advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তাদের আলোয় আলোকিত চলচ্চিত্র

ফয়সাল আহমেদ
১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২২ ০৯:২২ এএম
advertisement

আজ দেশীয় চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল দুই নক্ষত্রের জš§দিন। তারা হলেন পরিচালক আমজাদ হোসেন ও চিত্রনায়ক জসিম। আমজাদ হোসেন ১৯৪২ সালে জামালপুরে এবং জসিম ১৯৫০ সালের এই দিনে ঢাকার নবাবগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। জসিমের পুরো নাম আবুল খায়ের জসিম উদ্দিন। ১৯৭২ সালে ‘দেবর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তার। আমাদের আজকের আয়োজন এই দুই তারকাকে নিয়ে। লিখেছন- ফয়সাল আহমেদ

আমজাদ হোসেন ও জসিমের জন্মদিন : আমজাদ হোসেন একাধারে অভিনেতা, লেখক, গীতিকার ও পরিচালক। তিনি কর্মজীবনে ১২টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ৬টি বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেছেন। ১৯৬১ সালে ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে অভিনয় দিয়ে রুপালি জগতে তার আগমন। পরে চলচ্চিত্র পরিচালনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর মারা যান। আমজাদ হোসেনকে নিয়ে চলচ্চিত্রে তার সহকর্মী এবং বেশ কয়েকজন তারকার সঙ্গে কথা হয়। তাদের বেশির ভাগই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার সিনেমায় সবচেয়ে বেশি অভিনয় করা অভিনেতা আলমগীর। তিনি বলেন, ‘তাকে নিয়ে অনেক স্মৃতি, অনেক ঘটনা মনে পড়ছে। যেগুলো বলতে কয়েক বছর লেগে যাবে। তাই এসব এখন বলতে চাই না। শুধু বলব, আমরা আমাদের চলচ্চিত্রের আড্ডাগুলোতে তাকে মিস করি। সিনেমার আলোচনায় তিনি যখন উপসংহার টানতেন, তখন বুঝতাম আমরা এখনো চলচ্চিত্র সম্পর্কে কতটা মূর্খ। আমাদের জ্ঞান দেওয়ার মতো এমন একটা মানুষ আর হয়তো পাব না।’ আমজাদ হোসেনকে সবচেয়ে প্রিয় পরিচালক মন্তব্য করে তার আলোচিত চরিত্র ‘গোলাপি’খ্যাত দেশবরেণ্য অভিনেত্রী ববিতা। তিনি বলেন, ‘কত স্মৃতি যে আছে আমজাদ ভাইয়ের সঙ্গে, কোনটা থেকে কোনটা বলব! তার অনেক ছবিতে অভিনয় করেছি। তার পরিচালিত আমার অনেকগুলো সিনেমা জনপ্রিয়। তার মতো এমন জিনিয়াস মানুষ আমি জীবনে খুব কম পেয়েছি। সারা বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষের গল্প গোলাপী এখন ট্রেনে। যে সময় ছবিটি মুক্তি পায় সে সময়ের প্রতিটি গ্রামবাংলার মানুষের গল্প ছিল এটি। ছবির প্রত্যেকটা সংলাপ কী যে অসামান্য ছিল, ভাবতেও ভালো লাগে এখন। সে সময় তো অফিস-আদালতেও গোলাপী এখন ট্রেনের সংলাপগুলো মানুষ বলে বেড়াত।’ একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুইবার অগ্রণী শিশুসাহিত্য পুরস্কার ও ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কার লাভ করেন।

advertisement

পুরো নাম আবদুল খায়ের জসিম উদ্দিন। যাকে ভালোবেসে এ দেশের সবাই জসিম বলে ডাকেন। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম অ্যাকশন দৃশ্যের প্রবর্তক অভিনেতা ও সফল প্রযোজক। তবে সব কিছু ছাপিয়ে যায় তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়। ১৯৭৩ সালে প্রয়াত গুণী পরিচালক জহিরুল হকের পরিচালনায় ঢাকার প্রথম অ্যাকশন দৃশ্য সংবলিত চলচ্চিত্র ‘রংবাজ’ (১৬/০১/১৯৭৩) ছবিতে ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। অবশ্য তার ক্যামেরায় প্রথম দাঁড়ানো ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া শেখ লতিফ পরিচালিত ‘দেবর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। স্বাধীনতার পর আধুনিক বাংলা চলচ্চিত্রকে এগিয়ে যাওয়ার পেছনে জসিমের অবদান লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে। ‘ফাইটিং গ্রুপ’-এর শুরুটা হয়েছিল এই জসিমের হাত ধরেই। আমান, মাহাবুব খান, আমিন ও জসিম মিলে প্রথম তৈরি করেছিলেন জ্যাম্বস ফাইটিং গ্রুপ। যার শুরু ওই ‘রংবাজ’ ছবিতে অ্যাকশন দৃশ্যগুলো সফলভাবে পরিচালনার মাধ্যমে। পরে অনেক ফাইট ডিরেক্টর ও স্ট্যান্টম্যানও জসিমের ছাত্র ছিলেন। জসিম পর্দায় এসেছিলেন দুই ধাপে। প্রথম ধাপে তিনি ছিলেন ভয়ংকর মন্দ চরিত্রে আর দ্বিতীয় ধাপে ছিলেন নায়ক চরিত্রে। নায়ক হয়ে প্রথম ছবি ছিল ফখরুল হাসান বৈরাগী পরিচালিত ‘মোকাবেলা’ (২২/০২/১৯৮০), তার নায়িকা ছিলেন সামিনা। নায়ক জসিম আর ভিলেন জসিম, দুই সফল অধ্যায়ের নাম। ভিলেন জসিম যেমন সব দর্শকের ভালোবাসায় সিক্ত ছিলেন তেমনি নায়ক জসিমও ছিলেন সমস্ত দর্শকদের মণিকোঠায়। ‘দোস্ত দুশমন’ বা ‘আসামি হাজির’ ছবির ভয়ংকর ডাকু ধর্মার যেমন তিনি, ঠিক তেমনই ‘সবুজ সাথী’ বা ‘সারেন্ডারে’ করা দায়িত্বশীল ভাই এক নিঃস্বার্থ প্রেমিকের সফল চরিত্রের নাম। আশির দশক তো বটেই নব্বই দশকেও যখন সালমান-সানী-আমিন-নাঈমদের দাপট তখনো একজন জসিম সমানভাবে দিয়ে গেছেন একের পর এক সব জনপ্রিয় ছবি। জীবদ্দশায় একটিবারও তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত না করা হলেও তার মৃত্যুর পর তার সম্মানে এফডিসির সর্ববৃহৎ ২ নম্বর ফ্লোরকে জসিম ফ্লোর নামকরণ করা হয়। জসিম ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মারা যান।

advertisement 4

 

 

 

advertisement