advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঐক্যবদ্ধভাবে এগোনোর পরিকল্পনা আ.লীগের

মুহম্মদ আকবর
৬ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২২ ০৮:৫৩ এএম
advertisement

বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের আন্দোলন মোকাবিলার পাশাপাশি আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। এই পরিকল্পনার সঙ্গে ১৪ দলের অন্তর্ভুক্ত শরিক দলগুলোও বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা ও প্রস্তুতি সব সময় থাকে আওয়ামী লীগ তথা চৌদ্দ দলের। এ কারণে বিশেষ সময়ের জন্য বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বিএনপিসহ ‘ছোটখাটো’ দলগুলো যে আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে একে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দিলেও পূর্ণ নজরে রাখছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও চৌদ্দ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু এমপি আমাদের সময়কে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জেলা-উপজেলায় সম্মেলন চলছে। চৌদ্দ দলেরও কর্মসূচি চলছে। সম্প্রতি নড়াইলে একটা কর্মসূচি করে এলাম। সিলেটেও কর্মসূচি ছিল; কিন্তু বন্যার কারণে স্থগিত হলো। সামনে আরও পরিকল্পনা আছে।’ নির্বাচনের জন্য বাড়তি কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য বাড়তি পরিকল্পনা নেই। আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। জনগণ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখছে। জনগণ বাকি সিদ্ধান্ত নেবে।’

advertisement

আগামী নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে চৌদ্দ দলের সবাই থাকবে। এবং সে লক্ষ্যেই আমরা কর্মসূচি পালন করছি।’

১৪ দলের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করব। তবে নির্বাচনী পরিকল্পনা এখনেই চূড়ান্ত করে ফেলা উচিত।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি আমাদের সময়কে বলেন, ‘বিএনপি আমাদের অপজিশনে আছে, তারা সরকারকে বহাল রাখার কথা তো বলবে না। তারা সরকারকে তো হটানোর কথা বলবেই। বাস্তবতা হচ্ছে, এগুলো বলতে গিয়ে তারা মাঝামাঝি কিছু ভাবে না। সব সময় নৈরাজ্য ইত্যাদি সৃষ্টি করে চলাই তাদের অভ্যাস।’ এসব বিষয় মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি জানতে

চাইলে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব সময় সব অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকে। দেখি না আন্দোলন করে কতদূর যায়। যারা অফিসের বাইরে এসে কিছু করে না। করার যোগ্যতা রাখে না। তাদের বিষয়ে লম্বা কথা বলে লাভ কী। এক্ষেত্রে মোকাবিলা শব্দটা বেশি ভারি হয়ে গেল না তাদের জন্য? যখন কোনো একটা বিষয় চূড়ান্ত পর্যায়ে যায়, তখন ভারি ভারি বিশেষণ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে। এখনই এসব বিশেষণের প্রয়োজন নেই। তারা তাদের মতো করে চলুক।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের দুইজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমাদের সময়কে বলেন, বিএনপিসহ আওয়ামী লীগের বিপরীতে যারা আছেন তাদের সব কার্যক্রমের বিষয়ে পূর্ণ নজর আছে আওয়ামী লীগের। কারও সঙ্গে বসে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করছে কিনা, এ বিষয়টিতেও আওয়ামী লীগের নজর আছে।

আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে আওয়ামী লীগ এমন উল্লেখ করে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘আন্দোলনের নামে হামলা, নৈরাজ্য, মানুষের জানমালের ক্ষতি, লাশের রাজনীতি, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা তথা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যারাই করবে তাদের তো আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব। এর জন্য আওয়ামী লীগের নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত থাকে। এর জন্য বিশেষ কোনো জায়গায় বসে ট্রেনিং নিয়ে নতুন করে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হয় না। জনগণ বিএনপির অরাজকতার মোকাবিলা করবে। জনগণকে সাথে নিয়েই আমরা এসব অরাজকতা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব। বিএনপির এক নেতা অন্য নেতাকে বিশ্বাস করে না। প্রকাশ্যে একে অন্যের সাথে মারামারি করে। সুতরাং তাদের আন্দোলনের চিত্র-চরিত্র আমাদের জানা আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা একটা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছি। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলনের ডাক একটি গতানুগতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবেই আওয়ামী লীগ বিবেচনা করছে। তেলতেলে জনগণের দল বিএনপি মাঠে কষ্ট করে আন্দোলন রচনা করবে, সেই ত্যাগী কর্মী তাদের নেই। তারা মিডিয়ার শিরোনাম হওয়ার জন্য লম্ফঝম্প করবেন এবং মনোনয়নবাণিজ্য করার জন্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। দুশ্চিন্তায় ঘুম হারাম করবেন না কাইন্ডলি।’

 

 

advertisement