advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাবা-ভাইয়ের পর চলে গেলেন সামিরাও

সমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি
৬ আগস্ট ২০২২ ০৯:৩৪ পিএম | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২২ ০৯:৩৭ পিএম
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ইনসেটে সামিরা)। ছবি: সংগৃহীত
advertisement

সিলেটের ওসমানীনগরে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী পরিবারের পাঁচ সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের দিনই মারা যান রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাইকুল ইসলাম। এর ১১ দিন পর মারা গেলেন রফিকুলের একমাত্র মেয়ে সামিরা ইসলাম (২০)।

শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। সামিরা এতদিন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি ছিলেন। মৃত্যুর  বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাঈন উদ্দিন।

advertisement

এদিকে গত বুধবার সামিরার মা হোসনে আরা বেগম ও ভাই সাদিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে তারা তাজপুরের সেই ভাড়া বাসায় ওঠেন। তারা বাসায় ফেরার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।  

মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ওই বাসার ভেতরে জেনারেটর ছিল। ঘটনার রাতে দীর্ঘক্ষণ জেনারেটর চালু থাকায় ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে না পেরে দম বন্ধ হয়ে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এখনো নিশ্চিত হয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। জেনারেটরের ধোঁয়া সংগ্রহ করে ফায়ার সার্ভিসের কাছে পাঠানো হয়েছে।

গত ১২ জুলাই রফিকুল ইসলাম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেন। ঢাকায় এক সপ্তাহ থেকে ১৮ জুলাই তারা তাজপুর স্কুল রোডের ওই ভাড়া বাসায় ওঠেন। ২৫ জুলাই রাতের খাবার খেয়ে স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেদের নিয়ে একটি কক্ষে রফিকুল এবং অপর দুটি কক্ষে শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী ও শ্যালকের মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ‘৯৯৯’নম্বরে ফোন দেন রফিকুলের শ্যালক দিলওয়ার। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ওসমানীনগর থানার পুলিশ দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রফিকুল ইসলাম ও তার ছোট ছেলে মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্ত্রী হোসনে আরা, বড় ছেলে সাদিককুল ইসলাম ও একমাত্র মেয়ে সামিরা ইসলামকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। রফিকুলের স্ত্রী ও ছেলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ১১ দিন অচেতন অবস্থায় লাইিফসাপোর্টে ছিলেন সামিরা।  

advertisement