advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উপহারের ঘর দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
৮ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৮ আগস্ট ২০২২ ০৯:৫২ এএম
advertisement

হালুয়াঘাটে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়ার নামে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে গত ২৭ জুলাই ও ২ আগস্ট জেলা প্রশাসক বরাবর ৯ ভুক্তভোগী পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক পরিচয়দানকারী উত্তর বাজারের মো. শাহআল, ধারাবাজারের মফিদুল ইসলাম, আমির হামজা স্বাধীন, মোকাররম হাসেন, শিমুলসহ বেশ কয়কজন।

advertisement

অভিযোগে জানা যায়, তিন মাসের মধ্যেই নির্মাণ করে দেওয়া হবে উন্নতমানের টয়লেটসহ তিন কক্ষবিশিষ্ট প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকাঘর- এমন প্রলোভন দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সহজ-সরল দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে জনপ্রতি গ্রহণ করা হয় ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। এসব টাকা উত্তোলনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় ৩০ নারী সোর্স। সোর্সের কাছ থেকেও নেওয়া হয়েছে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা।

advertisement 4

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ভূমিহীনদের জমিসহ ঘর প্রদান কার্যক্রম চলমান। তবে কালক্ষেপণ করায় ভুক্তভোগীরা চক্রটিকে ঘর দিতে চাপ সৃষ্টি করে। তখন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে কর্মকর্তা সাজিয়ে সরেজমিনে পাঠানো হয়। তিনি তদন্ত শুরু করেন ভুক্তভোগীদের ঘর। সেখানেও তদন্তের নামে নেওয়া হয় জনপ্রতি দুই হাজার টাকা। এভাবে চক্রটি অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী ধুরাইল ইউনিয়নের ঝাউগড়ার শাহানাজ আক্তার, হান্নান, তুলা মিয়া, একই ইউনিয়নের মাইজপাড়ার আবদুর রশিদ, নড়াইল ইউনিয়নের কাওয়ালীজানের শফিকুল ও তার স্ত্রী বলেন, হালুয়াঘাট উত্তর বাজারের সাংবাদিক পরিচয়ধারী শাহআলম, চাদশ্রী গ্রামের আমির হামজা স্বাধীন ও ধারা বাজারের হোন্ডামিস্ত্রি মফিজুল ইসলাম গিয়ে সাত লাখ টাকার ঘর দেওয়া হবে এমন প্রতিশ্রুতি আর প্রলোভন দেখান। পরে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নিয়ে চলে আসেন।

ঘর দেওয়ার কথা বলে উপজেলা সদরের মনিকুড়ার মিশন স্কুল রোডের দুদু মিয়ার স্ত্রী শহরবানুর কাছ থেকে ২২ হাজার ৬০০ টাকা, স্বদেশি উত্তরপাড়ার চঁনবানুর কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা, মাসাইল গ্রামের আবদুর রশিদের পুত্র নজরুলের কাছ থেকে ৩৪ হাজার টাকা, পূর্ব শাকনাইট গ্রামের মজিবরের দুই ভাইয়ের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, স্বদেশি উত্তরপাড়ার কুদ্দুস ভুইয়ার কাছ থেকে ৩৫ হাজার ৫০০, একই গ্রামের এরশাদের স্ত্রী হেলেনার কাছ থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু গত প্রায় তিন বছরে তারা ঘর-টাকা কোনোটাই পাননি।

হালুয়াঘাট ধান ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হুমায়ূন কবির মানিক বলেন, শুধু ঘর নয়, এর বাইরেও অনেক ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। আমতৈল ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়ার নামে টাকা নিয়েছে একটি চক্র। এ ধরনের বেশ কয়েকটি অভিযোগ ইউনিয়ন পরিষদে জমা আছে বলেও জানান তিনি।

এ সব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি অধিকাংশ অভিযুক্ত। অভিযুক্ত শাহআলম টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, টাকা নিয়েছি এর কোনো প্রমাণ নেই।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. এনামুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নিয়ে কেউ প্রতারণায় জড়িত থাকলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

advertisement