advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নারায়ণগঞ্জ ও পেকুয়ায় কিশোর গ্যাং-কাণ্ড
ভাইরাল টেনশন গ্রুপের অস্ত্র চালানোর ভিডিও

হামলায় মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার ও এমরান আলী সজীব, নারায়ণগঞ্জ
১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:১৫ এএম
advertisement

এবার নারায়ণগঞ্জে কিশোর গ্যাং টেনশন গ্রুপের অস্ত্র চালানোর একটিসহ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার (১২ আগস্ট) বিকালের পর ভিডিওগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলোতে দেখা যায়Ñ টেনশন গ্রুপের লিডার রাইসুল ইসলাম সীমান্ত পিস্তল ও গুলি নিয়ে গানের সঙ্গে নাচানাচি করছে। আরেক ভিডিওতে দেখা যায়, তারা কয়েকজন মিলে এক যুবককে তাদের কার্যালয়ে ধরে নিয়ে এসেছে।

এদিকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়ায় কিশোর গ্যাং লিডার তারাউল ইসলাম আইমনের সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন মাদ্রাসাশিক্ষার্থী মামুনুর রশিদ। শুক্রবার (১২ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের মালেকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা মামুনুরকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। তিনি বারবাকিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের ছাত্র ও উজানটিয়া ইউনিয়নের মালেকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে আহত মামুন থানায় এজাহার জমা দিয়েছেন। হামলাকারী তারাউল ইসলাম আইমন উজানটিয়া ইউনিয়নের মালেকপাড়ার দিনমজুর রমিজ উদ্দিনের ছেলে।

advertisement

গত ৬ আগস্ট রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকা থেকে টেনশন গ্রুপের প্রধান সীমান্তসহ ওই গ্রুপের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১১। তাদের তল্লাশি করে একটি ছোরা, দুটি সুইচগিয়ার চাকু, দুটি সাধারণ ছোরা এবং দুটি লোহা ও স্টিলের পাইপ উদ্ধার করলেও কোনো পিস্তল পায়নি। পরদিন র?্যাব ওই সাতজনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা এখনো জামিন পায়নি। এদিকে টেনশন গ্রুপের ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তা না হলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জামিনে বেরিয়ে এসে এসব অস্ত্র নিয়ে আবারও জনমনে ভয়ভীতি দেখানোসহ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করতে পারে।

advertisement 4

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এসআই মোখলেসুর রহমান বলেন, ওই সাতজনের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহেই চার্জশিট দেওয়া হবে। তারা বর্তমানে জেলহাজতে আছেন বলে জানান তিনি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মশিউর রহমান আমাদের সময়কে জানান, ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া অস্ত্র চালানোর ভিডিওটি আমরা হাতে পেয়েছি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কাজ চলছে। কোনো রকম সন্ত্রাসী কর্মকা- আমরা বরদাশত করব না।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল জানান, শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে। সেটি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। আশা করছি খুব দ্রুতই অবৈধ অস্ত্রটি উদ্ধার করা যাবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার টেনশন গ্রুপের প্রধান রইসুল ইসলাম সীমান্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শফিকুল ইসলামের ছেলে। শফিকুল ইসলাম বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঝুড়ি প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। সীমান্তর নেতৃত্বাধীন কিশোর গ্যাং টেনশন গ্রুপের রয়েছে শতাধিক সদস্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, এই গ্রুপের প্রতিটি সদস্যই বেপরোয়া। তারা এলাকায় সবসময়ই ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করে। প্রায়ই বিভিন্ন জনকে অহেতুক মারধর করে। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। স্থানীয়রা আরো জানান, এই গ্রুপের বিভিন্ন সদস্যর বিরুদ্ধে অতীতেও অনেক মামলা রয়েছে। এদের অপকর্ম থেকে নিস্তার পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি জানান তারা।

এদিকে পেকুয়া থানায় দায়ের করা এজাহারে আহত মামুন উল্লেখ করেন, তারাউল ইসলাম আইমন তার প্রতিবেশী। কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে তার দাপট রয়েছে। ৩১ জুলাই সে মামুনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নেয়। কথা ছিল ৭ আগস্ট ফেরত দেবে। নির্ধারিত দিন পার হয়ে যাওয়ার পরও টাকা দেয়নি। প্রয়োজনবশত পাঁচ দিন পরে শুক্রবার রাতে টাকাটা চান মামুন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই হাতুড়ি দিয়ে মামুনের মাথায় আঘাত করে তারাউল। এরপর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করতে থাকে। চিৎকার শুনে পাড়ার লোকজন এগিয়ে এলে সে সরে যায়। স্থানীয়রা মামুনকে উদ্ধার করে পেকুয়া হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মামুনের অবস্থা আশংকাজনক, তাকে যেকোনো সময় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করা হতে পারে।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরহাদ আলী জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement