advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হাটেও মিলছে না ন্যায্য মূল্য

বগুড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে খামারি-গৃহস্থরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
২৮ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৮ জুন ২০২২ ১২:৪২ এএম
advertisement

গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে বগুড়ার বন্যাকবলিত তিন উপজেলার খামারি ও গৃহস্থরা। পানিতে ফসলি জমির পাশাপাশি চারণভূমি প্লাবিত হওয়ায় এবং অনেকের চাষ করা ঘাস বন্যার কারণে নষ্ট হওয়ায় গোখাদ্যের সংকটে পড়েছেন তারা। এদিকে কোরবানির হাট এখনো জমে উঠেনি সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলায়। ফলে বাজারে বিক্রির জন্য তুলেও দাম পাচ্ছেন না ওই এলাকার খামারি ও গৃহস্থরা। বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র জানায়, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন এবার বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এই বন্যায় ১ লাখ ১৫ হাজার গবাদি পশু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫১ হাজার ৪৭২টি গরু, ১ হাজার ১৪টি মহিষ, ৬১ হাজার ৬৭৫টি ছাগল ও ৮৩৫টি ভেড়া ছাড়াও ৩১ হাজার হাঁস-মুরগি বন্যায় আক্রান্ত। এই তিন উপজেলার ১২৭ হেক্টর চারণভূমি এখন বন্যার পানির নিচে। ফলে এসব এলাকার গবাদি পশু খাদ্য সংকটে রয়েছে।

advertisement 3

গত বুধবার ছিল ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি হাট। বন্যাকবলিত শিমুলবাড়ি, শহরাবাড়ি, রাধানগর, নিউসারিয়াকান্দি, পাকুরিয়া, ভূতবাড়িসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের একমাত্র গোহাটি এটি। বন্যার কারণে গৃহস্থ পর্যায়ের গবাদি পশু পালনকারীরা তাদের গরু-ছাগল ও ভেড়া হাটে তুললেও ক্রেতা ছিল না তেমন। একইদিন সারিয়াকান্দি উপজেলার মথুরাপাড়া হাটেও ছিল একই অবস্থা। বিক্রেতারা গরু-ছাগল নিয়ে হাটে এলেও ক্রেতা না পাওয়ায় তা আবার ফিরিরে নিয়ে গেছেন বাড়িতে।

advertisement 4

ধুনটের গোসাইবাড়ি হাটে গরু বিক্রি করতে আসা ভূতবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জালাল উদ্দিন বলেন, ‘বাড়িত বানের পানি উঠে অ্যাকন বান্দের উপর আচি। সেটিতো গরু থোয়ার ঝামেলা, আবার খাবার খাদ্যিও নাই। ভাবছিলাম হাটোত তুলে গরুডা বেচে দিই, কিন্তু কেউ দামও কবার আসেনি। তাই ফিরে লিয়ে যাচ্চি।’

এদিকে সারিয়াকান্দি উপজেলার চরবাটিয়া গ্রামের খামারি মোফাজ্জল প্রামাণিক জানান, বেশ কিছুদিন আগে থেকেই দানাদার খাবারের (ক্যাটল ফিড) দাম বৃদ্ধির কারণে তারা মূলত চারণভূমি আর ঘাসের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু বন্যায় সেই চারণভূমি ও ঘাসের জমি তলিয়ে যাওয়ায় এখন বেকায়দায় রয়েছেন তিনিসহ অন্য খামারিরা। এখনো কোরবানির হাট জমে উঠেনি উল্লেখ করে এই খামারি বলেন, ‘আগে খামার থ্যাকেই গরু লিয়ে যাচ্ছিল, আর অ্যাহন হাটোত তুলেও খরিদ্দার পাওয়া যাচ্চে না। গরু-বকরি লিয়ে এলাকার সগলিই বিপদে আচে।’ বগুড়ার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান জানান, আকস্মিক বন্যার কারণে ওই তিন উপজেলার খামারি ও গৃহস্থরা কিছুটা সংকটে পড়েছেন। তবে পানি কমতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে আশা করে তিনি বলেন, এই সময়টুকু তাদের দানাদার খাবার দিয়েই গবাদি পশুকে প্রতিপালন করতে হবে। আগামী সপ্তাহ থেকে কোরবানির হাট জমবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাম নিয়ে তেমন কোনো সমস্যায় পড়বেন না তারা।

advertisement