advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বগুড়ায় বন্যায় শুধু পাটেই ক্ষতি ৪৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
২৮ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৮ জুন ২০২২ ১২:১৪ এএম
advertisement

বগুড়ার তিন উপজেলার আড়াই হাজার হেক্টরের বেশি পাটক্ষেত এখনো বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। কোনো কোনো ক্ষেতের পাটগাছের শুধু মাথা জেগে আছে। টানা কয়েকদিন তলিয়ে থাকায় অনেকের পাট ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যায় তিন উপজেলায় ৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার ক্ষতির শিকার হবেন পাটচাষিরা।

advertisement 3

কৃষি বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, বাঙালি ও যমুনা নদীর চরাঞ্চলসহ নিম্ন এলাকায় প্রধানত দুটি ফসল উৎপাদন করেন স্থানীয় কৃষকরা। তার মধ্যে একটি মরিচ, অপরটি পাট। এখন পাট প্রায় পরিপক্ব হওয়ার মৌসুম। কিন্তু তার আগেই উজান

advertisement 4

থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল প্রবল বৃষ্টিপাতে যমুনা ও বাঙালি নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। এতে সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাটক্ষেত। গত ১৭ জুন থেকে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। এখন পানি অনেকটাই কমে গেছে। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া ওইসব জমির পাট আর ঘরে তুলতে পারবেন না কৃষকরা। টানা সাত দিনের বেশি সময় পাট ডুবে থাকলে সেখান থেকে কোনো আঁশ ঘরে আসবে না বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এসব ক্ষেতের পাটখড়িও নরম বা দুর্বল হয়ে যায়।

কৃষি বিভাগ জানায়, এবার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় ১০ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে পাটচাষ হয়েছিল। এর মধ্যে সারিয়াকান্দিতে ৭ হাজার হেক্টর, সোনাতলায় এক হাজার ৬৭০ হেক্টর এবং ধুনটে দুই হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পাটচাষ হয়। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় সারিয়াকান্দির দুই হাজার, সোনাতলায় ৪৮৫ ও ধুনটে ৩০ হেক্টর জমির পাট তলিয়ে যায়। এই তিন উপজেলায় সব মিলিয়ে দুই হাজার ৫১৫ হেক্টর পাট বন্যায় নিমজ্জিত হয়েছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কুদরত আলী জানান, প্রতি হেক্টর জমিতে (সাড়ে ৭ বিঘা) প্রায় ৬০ মণ পাট উৎপাদন হয় (বিঘায় গড়ে ৮ মণ হিসেবে)। তার এই তথ্যানুযায়ী ওই তিন উপজেলায় চলতি মৌসুমে শুধু নিমজ্জিত জমিতেই পাট উৎপাদন হওয়ার কথা এক লাখ ৫০ হাজার ৯০০ মণ। ওই কৃষি কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে বাজারে পাট বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ টাকা থেকে তিন হাজার ২০০ টাকা মণ দরে। গড়ে তিন হাজার টাকা মণ হিসাব কষলে ওই তিন উপজেলায় নিমজ্জিত জমির পাটের অর্থমূল্য দাঁড়ায় ৪৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

সরেজমিন সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ও কামলাপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, পানির নিচে থাকা পাটগাছ মরে গেছে।

কাজলা ইউনিয়নের পাকুরিয়া গ্রামের কৃষক নাছের শেখ জানান, তিনি তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। এখন প্রায় পরিপক্ব হয়েছে। কিন্তু কাটার আগেই বন্যার পানিতে সব শেষ। ক্ষেতে মরা পাট পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে।

কামালপুরের কৃষক নয়ন ফকির জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। সেই জমিতে এখন পাটের কোনো চিহ্ন-ই নেই। পানির তোড়ে ভেসে গেছে। তাদের মতো যমুনা-বাঙালি নদী তীরবর্তী এলাকার বেশিরভাগ পাটচাষিই এখন নিমজ্জিত ফসলের আশা ছেড়ে দিয়েছেন।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) এনামুল হক জানান, সাধারণত এক সপ্তাহের বেশি সময় কম বয়সী পাট নিমজ্জিত থাকলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তবে যেগুলো পরিপক্ব হয়েছে সেগুলোর আঁশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সম্পূর্ণ ক্ষতি হবে না। যদিও ক্ষতিগ্রস্ত আঁশের দাম বাজারে অনেক কম পাবেন কৃষক। পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত সঠিক ক্ষতির হিসাব নির্ধারণ সম্ভব হবে না।

advertisement