advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাদা বাঘশাবক জন্ম নিয়ে জিনগত গবেষণা প্রয়োজন

চট্টগ্রাম ব্যুরো
৬ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২২ ১২:৩৪ এএম
advertisement

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সাড়ে পাঁচ বছরে বাঘ রাজ ও বাঘিনী পরী জুটির চার দফায় জন্ম দেওয়া ১১টি শাবকের মধ্যে ছয়টিই সাদা, যার মধ্যে একটি মারা যায়। কিন্তু কমলা-কালো দম্পতির সাদা বাঘ জন্ম দেওয়ার বিষয়ে জিনগত গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রাণী বিশেষজ্ঞরা। তাহলে পরিকল্পতিভাবে দুর্লভ এ সাদা বাঘের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে।

advertisement

জানা যায়, ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বেঙ্গল টাইগার প্রজাতির ১১ মাস বয়সী রাজ এবং ৯ মাস বয়সী পরীকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আনা হয়। চিড়িয়াখানায় পশু সরবরাহকারী ঠিকাদার কোম্পানি ফ্যালকন ট্রেডার্সের মাধ্যমে ৩৩ লাখ টাকায় বাঘ দুটি কেনা হয়েছিল। এরপর এই দম্পতি ১১টি সন্তান জন্ম দিয়েছে। যার মধ্যে সাদা বাঘের জন্ম হয় ছয়টি। এখন জীবিত আছে ৫টি।

প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিনগত কারণে এটা হতে পারে। পূর্বপুরুষ থেকে পাওয়া জিনগত (রেসেসিভ) বৈশিষ্ট্য প্রকট হলে সাদা বাঘের জন্ম হচ্ছে; আর এই বৈশিষ্ট্য প্রচ্ছন্ন থাকলে জন্ম হচ্ছে কমলা-কালো বাঘের। তা ছাড়া বাঘের শরীরে রঞ্জক পদার্থ মেলানিন কমে গেলেও এমনটা হতে পারে। অথবা ইনব্রিডিংয়ের (পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রজনন) কারণেও সাদা বাঘের জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কিউরেটর ও চিকিৎসক ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, রাজ-পরী দম্পতির ঘরে প্রথমবার সাদা বাঘ জন্মানোর পর আমরা অনুমান করেছিলাম আরও সাদা বাঘ পাওয়া যাবে। তাই আমরা এই জুটিকে কনটিনিউ ব্রিডিং করতে দিই। এর মধ্যে ২০১৯ ও ২০২০ সালে দুবার মোট ৫টি শাবকের জন্ম দিলেও সেগুলো ছিল কমলা। এবার একসঙ্গে চারটিই সাদা। আগের সাদা বাঘটির নাম দেওয়া হয় শুভ্রা। আর নতুন জন্ম নেওয়া সাদা বাঘ ছানাগুলোর এখন নাম রাখা হয় দেশের চার নদীর নামে। তিনি বলেন, সাদা বাঘ জন্ম দেওয়ার কারণ হতে পারে ইনব্রিডিং। ইনব্রিডিংয়ের ক্ষেত্রে যে সাদা বাঘের জন্ম হয় সেগুলো তুলনামূলক দুর্বল প্রকৃতির হয়। কিন্তু শুভ্রার শক্তি অন্য বাঘগুলোর চেয়ে বেশি। এমনকি শারীরিক বৃদ্ধিও বেশি। শুভ্রার আচরণও আক্রমণাত্মক। ডা. শুভ বলেন, একসঙ্গে চারটি সাদা বাঘ পাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। চারটি শাবকই যদি বড় হয় তাহলে একসঙ্গে পাঁচটি সাদা বাঘের বিচরণ হবে পৃথিবীতে বিরল দৃশ্যের একটি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ আহসান বলেন, প্রাণীদের ত্বকে মেলানিনের তারতম্যের কারণে সাদা হয়ে থাকে। মেলানিন কম থাকলে বাঘ কমলা রঙের না হয়ে সাদা রঙের হতে পারে। আবার রেসেসিভ জিনের কারণেও হতে পারে। তিনি বলেন, কয়েকটি কারণে প্রাণী সাদা হয়ে জন্ম নিতে পারে। নির্দিষ্ট করে বলতে হলে, তাদের জিনগতভাবে পরীক্ষা ও গবেষণা প্রয়োজন আছে। তাহলে পরিকল্পিতভাবে এই দুর্লভ বাঘের সংখ্যা বাড়ানো যাবে।

advertisement