advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো গ্রীষ্মকালীন মিলনমেলা

দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিনিধি
১১ আগস্ট ২০২২ ০৯:০৪ পিএম | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২২ ০৯:০৪ পিএম
দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো গ্রীষ্মকালীন মিলনমেলা। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটন এলাকা গাংউয়ন প্রদেশের অনুষ্ঠিত হলো চতুর্থ ইপিএস বাংলা গ্রীষ্মকালীন মিলনমেলা ২০২২। দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সকল দেশের অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিলনমেলায় লাল সবুজের মানব পতাকা তৈরি করে এক অনন্য নজির ও রেকর্ড স্থাপন করেছে ইপিএস বাংলা কমিউনিটি ইন কোরিয়া।

সম্প্রতি নাকসান ও হাজেদো সমুদ্র সৈকতে এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ‘আমরা একা নই, আমরা শক্তি, আমরা সমষ্টি’ এই স্লোগানে এই সংগঠনটি কোরিয়ায় বাংলাদেশিদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করে আসছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন জেলা ও শহর থেকে ৩২টি বাস ও ১৩ টি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ১ হাজার ৫৪২ জনেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি এই মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন পরে অবিস্মরণীয় আয়োজনে যুক্ত হতে পেরে প্রবাসীরা আনন্দ, খোশগল্পে মেতে ওঠেন তারা। সেদিন ভিনদেশি সমুদ্র পাড়ে মিলনমেলাটি এক টুকরো লাল সবুজের বাংলাদেশে পরিণত হয়।

advertisement 3

মিলনমেলায় অংশ নেয় অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি পরিবার। কর্মসূচির মধ্যে ছিল সংগীত পরিবেশনা, ফটো ও ভিডিও কনটেস্ট প্রতিযোগিতা, ধাঁধা, কুইজ, রাফেল ড্র, আঞ্চলিক কৌতুক, প্রবাস জীবনের নানা অনুভূতি ও সেরা সুদর্শনের প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন। এছাড়াও অংশগ্রহণকারী সবাইকে বিভিন্ন ধরনের উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

advertisement 4

নুর আলম মোল্লা ও সুমি বড়ুয়ার প্রানবন্ত সঞ্চালনায় দুপুরে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সমগ্র বিশ্বের শান্তি কামনা করে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত পাঠ করেন মোহাম্মদ আরিফ রেজা ও পবিত্র গীতা পাঠ করেন হিমু মন্ডল। এরপর জাতীয় সংগীত শুরু করার আগে লাল ও সবুজ টি-শার্ট পরিহিতদের জাতীয় পতাকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে মানব পতাকা সৃষ্টি করার অনুরোধ জানানো হয়। প্রিয় মা, মাটি ও দেশকে ভালোবেসে নাকসান সমুদ্র পাড়ে দেড় সহস্রাধিক বাংলাদেশি একত্রে জাতীয় সংগীত গাওয়ার দৃশ্য সত্যিই এক অসাধারণ আনন্দানুভূতি তৈরি হয়। এ সময় বাংলাদেশিদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে দক্ষিণ কোরিয়ার মাটি।

আজকের এই মিলনমেলা বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের গর্ব,যা সারা বিশ্ব দেখবে জানিয়ে উপস্থিত সকল প্রবাসীদের উদ্দেশ্য করে ইপিএস বাংলার সভাপতি কামরুল হাসান রাজ বলেন, আপনারা রিপ্রেজেন্টস করছেন লাল সবুজের বাংলাদেশকে। সবাইকে একসঙ্গে দেখে অবাক ও আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি সমস্বরে বলেন,এই মুহূর্তে আমার শরীরের লোম দাঁড়িয়ে গেছে, শিহরণ জেগে উঠেছে শরীরে। ইপিএস বাংলার উপদেষ্টা ফজলুর রহমান বলেন,আমাদের প্রত্যেকটি অনুষ্ঠান ও মিলনমেলায় আল্লাহ রহমত ও বরকত দেয় বলে আমরা প্রতিবার সফল হই।

পরে কোরিয়ান জাতীয় সংগীত এক স্বরে গাওয়ার পর বিশিষ্ট শিল্পী খান ভাইয়ের মনোমুগ্ধকর গান সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশের শিল্পী মো. খান, সুমি বড়ুয়া, নওশাদ ফেরদৌস, মাহিম মন্ডল হিমু, হাসান মজুমদার, এসকে সালেক, লাকি ডিজে, উজ্জ্বল হাওলাদার।

পাজু, ইনছন,গিম্পু ও অন্যান্য এলাকা থেকে আসা মো. রাসেল, মো. শিবলু, মো. ইমরান হোসেন ও মেহেদী হাসান বলেন, মিলন মেলায় এসে সবার সঙ্গে দেখা হয়ে খুবই ভালো লাগছে। গিম্পু থেকে আসা নবাগত ইপিএস কর্মী মাসুদ রানা বলেন, ‘আমি প্রথম বাংলাদেশিদের সঙ্গে এই ধরনের মিলনমেলায় আসতে পেরে আনন্দিত ও গর্বিত হয়েছি।’

উপস্থিত সকল প্রবাসীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান, ইপিএস বাংলার সম্পাদক নয়ন কুমার দে, মিলনমেলার সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক ফারুক আহমেদ ও প্রধান সমন্বয়ক আশিকুন নবী রাসেল। পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল জিএমই রেমিট্যান্স, বিডি হাউজের রাসেল বিন সোলাইমান, অরোরা বিডি টেলিকমের তরিকুল ইসলাম আপন, ইজিফুড, মাই ট্রিপস কোরিয়া ও এস এন ফুড।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফজলুর রহমান, মিলন হোসাইন, ইমরান বাদশা, সাইফুল ইসলাম, ইসমাইল হোসাইন, ফরহাদ হোসাইন, মোহাম্মদ আনিস, মো. সুমন, নুর আলম মোল্লা, সাজ্জাদ হোসাইন, আব্দুর রশিদ, আলম সিদ্দিক বাবু, পুষ্পক কুমার, শামসুল আলম, শাহ আলম, বিপ্লব হাসান, মো. মালেক, মো. ফরিদ,মিনহাজুল আবেদীন, মৃদুল সোম, অহিদুর রহমান, আতাউর রহমান, ইউসুফ রিপন, সালেহ আকরাম, জিলানী সরকার, হিমেল আকরাম, আমিনুল ইসলাম, জাকির হোসাইন, আজিজুল হক, শেখ টুটুল ও সিরাজুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

advertisement