advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে প্রথম ওয়ানডে
বিবর্ণ বোলিংয়ে বিব্রতকর হার

ক্রীড়া ডেস্ক
৬ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২২ ১২:১৫ এএম
advertisement

হারারে স্পোর্টস গ্রাউন্ডের ব্যাটিং স্বর্গে দাঁড়িয়ে অনুমিতভাবেই রানোৎসব করেছেন ব্যাটসম্যানরা। ব্যবধান গড়ে দিয়েছে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের পিচ্ছিল হাত। জীবন পেয়েছেন জিম্বাবুয়ের দুই সেঞ্চুরিয়ান ইন্নোসেন্ট কায়া ও সিকান্দার রাজা। বিবর্ণ বোলিং ও বাজে ফিল্ডিংয়ের খেসারত বাংলাদেশ দিল ৫ উইকেটে হেরে। ওয়ানডে সংস্করণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা ১৯ জয়ের পর পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল বাংলাদেশ।

advertisement

শুক্রবার ৩০৩ রানের পাহাড় নিয়েও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ন্যূনতম লড়াইটুকু করতে পারেনি তামিম ইকবালের দল। বিশাল লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে স্বাগতিকরা হেসেখেলেই; তারা জিতেছে ৫ উইকেট ও ১০ বল হাতে রেখেই। এতেই হলো ইতিহাস। একদিনের ক্রিকেটে এটাই জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এগিয়ে গেল স্বাগতিক দল। রবিবার একই ভেন্যুতে সিরিজ বাঁচাতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের চোখ সিরিজ জয়ে।

কুড়ি ওভারের সিরিজে ভরাডুবির দায়টা ছিল ব্যাটসম্যানদের। ‘প্রিয়’ সংস্করণে কাল অবশ্য প্রত্যাশিত ব্যাটিংটাই করেছেন তামিম ইকবালরা। ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি করেছেন টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানই। ওপেনার লিটন দাস অসুস্থ হয়ে সাজঘরে ফিরলে হয়তো ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিটাও পেতে পারতেন।

৮৯ বলে ৮১ রানে ফেরেন লিটন। তবু কমেনি বাংলাদেশের রানের গতি। লিটনের সঙ্গী ও অধিনায়ক তামিম ইকবাল আউট হন ৮৮ বলে ৬২ রানে; রাজার বলে তাকে তালুবন্দি করেন কায়া। ইনিংস খেলার পথে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ৮ হাজার রানের গ-ি ছুঁয়েছেন তামিম।

দুই ওপেনারের এনে দেওয়া মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ তিন শ’ পার করেন এনামুল হক বিজয় ও মুশফিকুর রহিম। নিজেকে হারিয়ে খোঁজা বিজয় অবশেষে গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন। ৬২ বলে ৭৩ রানে আউট হন তিনি। নিয়াউচির বলে মুসাকান্দার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বিজয়। মুশফিককে অবশ্য ফেরাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ৪৯ বলে ৫২ রানে অজেয় থাকেন মুশি। ইনিংসের শেষ দিকে ১২ বলে কুড়ি রানে অজেয় থাকেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ব্যাটসম্যানরা এনে দিয়েছেন পর্যাপ্ত সংগ্রহ। বাংলাদেশের বোলারদের শুরুটাও ছিল আশা জাগানিয়া। ৬ রানের মধ্যে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনারকে তুলে নেন মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম। ৬২ রানে স্বাগতিকদের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন ওয়েসলি মাধেভেরে। ১৯ রানে রান আউটের শিকার হন তিনি। শুরুর ছন্দটা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ।

প্রাথমিক বিপর্যয় জিম্বাবুয়ে সামাল দিয়েছে ভালোভাবেই; কায়া ও রাজার ব্যাটে প্রায় অবিশ^াস্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে স্বাগতিকরা। চতুর্থ উইকেটে দুজন গড়েন ১৯২ রানের দুর্দান্ত জুটি। এই জুটিই ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে বাংলাদেশকে। চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটাই সর্বোচ্চ জুটি জিম্বাবুয়ের। জুটি গড়ার পথে দুজনই ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেছেন। অন্যথায় ম্যাচের ফলটা অন্যরকম হতে পারতো।

জীবন পেয়ে দুজনই কাজে লাগিয়েছেন। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে সেঞ্চুরি করেছেন কায়া ও রাজা। ১২২ বলে ১১০ রানে আউট হন কায়া। তাকে ফেরান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এ ছাড়া ১৯ বলে ২৪ রানে ফেরেন লুক জঙ্গি। ততক্ষণে সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে গেছে। রাজাকে আর ফেরানো যায়নি। ১০৯ বলে ১৩৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে অপরাজিত থাকেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ : ৫০ ওভার, ৩০৩/২

জিম্বাবুয়ে : ৪৮.২ ওভার, ৩০৭/৫

ফল : জিম্বাবুয়ে ৫ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ : ৩ ম্যাচের সিরিজে জিম্বাবুয়ে ১- তে এগিয়ে।

advertisement