advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভিন্ন নামে চলছে কুমিল্লার সেই ইটভাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ জুন ২০২২ ০২:২১ পিএম | আপডেট: ২৮ জুন ২০২২ ০৭:৩৪ পিএম
ইটভাটা। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায় গড়ে ওঠা কাজী অ্যান্ড কোম্পানি নামের ইটভাটায় ২০১৯ সালের ২৬ জানুয়ারি ১৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এরপর ভাটাটি বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। তবে সেই ইটভাটা ফের চালু হয়েছে ভিন্ন নামে। এর নতুন নাম ‘মজুমদার ব্রিকস’।

এলাকাবাসী জানায়, চৌদ্দগ্রামের ঘোলপাশা ইউনিয়নের নালঘর নারায়ণপুর, মুনুপুর ও চানপুরসহ আশপাশের এলাকায় এখন ৪২টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার অধিকাংশেরই নেই বৈধ কাগজপত্র। রাজনৈতিক প্রভাব আর কয়েকজন অসাধু সরকারি কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর চলছে এসব ইটভাটা। তোয়াক্কা করছে না পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো আইন। তাই ইটভাটার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে তালমিলিয়ে বাড়ছে পরিবেশ ও বায়ুদূষণ, বাড়ছে শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট ও নানাবিধ জটিল রোগে।

advertisement

তারা আরও জানান, নানা রোগের পাশাপাশি জমিতেও পর্যাপ্ত ফসল হচ্ছে না। কমছে কৃষি বা আবাদি জমির পরিমাণ। ধান, গম, আলু, বেগুন থেকে শুরু করে আম, জাম, কাঠাল, নারকেল—ব্যাহত হচ্ছে সব ধরনের সবজি কিংবা ফলের উৎপাদন। এতে কৃষি অর্থনীতিতে যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক। তাই আইন না মানা এসব ইটভাটা বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চৌদ্দগ্রাম সদর থেকে কিছুটা দূরে সবুজ প্রান্তরের মাঝেই গড়ে উঠেছে পাঁচটি ইটভাটা। ফলে সবুজ প্রান্তর এখন লাল পোড়া মাটির রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মজুমদার ব্রিকস’র কর্ণধার আবদুর রাজ্জাক। দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘কাজী অ্যান্ড কোম্পানি নামের ইটভাটা আমি আগের মালিকের কাছ থেকে কিনেছি। এরপর এর নাম পরিবর্তন করেছি। আমি সকল নিয়ম মেনেই এটি চালু করেছি। আমার সকল কাগজপত্র বৈধ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এটি কেনার দুই মাস পরেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। কিন্তু তখন পর্যন্ত টাকা-পয়সার লেনদেন হয়নি আর কাগজপত্রও করা হয়নি। পরবর্তীতে টাকা-পয়সার লেনদেন করে কাগজপত্রের নাম পরিবর্তন করেছি। কিন্তু যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা কাগজ-কলমে আগের মালিকের সময়। আমি জানি, প্রতিটি শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।’

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় মোট কতটি ইটভাটা রয়েছে তার পরিসংখ্যান এই মুহূর্তে আমার হাতে নেই। আমরা নিয়মিতই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছি। চৌদ্দগ্রামেও যথাসময়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। সেখানে অবৈধ ইটভাটা থাকলে আমরা তা বন্ধ করে দেব। আর ১৩ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় সেই ইটভাটা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

advertisement