলাম । ছবি : সংগৃহীত
advertisement

পরিবারের অভাব দূর করতে বাবার সহায় সম্বল শেষ করে প্রায় ১৪ বছর আগে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। মাঝে দু’বার ছুটিতে দেশে আসলেও পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি, তৃতীয় বার ছুটি কাটিয়ে সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় ফিরে যান কর্মস্থল মালয়েশিয়ায়। এবার পিছু নেয় বিপদ, শুরু হয় কষ্টের দিনের। মালয়েশিয়ার আইনে জেল হয় ৫ বছরের।

ওই দেশের হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব ও ত্রিশালউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামানের চেষ্টায় অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরেছেন দেশে।

এই গল্প ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের বিয়ারা দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা প্রবাসী নূরুল ইসলামের।

পরিবার ও ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া সরকারের আইনে পাঁচ বছরের জেল হয় নূরুল ইসলামের। বিষয়টি নজরে আসে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারী (লেবার) সুমন চন্দ্র দাসের। পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেলে হাই কমিশনের মাধ্যমে পাঁচ বছরের জায়গায় দুই বছরে একটি বিশেষ সুযোগে নূরুল ইসলামকে কারাগার থেকে মুক্ত করা সম্ভব বলে তিনি বিষয়টি ত্রিশালের ইউএনও আক্তারুজ্জামানকে অবহিত করেন।

এরপর ইউএনও আক্তারুজ্জামান গত ১৩ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ইউএনও ত্রিশাল’ আইডি থেকে নূরুল ইসলাম (৩৬) এর সন্ধান চেয়ে একটি পোস্ট দেন। পরে বিষয়টি ভাইরাল হয়।

২৪ঘন্টা পার হওয়ার আগেই সন্ধ্যান মেলে নূরুল ইসলামের পরিবারের। গত ১৪ জুন তার স্ত্রী, সন্তান ও বড় ভাই আব্দুল আউয়াল আসেন ইউএনওর কার্যালয়ে। তাদের জানানো হয় নূরুল ইসলামকে দেশে ফেরত আনার বিষয়টি।

প্রবাসী নূরুল ইসলামকে দেশে ফেরাতে বিমানের টিকট কেনার সাধ্য ছিল না পরিবারের। বিষয়টি উপলদ্ধি করে আক্তারুজ্জামান নিজ উদ্যোগে স্থানীয়দের সহায়তায় টিকিট কেনার ব্যবস্থা করে দেন। গত ১৫ জুন টিকিট কেনা হয় যার ফ্লাইট পড়ে ২১ জুন রাত ১০টা ২০ মিনিটে (কুয়ালালামপুর সময়)।

২২ জুন নূরুল ইসলাম কুয়ালামাপুর বিমানবন্দর থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন। প্রবাসী নূরুল ইসলাম এক সন্তানের জনক।

নূরুল ইসলামকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় ইউএনওর আন্তরিকতায় খুশি এলাকাবাসী। সবাই ইউএনও আক্তারুজ্জামানের প্রসংশা করছেন।

তবে আক্তারুজ্জান বলেন, একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার পাশে দাঁড়াতে পেরে তারও ভালো লাগছে।