advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে রাতের মহাসড়ক
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

৬ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২২ ০১:১৮ এএম
advertisement

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা বেড়ে গেছে। মহাসড়কে নানা কৌশলে গাড়িতে হানা দিচ্ছে ডাকাত বা ছিনতাইকারী চক্র। ডাকাতের হামলায় প্রায়ই হতাহতের শিকার হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহনের চালক-যাত্রীরা। এমনকি ধর্ষণের শিকার হচ্ছে অনেকেই। মহাসড়কে এমন নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে চলাচল করছে লাখ লাখ চালক-যাত্রী। দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে রাতের মহাসড়ক। রাত যত গভীর হয়, ভয় আর আতঙ্ক ততই বাড়ে। বাস ডাকাতিতে লুটপাটের পাশাপাশি চলে যৌন নৃশংসতা। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা আতঙ্কিত করে তুলেছে বাসযাত্রীদের। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাতে মধুপুরে চলন্ত বাসে এক ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করে পঁচিশমাইল এলাকার রাস্তায় ফেলে দেয় আসামিরা। মামলা হওয়ার পর এ ঘটনায় চার আসামির মৃত্যুদ- ও একজনকে সাত বছরের কারাদ- দেন টাঙ্গাইল জেলা আদালত। এরপর আরও অনেক ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচারই হয়নি। এ বিচারহীনতা সড়কে অপরাধ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও চলতি বছরের শুরুতে মহাসড়কে ডাকাতির ও ধর্ষণের ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের পক্ষ থেকে ১৮ দফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশ্ন হলো কেন বাস্তবায়ন হলো না। কাদের সাথে কার যোগসাজশ আছে, কেন বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে! সেটা সঠিকভাবে তদন্ত করে বের করতে হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ ও পরিবহনের চালক এবং কর্মীদের ভূমিকাও তদন্ত করে দেখা দরকার। পুলিশের যথাযথ পদক্ষেপের অভাব, বাসের চালক-সহযোগীদের নিয়ম না মানা এবং আইন ভেঙে রাতের মহাসড়ক থেকে যত্রতত্র যাত্রী তুলে রাতের যাত্রীদের জীবন ঝুঁঁকিতে ফেলেছে।

advertisement

মোটামুটি নির্ভয়েই অপরাধ করে যাওয়া হচ্ছে। অপরাধ দমন করতে কারা ব্যর্থ হচ্ছে? কোনো সমাজে কোনো দেশেই অপরাধকে একেবারে নির্মূল করা যায় না। তবে কি অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাবে কিন্তু পুলিশ থাকবে উদাসীন; এমন অবস্থা তো জননিরাপত্তাব্যবস্থা নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার লক্ষণ। এ রকম পরিস্থিতিতে সরকারের টনক থাকলে তো তা নড়ে ওঠার কথা! এই অবস্থায় পুলিশের শক্তি ও জনবল বৃদ্ধি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এভাবে মহাসড়কে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা চলতে দেওয়া যায় না। এসব অপরাধের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় কঠোর শাস্তি দিতে হবে। এবং যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

advertisement