advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মোহনগঞ্জে ‘ভুয়া কাগজ’ বানিয়ে বিধবার জমি দখলের চেষ্টা

ইন্দ্র সরকার, মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা)
৮ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৮ আগস্ট ২০২২ ০১:১৬ এএম
advertisement

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান গ্রামের এক অসহায় নারী সাবিত্রী রানী সরকার। ৫০ পেরোনো এই নারীর জীবনের গল্পটা দেড় যুগ আগেও ছিল সুন্দর। স্বামী সুবাস রঞ্জন সরকার ও দুই মেয়ে নিয়ে বেশ আনন্দেই কাটছিল তাদের জীবন-সংসার। স্বামীর প্রয়াণের পর দুই মেয়ে নিয়ে সাবিত্রী রানীর অনিশ্চিত জীবন শুরু হয়। আয়-রোজগার না থাকায় ২০১৩ সালে স্বামীর রেখে যাওয়া ১ একর ৩৯ শতাংশ জমি তিন বছরের জন্য বন্ধক দেন মাত্র ৪৫ হাজার টাকায়। এরপর থেকে ওই জমি আর তার অধীনে আসেনি। ‘ভুয়া কাগজ’ বানিয়ে তার জমি দখলের অপচেষ্টা করছে

advertisement

একটি মহল। দখলদাররা হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এ ছাড়া তার নামে মামলা দেওয়ায় উল্টো থানা ও আদালতে হাজির দিতে হচ্ছে তাকে।

advertisement 4

সাবিত্রী রানী সরকার জানান, তিনি একসময় স্বামীর বাড়ি মানশ্রী গ্রামে থাকতেন। তার জমি ও পুকুরটি ওই গ্রামে। দুই মেয়ে নিয়ে দিনাতিপাত করতে না পারায় স্বামীর রেখে যাওয়া ১ একর ৩৯ শতাংশ জমি মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে মির্জা সাবাজ মিয়ার কাছে তিন বছরের জন্য ৪৫ হাজার টাকায় বন্ধক দেন। বন্ধকের টাকা চাইতে গেলে একপর্যায়ে ১০ হাজার দেন সাবাজ মিয়া। বাকি টাকা নিয়ে কালক্ষেপণ করেন। কিন্তু আর কোনো টাকা দেননি। একপর্যায়ে কোনো উপায় না পেয়ে অন্যত্র জমি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু মির্জা সাবাজের বন্ধকের সময়সীমা পার হয়ে গেলেও তিনি আর জমি দখল ছাড়েননি। তৈরি করেন ‘ভুয়া’ বন্ধকের কাগজ। একপর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ ও থানা পর্যায়ে ভুয়া প্রমাণিত হওয়ার পর অন্য কূটকৌশল শুরু করেন মির্জা সাবাজ মিয়া। তার নিকটাত্মীয় মো. আসাদ তালুকদার সাবিত্রী রানীর স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া ‘ভূমি বিক্রির বায়নাপত্র চুক্তিনামা’ তৈরি করেন। এতে উল্লেখ করা হয় সাবিত্রী রাণীর পুরো জমির মূল্য বাবদ ১৫ লাখ টাকায় কেনার জন্য তিনি ৫ লাখ টাকা বায়না করেছেন। এ ছাড়া তার নামে আদালতে মামলাও করা হয়।

জানা গেছে, ভুয়া কাগজ করায় এ মামলায় সাক্ষীরা আদালতে আসছেন না। ফলে মো. আসাদ তালুকদার ও মির্জা সাবাজ মিয়া নীরবে আপস মীমাংসা করার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সাবিত্রী রানীর কাছে যাচ্ছেন। অন্যদিকে জমির পাশে কেউ আসলে তাদের এলাকাছাড়া করার হুমকিও দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মোহনগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিমল পাল লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন জানিয়ে বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইচ্ছা করলেই বিষয়টি মীমাংসা করতে পারেন। অভিযোগের বিষয়ে মির্জা সাবাজ মিয়া বলেন, টাকা দিয়ে জমি বন্ধক নিয়েছি, টাকা ফেরত দিলেই জমি ছেড়ে দেব।

মো. আসাদ তালুকদার ভুয়া ভূমি চুক্তিনামার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি সমাধান করতে আমি সবরকম চেষ্টা করছি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মুখলেছুর রহমান জানান, বন্ধকীর সুবাদে সরকার সাবাজ ও আসাদরা জমি ভোগদখল করে খাচ্ছেন। সাবিত্রী রানী থানার শরণাপন্ন হলে তদন্তসাপেক্ষে ফৌজদারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

advertisement