advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইউক্রেনের ঘাড়েই দোষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৬ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২২ ০১:১১ এএম
advertisement

টানা পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার সামরিক অভিযান মোকাবিলা করছে ইউক্রেন। রুশ এই আগ্রাসনের বিপরীতে নিজেকে নির্যাতিত হিসেবে উপস্থাপন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সহানুভূতি আদায়েও সচেষ্ট এই দেশটি। তবে এবার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ এনেছে মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি রাশিয়ার আগ্রাসনের সময় আবাসিক এলাকায় সৈন্য মোতায়েন করে বেসামরিক নাগরিকদের বিপদে ফেলার জন্য ইউক্রেনকে অভিযুক্ত করেছে।

advertisement

তবে, এই প্রতিবেদনকে রাশিয়ার প্রচারণা এবং বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যায়িত করেছে কিয়েভ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউক্রেন। আর এর নেতৃত্ব দিয়েছেন খোদ প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার অভিযোগ, মানবাধিকার এই গোষ্ঠীটি আগ্রাসন পরিচালনাকারীর থেকে অপরাধের দায়ভার ইউক্রেনের দিকে সরানোর চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যামনেস্টির কর্মীরা গত এপ্রিল মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণে জোরালো লড়াই চলছে এমন বেশ কয়েকটি এলাকায় পরিদর্শন করেন। সে সময় সংস্থাটির কর্মীরা কিছু জনবহুল আবাসিক এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীকে ‘ঘাঁটি স্থাপন এবং অস্ত্র ব্যবস্থাপনা পরিচালনা’ করতে দেখেছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ডকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইউক্রেনীয় বাহিনী জনবহুল এলাকায় তাদের কর্মকা- পরিচালনা করছে বলে আমরা নথিভুক্ত করেছি। এটি যুদ্ধ আইনের লঙ্ঘন এবং এই ধরনের কর্মকা- বেসামরিক নাগরিকদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।’

আর তাই ইউক্রেনীয় বাহিনীকে জনবহুল এলাকা থেকে দূরে অবস্থান করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অথবা সব বেসামরিক নাগরিককে প্রথমে ওই এলাকাগুলো থেকে সরিয়ে নিতে ইউক্রেন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ক্যালামার্ড।

অবশ্য অ্যামনেস্টির এই রিপোর্টের পরই কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি একটি ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্রকে সাধারণ ক্ষমা’ করার চেষ্টা করছে। মূলত ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ শব্দটি তিনি প্রায়শই রাশিয়ার জন্য ব্যবহার করেন।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনের জবাবে স্পষ্টভাবে উত্তেজিত হয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘এমন কোনো শর্ত নেই, এবং হতেও পারে না, এমনকি অনুমানগতভাবেও, যার অধীনে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার যে কোনো আক্রমণ ন্যায়সঙ্গত হয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে কেউ রাশিয়াকে ক্ষমা করে দেয় এবং যারা কৃত্রিমভাবে এমন একটি তথ্যের প্রেক্ষাপট তৈরি করে যেখানে সন্ত্রাসীদের কিছু আক্রমণ ন্যায্য বা বোধগম্য বলা হয়, তারা বুঝতে ব্যর্থ হতে পারে না যে, এটি করার মাধ্যমে তারা কার্যত সন্ত্রাসীদেরই সাহায্য করছে এবং যদি এই ধরনের কারসাজি রিপোর্ট তৈরি করা হয়, তা হলে তাদের (রাশিয়ার) সঙ্গে মানুষ হত্যার দায় আপনারও।’

advertisement