advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মূল্যবৃদ্ধির চাপে বিপর্যস্ত জনগণ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের আরও বিচক্ষণ পদক্ষেপ প্রয়োজন

১৩ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২২ ১২:০৭ এএম
advertisement

জ্বালানির সঙ্গে জনজীবনের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। এর মূল্য বৃদ্ধির ফলে ভোক্তা হিসেবে নাগরিকদের চড়া মূল্য শোধ করতে হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, অচিরেই মূল্যস্ফীতি ডবল ডিজিটে পৌঁছাবে। নিম্নআয়ের মানুষ ইতোমধ্যেই দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাজারের গতিপ্রকৃতি দেখে বোঝা যাচ্ছে মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তও এ বিপর্যয় এড়াতে পারবে না। বাজার অর্থনীতিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ কম, কিন্তু নিত্যপণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখা ও উৎপাদনে ধারাবাহিকতা রক্ষায় সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকার যদি বাজারের সঙ্গে গা ভাসিয়ে চলে তা হলে নাগরিকদের ভোগান্তি কমানোর উপায় থাকবে না। বাজারের হাতে সবাই অসহায় হয়ে পড়বেন। আমরা মনে করি এ পর্যায়ে সরকারের আরও দূরদর্শী ও জনবান্ধব নীতি ও পরিকল্পনা প্রয়োজন।

advertisement 3

বাজারের মতোই আর্থিক খাতেও সরকারের নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হয় না। বর্তমান সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল বাইশ হাজার কোটি টাকার মতো। সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল এটি কমিয়ে আনা। কিন্তু গত বারো বছরে খেলাপি ঋণে বাংলাদেশ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সোয়া লাখ কোটি টাকার মতো। দেখা যাচ্ছে সরকারের গৃহীত কোনো উদ্যোগই সফল হয়নি। জ্বালানি তেল এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতেও এই সরকারের আমলে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ। ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি এবং দ্রব্যমূল্য লাগামছাড়া অবস্থায় রয়েছে। এই পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। করোনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ববাজারেও পড়েছে। তার বাইরে বাংলাদেশ থাকবে না। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো সরকারি নীতি ও পরিকল্পনার অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। আমরা মনে করি সংকট উত্তরণের জন্য নীতি-পরিকল্পনায় আরও সৃজনশীলতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। দেশে ডলারের সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। খোলাবাজারে ডলারের মূল্য ১২০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটি স্মরণকালে সর্বোচ্চ। পাচার এবং হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব যে এতে নেই তা বলা যাবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেরিতে হলেও এ ব্যাপারে কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বস্তুতপক্ষে অর্থনৈতিক চাপ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বিচ্ছিন্ন কিছু পদক্ষেপের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও কৌশল প্রণয়ন জরুরি। ব্যবসায়ে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা এবং উৎপাদনের বৈচিত্র্য ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। বর্তমান সময় বিশ্ব এবং দেশের জন্য একটা গভীর সংকটকাল। তাই ভবিষ্যৎমুখী চিন্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা আশা করব সরকার সেই পথে চলবে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে জনগণের দুর্ভাবনা দূর করতে সক্ষম হবে।

advertisement 4
advertisement