advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত দুই সহস্রাধিক

ছয় নির্দেশনা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৮ জুন ২০২২ ১১:২০ পিএম
advertisement

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আগেরদিন সকাল ৮টা থেকে গতকাল মঙ্গলবার একই সময় পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ২৯ হাজার ১৪৫ জন। এ সময় ১৩ হাজার ৪৮৯টি নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৮৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১৫.৪৭ শতাংশ। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৬৯ হাজার

advertisement 3

৩৬১ জন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

advertisement 4

এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৬৮টি। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাড়িতে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ২০০ জন। এ নিয়ে দেশে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৭ হাজার ৬৭ জন রোগী। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩.৭৫ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৬.৮৪ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১.৪৮ শতাংশ।

এদিকে দেশে করোনা সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করায় তা রোধে মাস্ক পরা, যথাসম্ভব জনসমাগম বর্জন ও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালনসহ ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে গতকাল চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিককালে সারাদেশে কোভিড-১৯ আক্রান্তের হার দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে ও জনগণের মধ্যে মাস্ক পরিধান এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে যথেষ্ট শৈথিল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে মর্মে সরকারের উচ্চমহলে আলোচনা হচ্ছে। কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির গত ১৪ জুনের সভায় গৃহীত সুপারিশ প্রতিপালনের জন্য এবং কোভিড প্রতিরোধে ছয়টি নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সচিব ও বিভাগীয় কমিশনারদের অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।

ছয় দফা নির্দেশনা হলো- ১. স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে সব গণমাধ্যমে অনুরোধ জানাতে হবে। ২. সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা, ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি প্রয়োগ করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম যথাসম্ভব বর্জন করতে হবে। ৩. ধর্মীয় প্রার্থনার স্থানগুলোতে (মসজিদ, মন্দির, গির্জা ইত্যাদি) মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ৪. জ্বর, সর্দি, কাশি বা কোডিড ১৯-এর উপসর্গ দেখা দিলে উদ্বুদ্ধ করতে হবে কোভিড পরীক্ষা করার জন্য। ৫. দোকান, শপিংমল, বাজার, ক্রেতা-বিক্রেতা, হোটেল-রেস্টুরেন্টে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় তাকে হতে হবে আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন। ৬. স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরিধানের বিষয়ে সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামরা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন।

চট্টগ্রামে আট দিনে শনাক্ত ৩৩৯

সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও করোনা সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। তিন মাস আগে শনাক্তের হার ছিল শূন্য। অথচ গত আট দিনে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৩৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার পৌঁছে গেছে প্রায় ১৪ শতাংশে। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৬টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৬৬ জন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৯৩৭টি নমুনায় ৬৬ জন রোগী শনাক্ত হয়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় কারও মৃত্যু হয়নি।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা নেই বললেই চলে। আমরা যতই সচেতন করি না কেন, মানুষ সেটা মানেন না। এই রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হচ্ছে মাস্ক পরা। এ ছাড়া করোনা ভ্যাকসিন নিলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

advertisement