advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শাহাদাতে কারবালা মাহফিলে ভূমিমন্ত্রী
ইমাম হোসাইন নিপীড়িত মানুষের ভরসাস্থল প্রেরণার উৎস

৬ আগস্ট ২০২২ ১২:১৭ পিএম
আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২২ ১২:১৭ পিএম
advertisement


ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন, কারবালা ময়দানে নবী দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইনের (রা) নেতৃত্বে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পতাকাই সমুন্নত হয়েছিল। আর নরপিশাচ ইয়াজিদ অন্যায়, মিথ্যা ও জুলুুমতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে যুগে যুগে ধিকৃত হয়েই থাকবে। নবী পরিবারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ের অপরাধে ইয়াজিদের ঠাঁই হয়েছে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে। যুুগে যুগে মজলুম নিপীড়িত অধিকারবঞ্চিত মানুষের ভরসা ও প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন হজরত ইমাম হোসাইন (রা)।
গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের ৬ষ্ঠ দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আহলে বায়তে রাসূল স্মরণে নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে ১০ দিনের এ মাহফিলের আয়োজন করেছে শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও চেয়ারম্যান এবং পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আত্মশুদ্ধি ও অন্তরের পবিত্রতা ছাড়া প্রকৃত মুমিন মুসলমান হওয়া যাবে না। নিষ্কলুষ আত্মা ও চিন্তার বিশুদ্ধতাই যে কোনো আমল আল্লাহর দরবারে কবুল
হওয়ার পূর্বশর্ত। কারবালা মাহফিল আয়োজনের মাধ্যমে আমরা সুফিবাদী চেতনার পরিশুদ্ধ মানুষ তৈরির প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।
ভারত কাসওয়াসা দরবার শরিফের সাজ্জাদানশীন আল্লামা সৈয়দ আশরাফ আশরাফি আল জিলানি আস সিমনানি বলেন, সুফিবাদই ইসলামের নির্যাস। সুফিবাদি মুসলমানরাই পৃথিবীতে প্রকৃত ইসলামচর্চা জারি রেখেছে। সুফিবাদে প্রতিষ্ঠিত থাকা ছাড়া ইসলাম চর্চা আল্লাহর কাছে কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা কাযী মুঈন উদ্দিন আশরাফি বলেন, ইয়াজিদ পাপিষ্ঠ, ফাসেক ও ইসলামচ্যুত এটাই ইসলামের ফয়সালা। ইয়াজিদকে কখনো মুসলমান মনে করা যাবে না। যারা ইয়াজিদি বন্দনায় লিপ্ত তারা অবশ্যই পথভ্রষ্ট।
আল্লামা ওসমান গনি সালেহি বলেন, ওহাবি সালাফিরা ইসলামের নামে আবির্র্ভূত ভ্রান্ত দল। এরা ইসলামের প্রকৃত দর্শন ও আদর্শের বিপরীতে নিজস্ব মতবাদ প্রতিষ্ঠা করায় পথভ্রষ্ট ও ভ্রান্ত।
যুগে যুগে তাসাওউফ চর্চায় আহলে বায়তের ভূমিকা বিষয়ে আলোচনা করেন হালিশহর তৈয়বিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা বদিউল আলম রিজভি।
সভাপতির বক্তব্যে ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কারবালা মানেই অন্যায় অসত্যের বিরুদ্ধে আদর্শিক সংগ্রামের নাম। কারবালার চেতনায় দেশ ও সমাজে বিরাজমান অন্যায় অরাজকতা রুখে দেওয়ার শপথ নিতে হবে। কোরআন তেলাওয়াত করেন বিশ্বনন্দিত কারি শায়খ আহমদ নায়না ও আহমদ বিন ইউসুফ আল আজহারী।
মাহফিলে অতিথি ছিলেন লালখানবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মুহাম্মদ বেলাল, ছোবহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ হারুনুর রশীদ, পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম রিংকু, মাহফিল প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা জালালুদ্দিন আলকাদেরী (রহ)-এর সন্তান ব্যারিস্টার আবু সাঈদ মুহাম্মদ কাশেম, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক আহমদুল হক, হাজী ইয়াকুব ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক মুহাম্মদ জহিরুল আলম, সমাজসেবক আহসানুল করিম, রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. আবদুল মাবুদ।
আনজুমান-এ-রহমানিয়া আমমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মহসিন, মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলী হোসেন সোহাগ, মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মুহাম্মদ লুমাইর মিজান আমীর, জাফর আহমদ সওদাগর, খোরশেদ আলী চৌধুরী, মুহাম্মদ নাজিব আশরাফ, মুহাম্মদ জহির উদ্দিন, সৈয়দ শরফুদ্দীন, মুহাম্মদ সোলাইমান, মুহাম্মদ ফরিদ মিয়া ও আবদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তা ও সদস্যরা মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।

 

advertisement
advertisement