advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পীরের চুল কাটায় আ.লীগ নেতার

বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
২৬ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৬ জুন ২০২২ ১২:১৬ এএম
advertisement

শেরপুরে পরকীয়ার মিথ্যা অপবাদে চিশতিয়া তরিকার পীর হাফিজুর রহমানের (৩৮) মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল রাতে ভুক্তভোগী লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে ওই পীর বাদী হয়ে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রবিউল ইসলাম বাবু ও তার ছয় সহযোগীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

এদিকে গত শুক্রবার রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৫ জুন) দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের ইমান আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৭), একই গ্রামের আক্কেল মুন্সীর ছেলে আবুল হোসেন (৬০) ও ফরিদ উদ্দিন শেখের ছেলে মিজানুর রহমান মিস্টার (৪০)।

advertisement 3

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২২ জুন) সকালে পীর হাফিজুর রহমান নামের ওই পীরকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন শাহবন্দেগী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রবিউল ইসলাম বাবু ও তার সহযোগী মিস্টার, আনোয়ার হোসেন, আবুল হোসেন, নয়ন হোসেন ও রায়হান হোসেন। সেই সঙ্গে কোহিনুর বেগমের সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে পীর হাফিজুর রহমানকে মারধর করতে থাকেন তারা। এমনকি সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় পীর হাফিজুর রহমানের মাথার চুল কেটে দেন ওই আ.লীগ নেতা ও তার সহযোগীরা।

advertisement 4

মামলার বাদী পীর হাফিজুর রহমান বলেন, তাই ন্যায় বিচার পেতে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। এরই মধ্যে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। তবে ঘটনার মূলহোতা আ.লীগ নেতা রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে বগুড়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা রবিউল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তির চুল কেটে দেইনি। পরকীয়ার কারণে কোহিনুর বেগমের স্বামী সাইফুল ইসলাম নিজেই ওই ব্যক্তিকে মারধর করে তার চুল কেটে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

advertisement