advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস
হাসিমুখে ফেরেন সেবাপ্রত্যাশীরা

মো. মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম
২৮ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৭ জুন ২০২২ ১১:৫৮ পিএম
advertisement

হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদবাদ ইউনিয়নের দুবাই প্রবাসী আবু তাহের। ছুটিতে এসে পাসপোর্ট নবায়ন করতে দিয়েছিলেন। যাওয়ার দিনক্ষণ ঘনিয়ে এলেও পাসপোর্ট না পেয়ে কপালে তাদের দুশ্চিন্তার ভাঁজ। নিরুপায় হয়ে শরণাপন্ন হলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক মো. আবু সাইদের। একই সমস্যা মো. আজগর আলীর। দুই প্রবাসীর সমস্যা শুনে ঢাকায় বিশেষ অনুরোধ পাঠালেন। ফ্লাইটের আগেই পাসপোর্ট পাওয়ার আশ^াস দিলেন। চিন্তামুক্ত হয়ে হাসিমুখে ফিরলেন দুই রেমিটেন্সযোদ্ধা।

advertisement 3

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের মেয়ে এসেছেন বৃদ্ধ মাকে নিয়ে। দ্রুত

advertisement 4

আবেদন গ্রহণের নির্দেশ দিলে কৃতজ্ঞতা জানালেন। তিন মাসের সৈয়দ আয়নান মোর্শেদকে নিয়ে এসেছেন মালিহা ইসলাম। সন্তানকে নিয়ে লাইনে দাঁড়ানো কষ্টসাধ্য; রুমেই দেওয়া হলো পাসপোর্ট। শিপিং ব্যবসায়ী আফনান ইসলামও পাসপোর্ট পেয়েছেন বিশেষ ব্যবস্থায়। পরিচালকের এমন সেবা মেঘ না চাইতে বৃষ্টির মতো। তাই কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুল করলেন না। তৃপ্তির হাসিভরা মুখে ধন্যবাদ জানিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।

গত রবিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালকের কার্যালয়ে অবস্থান করে দেখা গেছে, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন আবু সাইদ। পাশাপাশি অফিসের দাপ্তরিক কাজকর্ম চলছে। তদারকি করছেন পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ-বিতরণ ও বিদেশি নাগরিকদের ভিসা কার্যক্রম। ছয় ঘণ্টায় অন্তত ৬০ থেকে ৭০ জনকে বিভিন্ন ধরনের সেবাপ্রদান করেছেন। তবে এ জন্য বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয় মাঝে মাঝে, এই যেমন রবিবার ভারতীয় ভিসার টোকেন নিয়েও ঢুকে পড়েন একজন।

কেবল একজন রাজনীতিক, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী বা শিল্পপতি নয়; সেবা নিতে আসা শ্রমিক, প্রবাসী বা অসুস্থ একজন রোগীও সমান গুরুত্ব পান আবু সাইদের কাছে। সমানভাবে সাধ্যমতো সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। ফলে পাসপোর্টসংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা ও পরামর্শের জন্য চট্টগ্রামের সব স্তরের মানুষের ভরসাস্থল হয়ে ওঠেছেন আবু সাইদ। সৎ, নিষ্ঠাবান, চৌকস ও কর্মঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা আছে।

পাসপোর্ট অফিস মানেই দালালের দৌরাত্ম্য আর হয়রানির চিত্র ভেসে ওঠে। কিন্তু মনসুরাবাদের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস মানুষের সেই ধারণা আমূল পাল্টে দিয়েছে। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে মানুষের আস্থা আর্জনেও সক্ষম হয়েছেন। সুফলও পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

প্রতিদিন শতশত মানুষকে কীভাবে সস্তুষ্ট রাখেন, প্রশ্নের উত্তরে আবু সাইদ আমাদের সময়কে বলেন, সেবা সহজীকরণে নানা উদ্যোগের পাশাপাশি ‘ওপেন ডোর পলিসি’ গ্রহণ করি। এতে যে কোনো ব্যক্তি যে কোনো সময় সরাসরি পরিচালকের সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা বলতে পারেন। দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়। সেবা বাড়ার ফলে কমেছে দালাল প্রতারকচক্রের উৎপাত।

আবেদন গ্রহণে দেরি কেন?

পাসপোর্ট অফিসে আবেদন না নিয়ে হয়রানি করে- এমন অভিযোগ প্রায় শোনা যায়। কিন্তু এখানে সমস্যাটা কোথায়, আবেদনকারীর নাকি কর্মকর্তাদের; আবু সাইদের মতে, মূলত অধিকাংশ আবেদনকারী নিজে ফরম পূরণ করে না, তাই ভুল থেকে যায়। আগের পাসপোর্টের তথ্য গোপন, অসম্পূর্ণ আবেদন ও সঠিক তথ্য থাকে না। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন না পেলেও আবেদন পাঠানো যায় না। তিনি বলেন, তথ্য গোপন বা গরমিল থাকলে পাসপোর্টের সফটওয়্যারে যাচাইয়ের সময় আটকে যায়। পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্য একই থাকলে সফটওয়্যারে পাসপোর্ট আবেদন সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণ করে। কিন্তু পুলিশের বিরূপ রিপোর্ট, তথ্য গোপন, মামলা-মোকদ্দমা বা তথ্য পরিবর্তনের কারণে আটকে যায়।

সঠিক তথ্যের আবেদনে মিলবে ২ কর্মদিবসে পাসপোর্ট : পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সঙ্গে দিয়ে প্রয়োজনীয় সব তথ্য সঠিক থাকলে দুই কর্মদিবসের মধ্যে অতীব জরুরি পাসপোর্ট হাতে পাওয়া সম্ভব। ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছরমেয়াদি হলে ৮ হাজার ৬২৫ ও ১০ বছর মেয়াদের জন্য ১০ হাজার ৩৫০ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ৬৮ পৃষ্ঠার হলে দিতে হবে যথাক্রমে ১২ হাজার ৭৫ ও ১৩ হাজার ৮০০ টাকা। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস ঢাকা আগারগাঁও থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।

জরুরি হলে-৫ বছর মেয়াদে ৪৮ পৃষ্ঠার জন্য ৬ হাজার ৩২৫ ও ১০ বছরের জন্য ৮ হাজার ৫০, ৬৮ পৃষ্ঠার জন্য ৮ হাজার ৬২৫ ও ১০ হাজার ৩৫০ টাকা। ৭ কর্মদিবসে বা ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে। সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদের ৪ হাজার ২৫ ও ১০ বছর মেয়াদের জন্য ৫ হাজার ৭৫০, ৬৮ পৃষ্ঠার জন্য ৬ হাজার ৩২৫ ও ৮ হাজার ৫০ টাকা জমা করতে হবে।

আবু সাইদ জানান, ২০১০ সাল থেকে চলতি বছরের ১৫ জুন পর্যন্ত ১২ লাখ ২ হাজার ৩১১টি পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছে। বিভাগীয় অফিস থেকে পাসপোর্ট ইস্যুর হার প্রায় ৯৯ শতাংশ।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান : রোহিঙ্গা নাগরিক যাতে কোনোভাবে পাসপোর্ট নিতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পরিচালক আবু সাইদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ও দালাল প্রতারক দমনে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ও প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়। দোকানে বসে যাতে আড্ডা দিতে না পারে, সে জন্য অফিসের সামনে থেকে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে যোগদানের পর থেকে পাসপোর্ট করতে আসা ৯ জন রোহিঙ্গা ও একজন সহযোগীকে আটক করে ডবলমুরিং থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মামলাও হয়েছে। ব্যাংকের রশিদ জালিয়াতি করায় একজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে মামলা দেওয়া হয়েছে।

আবু সাইদ জানান, মুক্তিযোদ্ধা, নবজাতক শিশু, সিনিয়র সিটিজেন, অসুস্থ ও চলাচলে চট্টগ্রাম, ঢাকা প্রধান কার্যালয়, খুলনায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালে পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়ে ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে যোগদান করেন।

advertisement