advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মূল ধারায় যুক্ত হবে পিছিয়ে পড়াদের ২৭ শতাংশ

ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

আব্দুল্লাহ কাফি
২৬ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৬ জুন ২০২২ ০১:৫৭ পিএম
advertisement

স্বপ্নপূরণের পদ্মা সেতু গতকাল শনিবার খুলে দেওয়ায় হাসি ফুটেছে ২১ জেলার মানুষের মুখে। এ হাসি সুখের, উন্নয়নের ও বদলে যাওয়ার। প্রমত্তা পদ্মার এপার-ওপারকে এক সুতোয় বাঁধা সেতুটি যে ঢাকাসহ সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করে দিয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরও মনোযোগ কাঁড়বে, গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্পকারখানা। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির চাকা ঘোরার পাশাপাশি বাড়বে কর্মসংস্থান। তাতে পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলের ২৭ শতাংশ মানুষ যুক্ত হবে মূল ধারায়। আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রেও নতুন ধারা যুক্ত করবে পদ্মা সেতু- আমাদের সময়ের সঙ্গে গতকাল একান্ত আলাপকালে এমনটিই বললেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতুই নয়, একটি ইতিহাস। সেতুটি উদ্বোধনের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা বৃদ্ধি পাবে। চট্টগ্রাম পোর্টের দিকে আর নির্ভরশীল হতে হবে না। সহজেই মোংলা ও পায়রাবন্দর ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে যশোরের বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী পণ্য খুব সহজেই পৌঁছানো যাবে।’ এই ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের প্রসার ঘটবে। তাতে ব্যাপক বিনিয়োগ বাড়বে। সেই সঙ্গে পদ্মা সেতুকে ঘিরে ট্যুরিজমও হবে। পাশাপাশি এগ্রোবেজ ইন্ডাস্ট্রিজ গড়ে উঠবে। এমনকি অনেক পোশাকশিল্পও গড়ে উঠবে। ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে। চাকরির জন্য গ্রাম থেকে আর ঢাকায় ছুটতে হবে না। নিজ নিজ এলাকাতেই কাজ করতে পারবে।’

advertisement 3

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিআইয়ের সহসভাপতি আমিন হেলালী বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের জাতিকে অহঙ্কারের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। আমাদের ব্র্যান্ডিং পাল্টে দিয়েছে। তলাবিহীন জাতি থেকে সক্ষমতার জাতিতে পৌঁছে দিয়েছে। আগে কোথাও ব্যবসা করতে গেলে তারা আমাদের অসহায় ভাবত। এখন দরকষাকষির জায়গায় এসেছি। এখন তারা হিসাব করে কথা বলবে। তলাবিহীন ঝুড়ির কথা মুছে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ২৭ শতাংশ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূল ধারায় নিয়ে আসবে পদ্ম সেতু। দক্ষিণাঞ্চলে তিনটি পোর্ট রয়েছে। এসব পোর্টের সক্ষমতার ২৫ শতাংশও ব্যবহার হতো না। এখন পুরোটাই ব্যবহার করা যাবে। এ সেতুর মাধ্যমে পর্যটনশিল্পও দক্ষিণমুখী হবে। রপ্তানিমুখী ও অভ্যন্তরীণ শিল্পায়ন হবে। তবে এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে সমন্বয় করতে পারলে আরও তিনগুণ প্রবৃদ্ধি হবে।’

advertisement 4

বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম পারভেজ বলেন, ‘পদ্মা সেতুর ফলে যে কেবল ওপারের মানুষ উপকৃত হবে বিষয়টি তা হয়, এপারও উপকৃত হবে। এর ফলে দুই পারেই শিল্পায়ন হবে। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে দেশ। ভারতের সঙ্গেও ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়ে যাবে। মোংলাবন্দর থেকে ঢাকায় পণ্য রপ্তানিতে সময় লাগবে মাত্র তিন ঘণ্টা, যা আগে লাগত ৮-৯ ঘণ্টা। এখানে সময় কমবে ৬ ঘণ্টা। আর মোংলা থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে যেতে সময় লাগত ১৪ ঘণ্টা। সেতুর কারণে তা কমে এখন দাঁড়াবে ৭-৮ ঘণ্টায়। এখানেও সময় বাঁচবে ৬ ঘণ্টা।

এদিকে মোংলাবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, পদ্মা সেতু চালুর পর এ বন্দরের গতিশীলতা বাড়বে। একই সঙ্গে সড়কপথে সময় কমে দ্রুত এ বন্দর থেকে পণ্যবাহী কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডিং করা যাবে। ইতোমধ্যে বিজিএমইএ এবং বিকিএমইএ থেকে যোগাযোগ করেছে তাদের সঙ্গে। বন্দরের সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত হয়েছে তারা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় বিনিয়োগ করতে চান ব্যবসায়ী নেতারা।

advertisement