advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ছাত্রের বেধড়ক পিটুনিতে আহত শিক্ষকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
২৮ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৭ জুন ২০২২ ১১:৫৮ পিএম
advertisement

সাভারের আশুলিয়ায় শিক্ষার্থীর বেধড়ক পিটুনিতে আহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার (৩৫) মারা গেছেন। এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গতকাল সোমবার ভোরে মারা যান তিনি। উৎপল কুমার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক ছিলেন। পাশাপাশি ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।

advertisement 3

পুলিশ জানায়, গত শনিবার দুপুরে হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে ছাত্রীদের বার্ষিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলছিল। খেলা চলাকালে ওই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতু (১৬) ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে অতর্কিত ওই শিক্ষকের ওপর হামলা চালায়। মাথায় বেধড়ক আঘাত করে। এক পর্যায়ে জিতু স্ট্যাম্পের সূচালো অংশ দিয়ে শিক্ষকের তলপেটে উপর্যুপরি আঘাত করলে তার নাড়িভুড়ি বেরিয়ে যায়। পরে অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ছুটে আসলে জিতু দৌড়ে পালিয়ে যায়।

advertisement 4

গুরুতর আহত অবস্থায় শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে প্রথমে আশুলিয়ার নারী ও শিশু কেন্দ্রে নিয়ে

যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্থানান্তর করা হয় এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে জটিল অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দিয়েও বাঁচানো যায়নি তাকে।

হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যাান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান জানান, শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ছিলেন। বখাটে জিতু সম্ভবত আগের কোনো ঘটনায় তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। শনিবার পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে কলেজে এসে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা চালায় জিতু।

হেলাল উদ্দিন নামের আরেক শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীর এমন কা-ে হতবাক হয়ে যান উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে একজন শিক্ষক এগিয়ে গিয়ে তাকে নিবৃত্ত করেন। শিক্ষকরা এ সময় গুরুতর আহত ওই শিক্ষককে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে এ সুযোগে পালিয়ে যায় বখাটে জিতু।

মিঠুন সরকার নামে হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অপর একজন শিক্ষক জানান, জিতু প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় এ ঘটনায় সাক্ষ্য দেওয়া নিয়ে শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীন রয়েছেন।

এদিকে প্রিয় শিক্ষককে এভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বখাটে ওই স্কুল শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। তা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

কলেজ শিক্ষার্থী মুন্নি আক্তার বলেন, আশরাফুল ইসলাম জিতু শিক্ষার্থী নামের কলঙ্ক। সেই কলঙ্কের কালিমা অজস্র শিক্ষার্থীর কপালে জুটছে। বখাটে জিতু প্রায়ই ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি কখনো। কারণ সে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যের ছেলে। তার পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী।

ইয়াসিন হাসান স্বাধীন নামের এক স্কুল শিক্ষার্থী বলে, উৎপল স্যার ছিলেন আমাদের সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষক। আমরা এ নির্মম হত্যাকা-ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

নিহত শিক্ষকের বাবার নাম মৃত অজিত কুমার সরকার। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার দত্তপাড়া এলংজানি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

এ ব্যাপারে নিহত শিক্ষকের বড় ভাই অসীম কুমার সরকার বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বলেন, শিক্ষককে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে নির্মম এ হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন নিহত শিক্ষকের স্ত্রী বিউটি রানী নন্দী। তিনি বলেন, সভ্য সমাজে ছাত্রের হাতে একজন শিক্ষকের খুন হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর পেছনে অন্য কোনো শিক্ষকের ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানাই।

advertisement