advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ধীরে ধীরে জৌলুস ফিরে পাচ্ছে’

এ এইচ রাজু,অপারেশন ইনচার্জ,ব্লকবাস্টার সিনেমাস
২৮ জুলাই ২০২২ ০২:২৯ পিএম | আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২২ ০২:৫০ পিএম
এ. এইচ রাজু।
advertisement

একটি ইন্ডাস্ট্রির সফলতা নির্ভর করে সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার উপর। এখানে কেউ কেউ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি কিছুটা হলেও আলোর মুখ দেখা শুরু করেছে। গত ঈদে ‘শান’ ও ‘গলুই’ দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করেছে বলেই, ‘দিন : দ্য ডে’ এবং ‘পরান’ সিনেমার সফলতা দেখা যাচ্ছে। কারণ, দর্শক বিশ্বাস করা শুরু করেছে যে, বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে এবং দর্শকের রুচির দিকে দৃষ্টি দেওয়া শুরু করেছেন নির্মাতারাও।

যমুনা ব্লকবাস্টার সিনেমাসে টানা দুই সপ্তাহ হাঊজফুল শো প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে, যা আগামী দুই সপ্তাহ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে ব্লকবাস্টার কর্তৃপক্ষ। গত দুই ঈদের বাংলা সিনেমাগুলোর মধ্যে যাদের ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার তারা হলো ‘শান’-এর টিম এবং ‘দিন : দ্য ডে’র অনন্ত জলিল ও বর্ষা। একটি ভালো প্রযোজনাকে কাঙ্ক্ষিত দর্শকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া এবং তাদেরকে মুভি দেখতে উৎসাহিত করে তোলার মতো কঠিনতর কাজটি তারা করার চেষ্টা করেছেন এবং সফল হয়েছেন। মার্কেটিংয়ের ভাষায় যদি বলা যায় যে, একটি পণ্যকে তার কাঙ্ক্ষিত ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সেই পণ্যের উপযোগ তৈরি করে ভোক্তাদের তা গ্রহণ করতে প্রলুব্ধ করার যতগুলো বিপণন কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন, তা বর্তমান মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর কর্তৃপক্ষ করেছেন বলেই এর ফলাফল বাস্তবে দেখা যাচ্ছে।

advertisement

দর্শক খরা এবং সিনেমা হলের স্বল্পতার কারণে যেখানে নির্মাতারা আগ্রহ হারিয়েছিল সেখানে ‘দিন : দ্য ডে’ এবং ‘পরাণ’ সিনেমার সফলতা আবার নির্মাতাদের আশার আলো দেখাচ্ছে। এতে করে বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ধীরে ধীরে জৌলুস ফিরে পাচ্ছে। দর্শকরা পরিবারসহ হলে গিয়ে পরিপূর্ণ বিনোদন উপভোগে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

এই দুটি সিনেমা যদি বক্স অফিসে ফ্লপ হিসেবে গণ্য হতো, যদি দর্শকরা হলে গিয়ে ছবি দুটি না দেখতো তাহলে কার কী লাভ হতো? এই দিক থেকে ভাবলে যেসব কাদা ছোঁড়াছুড়ি চলছে তা আর হওয়ার সুযোগ থাকতো না। একটি ইন্ড্রাস্টিকে আবার তার গৌরব ফিরিয়ে দিতে এবং অর্থনৈতিকভাবে চাঙ্গা করে তোলার জন্য যে উদার মানসিকতার দরকার, তা বোধ হয় থাকা উচিত। কারণ, যদি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জৌলুশ ফেরে তবে এদেশের জনগণেরই লাভ হবে। অনেক অনেক বিনিয়োগ হবে এবং এর ফলে অধিকতর কর্মসংস্থান হবে।

‘দিন : দ্য ডে’র নায়ক এবং প্রযোজক অনন্ত জলিল নিজ উদ্যোগে সকল নায়ক-নায়িকা, সাংবাদিকদের ছবিটি দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। টিভি, পত্রিকা ও অনলাইন’র প্রায় ১০০ জন সাংবাদিক সেদিন উপস্থিত থাকলেও ফিল্মের নায়ক-নায়িকারা আশানুরূপ সাড়া দিলেন না। তাতে করে ইন্ড্রাস্টির প্রতি তাদের ভালোবাসা বা মমতার ঘাটতি কী প্রকট হয়ে উঠলো না?

অন্যদিকে, বরং অনন্ত জলিলের উদারতা, সাহসিকতা এবং আন্তরিকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই নিভু নিভু ফিল্ম ইন্ড্রাস্টিতে অনন্ত জলিলের বিনিয়োগ, শ্রম ও মেধা তাকে চলচ্চিত্র প্রেমীদের মাঝে স্মরণীয় করে রাখবে। কিন্তু যদি উল্টোটি হতো, সকল নায়ক-নায়িকারা যদি আসতেন তাহলে এই ফিল্ম ইন্ড্রাস্টির অনেক লাভ হতো।

অন্যান্য পরিচালক প্রযোজকরা নতুন ছবি রিলিজের সময় সকলকে আমন্ত্রণ জানাতে আগ্রহী হতো। শিল্পী, কলাকুশলীদের মধ্যে একাত্মতা প্রকাশ পেতো, সকল দর্শক তাদের স্বপ্নের মানুষগুলোকে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে মানসিক তৃপ্তি পেতো। সবাই মিলে বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুক। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আরেক সোনালী অধ্যায় শুরু হোক, মুখরিত হয়ে উঠুক চলচ্চিত্র অঙ্গন। পরিবারের সকলকে নিয়ে নির্মল বিনোদনের উৎকৃষ্ট স্থান হয়ে উঠুক সিনেমা হলগুলো।

advertisement