advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সেতুমুখী গাড়ির রুট পারমিট নিয়ে চাঁদাবাজি
বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু হয়ে গেছে!

তাওহীদুল ইসলাম
২৮ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৮ জুন ২০২২ ০৯:২৫ এএম
advertisement

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দিন থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা বাড়ছে। উত্তরাঞ্চলের গাড়িও এখন দক্ষিণাঞ্চলের পথে যাত্রী পরিবহন করতে চাইছে। এজন্য আগের রুট পারমিট স্থগিত করে নতুন রুটের আবেদন করেছে। কিছু রুটে নতুন করে বাস নামানো হয়েছে। কয়েকটি রুটে চলছে বাস নামানোর প্রক্রিয়া। তবে এ রুট পারমিট নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগও আসতে শুরু করেছে।

পরিবহন মালিক সমিতির নামে ‘এন্ট্রি’ করার কথা বলে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক বাস মালিক। আবার সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগও করছেন যাত্রীরা।

advertisement 3

পদ্মা সেতুতে বাস চালাতে ইচ্ছুক পরিবহন ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে সায়েদাবাদ থেকে রুট পারমিট নেওয়া শুরু করেছেন। প্রায় ২০০ বাস অনুমোদনও পেয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে নতুন বাস আর কিছু ক্ষেত্রে আগের পারমিট বাদ দিয়ে নতুন করে পদ্মা সেতুমুখী গাড়ি চালাতে চাইছেন তারা।

advertisement 4

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, গাবতলী থেকে শহরের ভেতর দিয়ে দূরপাল্লার গাড়ি চলতে পারবে না। সায়েদাবাদ থেকে গাড়ি চলবে। রুট পারমিটের আবেদনও করা যাবে। অনেকে ইতোমধ্যে আবেদন করেছেন।

বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানান, রুট পারমিটের ক্ষেত্রে প্রথম চার মাসের জন্য প্রতি জেলায় ৫১৫ টাকা করে ফি দিতে হচ্ছে। এটি হচ্ছে প্রাথমিক অনুমোদন। পরে ৩ বছরের জন্য ৪ হাজার ৬৭৫ টাকা দিতে হয়। ১ হাজার ২৯০ টাকা বছর হিসাবে ধরে ৪ হাজার ৬৫ টাকা। এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাটি ও চালান ফি যুক্ত হবে। এই হচ্ছে রুট পারমিটের খরচ। আর পরিবহন সিন্ডিকেট নতুন কোনো বাস মালিককে ‘তার অঞ্চল’ দিয়ে গাড়ি চালানোর জন্য ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা চাইছে। এমনকি রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন বিআরটিসির বাস চলাচলেও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর গাড়ি চলাচলের দ্বিতীয় দিনেই এমন খবর মিলল।

জানা গেছে, পদ্মা সেতুতে এক্সপ্রেসওয়ের টোল নির্ধারণের কারণে নতুন করে ভাড়া নির্ধারণ করবে বিআরটিএ। তার আগে ১৫টি রুটের দূরত্ব অনুযায়ী পদ্মা সেতুর টোল যুক্ত ভাড়া নির্ধারিত ছিল। ঢাকার বেলায় সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে টার্মিনাল হিসেবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে ৩টি নতুন রুট দক্ষিণাঞ্চল যেতে পারবে পদ্মা সেতু হয়ে। আর মাওয়া-ভাঙা এক্সপ্রেসওয়ের টোলের গেজেট প্রকাশ হওয়ায় আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন করে ভাড়া বাড়তে পারে। সেখানে কিলোমিটারপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া যুক্ত করা হবে। এতদিন পদ্মা ছাড়াও তিনটি সেতুতে টোল দিতে হতো। এখন ওই তিন সেতুর টোল বাদ দিয়ে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙা এক্সপ্রেসওয়ের টোল নির্ধারণ করেছে সরকার। ৪০ আসনের বাস এক্সপ্রেসওয়ের পুরো ৫৫ কিলোমিটার চললে ৪৯৫ টাকা টোল দিতে হবে। মুশকিল হচ্ছে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় শুরু হয়ে গেছে।

পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-বরিশালের ভাড়া ৪২১ টাকা। আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকারও বেশি। গোপালগঞ্জের ভাড়া ৩৯২ টাকা। সেখানেও বেশি নেওয়া হচ্ছে। এভাবে ঢাকা থেকে খুলনার ভাড়া ৫৩৭ টাকা। ঢাকা থেকে শরীয়তপুর ভাড়া ২২৫ টাকা। ঢাকা থেকে পিরোজপুর ভাড়া ৫৩২ টাকা। ঢাকা থেকে পটুয়াখালী ভাড়া ৫১৯ টাকা। ঢাকা থেকে মাদারীপুর ভাড়া ৩১৩ টাকা। ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা ভাড়া ৬৫৪ টাকা। ঢাকা থেকে ফরিদপুর ভাড়া ২৯২ টাকা। কিন্তু বিআরটিএ নির্ধারিত এই হারের অতিরিক্ত আদায় শুরু হয়ে গেছে। কোথাও ৫০ টাকা বেশি, কোথাও দেড়শ টাকা বেশি নিচ্ছে। একদিকে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য, অন্যদিকে চাঁদাবাজি- দুইয়ে মিলে পদ্মা সেতুর আনন্দ ম্লান হতে চলেছে।

ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ কারা করবে- এমন দ্বন্দ্বে ঢাকা থেকে দক্ষিণবঙ্গমুখী জেলাগুলোয় বাস চলতে বাধা দিচ্ছেন সেখানকার পরিবহন নেতারা।

আগে মাওয়ায় কোনো বাস ফেরিতে পার হতো না। ঢাকার গাড়ি শিমুলিয়ায় যাত্রী নামাত। যাত্রী লঞ্চে-ফেরিতে নদী পার হয়ে বাংলাবাজার, কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে গন্তব্যের বাস ধরতেন। দক্ষিণ থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের এভাবে ভেঙে ভেঙে চলতে হতো। পদ্মার কারণে সরাসরি বাস চালু হয়েছে। গতকালও পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত থেকে ওপারের শরিয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরে তীব্র সংকট ছিল, এতে যাত্রীরা ভুগছেন। মাওয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া গাড়িকে ফরিদপুরের ভাঙ্গার পর যেতে দিচ্ছেন না সেখানকার পরিবহন নেতারা। তবে সংখ্যায় কম হলেও ঢাকা থেকে বরিশাল, খুলনার মতো দূরবর্তী গন্তব্যের বাস নির্বিঘেœ চলছে।

আইনানুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিআরটিসি বাসের রুট পারমিট লাগে না। কিন্তু গতকাল এগুলো চলতে বাধা দেন শরিয়তপুরের পরিবহন নেতারা। ঢাকা থেকে বাস শরিয়তপুর যেতে পারেনি, ঢামুঢ্যা থেকে ফিরে আসে।

কর্মকর্তারা বলেছেন, শরিয়তপুরের পরিবহন নেতারা চান না বিআরটিসির বাস চলুক। অথচ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের সব রুটে বাস চালু করার। শরিয়তপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পরিবহন নেতাদের বাধার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেছেন, রুটের জন্য চাঁদাবাজির অভিযোগ পাননি। বিভিন্ন জেলার সমিতির অনুমোদিত হারের চেয়ে বেশি চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ এসেছে। যদি কোনো বাসের পথিমধ্যের জেলায় কাউন্টার থাকে, তবেই সমিতিকে সরকার অনুমোদিত হারে চাঁদা দেবে। মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাকে চিঠি দেওয়া হবে, কেউ যেন সরকার অনুমোদিত হারের বেশি চাঁদা আদায় না করে। অননুমোদিত চাঁদা নিলে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। মালিক সমিতি সহায়তা করবে।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি চাঁদাবাজি শুরু করেছে রসিদ দিয়ে। এ জেলা হয়ে পদ্মা সেতুমুখী বাস থেকে ৬০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে মাওয়ায়। ফিরতি পথেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও মালিক সমিতির সরকার অনুমোদিত দৈনিক চাঁদা ২০ টাকা।

 

 

 

advertisement