advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এক সপ্তাহে বসতভিটা হারিয়েছে ১৫ পরিবার

পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তায় ভাঙন

মিজানুর রহমান মিজু লালমনিরহাট
৮ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৮ আগস্ট ২০২২ ০১:১৬ এএম
advertisement

লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। চোখের সামনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি। মাথা গোঁজা ঠাঁই হারিয়ে দিশাহারা তিস্তাপারের মানুষ। গত এক সপ্তাহে প্রায় ১৫টি বসতভিটাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

advertisement

জানা যায়, চলতি বর্ষায় ভয়াবহ বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ভাঙন আতঙ্কে পড়েন তিস্তাপারের বাসিন্দারা। গত সপ্তাহে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই শুরু হয় তীব্র ভাঙন। এক একটি পরিবার ৫-৬ বারও নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। আবারও তারা বসতভিটা সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ ঘর নেওয়ার জায়গা না পেয়ে রাস্তার ধারে বা বাঁধের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

advertisement 4

গত এক সপ্তাহে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের খামারটারী ও পূর্ব কালমাটি গ্রামের প্রায় ১৫টি বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে চোংগাডারা উচ্চ বিদ্যালয়, খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, খুনিয়াগাছ উচ্চ বিদ্যালয়সহ নানান প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা। নদীর কিনারে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে চোংগাডারা উচ্চ বিদ্যালয়ের

নির্মাণাধীন চার তলা ভবনসহ শতাধিক বসতবাড়ি।

পূর্ব কালমাটি গ্রামের মৃত খোরশেদের স্ত্রী মিনু বেওয়া আগেও তিনবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে অন্যের জমি ৩০ হাজার টাকায় বন্দক নিয়ে তিনটি ঘর করে দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। সেই বসতভিটাও আবার বিলীন হয়েছে। জমি নদীতে চলে যাওয়ায় বন্দকের ৩০ হাজার টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না জমির মালিক। টাকার অভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে পারছেন না তিনি। স্থানীয়দের সহায়তায় ও নিকটাত্মীয় স্বজনদের দিয়ে গত শুক্রবার ঘর তিনটি সরিয়ে পাশের একজনের জমিতে রেখেছেন। নতুনভাবে বাড়ি করার কোনো উপায় না পেয়ে দিশাহারা মিনু বেওয়া।

মিনু বেওয়া বলেন, চারবার ঘরবাড়ি সরাতে গিয়ে সহায়-সম্বল শেষ করেছি। এখন ঘর খুলে অন্যের জমিতে রেখেছি। রাতে কোথায় থাকব জানি না। এক সময় নিজের অনেক জমি ছিল। এখন দাঁড়িয়ে থাকার মতো কোনো জমিও নেই। টাকা ছাড়া মিলে না জমি। এখন আমি কোথায় যাব।

পাশের গ্রাম খামারটারীর আছিবি, সোনাবি, আকলিমা বলেন, রাতে ঘুমাতে পারি না। কখন যে ঘরবাড়ি নদীতে ভেঙে যায়! আতঙ্কে ঘুম নেই। রিলিফ নয়, আমাদের দাবি সরকার দ্রুত নদীভাঙন বন্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা করুক।

শুধু খামারটারী আর পূর্ব কালমাটি নয়। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন তিস্তার বামতীর ঘেঁষা প্রতিটি গ্রামের মানুষ। এসব মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি তিস্তা নদী খনন করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের। যাতে অনাবাদি থাকা তিস্তার বুকের হাজার হাজার বিঘা জমি চাষাবাদের আওতায় আসে। এসব জমি চাষাবাদ করে সংসার চালাতে চান তারা।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, পাঁচটি উপজেলা নদী বেষ্টিত হলেও এবারে তিস্তার ভাঙনটা সদর উপজেলায় কিছুটা বেশি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলমান রয়েছে। কিছু কিছু স্থানে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হয়েছে। বাকিগুলোও কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

advertisement