advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কুলাউড়ায় ২ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের

শিক্ষিকাকে মারধর

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:১৫ এএম
advertisement

কুলাউড়া উপজেলার লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের শিক্ষিকা নাজমা বানুকে মারধরের প্রতিবাদে ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে ক্লাস বর্জন করে তারা মিছিল বের করেন। এ সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কুলাউড়া-রবিরবাজার সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।

গত শুক্রবার রাতে নাজমা বানু ও তার স্বামীকে তাদের বাড়িওয়ালা রাশেদ চৌধুরী মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে কুলাউড়া থানায় মামলা হয়েছে। এদিকে শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় রাশেদ আহমদ চৌধুরী (৪০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের পালগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাশেদ আহমদ চৌধুরী উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মুদিপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদির চৌধুরীর ছেলে।

advertisement

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাজমা বানু লংলা কলেজের যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক। তার স্বামী আবদুল মতলিব কুলাউড়া উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা। তারা দুই সন্তানকে নিয়ে কলেজের সামনে মুদিপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাটে প্রায় ছয় বছর ধরে ভাড়া থাকেন। সম্প্রতি বাড়িটির মালিকপক্ষের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যায়। এর পর ওই বাড়ির একাংশের মালিক রাশেদ চৌধুরী শিক্ষিকা নাজমা বানুর ফ্ল্যাটের পানির লাইন বন্ধ করে দেন। একাধিকবার লাইন খুলে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি সাড়া দেননি। এ পরিস্থিতিতে নাজমা ও তার স্বামী এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চান। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাশেদ তাদের ফ্ল্যাটে যান। এ সময় পানির লাইন বন্ধ করা নিয়ে বিচার চাওয়ার বিষয়ে রাশেদ ও শিক্ষিকার পরিবারের মধ্যে বাগ্বিত-া হয়। একপর্যায়ে রাশেদ ক্ষিপ্ত হয়ে আবদুল মতলিবকে মারধর শুরু করেন। বাধা দিতে গেলে নাজমাকেও রাশেদ মারধর করেন। এতে নাজমার মাথা ফেটে যায়। পরে প্রতিবেশীরা নাজমা ও তার স্বামীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। রাতে আবদুল মতলিব বাদী হয়ে রাশেদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।

advertisement 4

এদিকে শিক্ষিকাকে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা গতকাল সকালে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তারা কুলাউড়া-রবিরবাজার সড়কে অবরোধ করেন। পরে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগের বিষয়ে রাশেদ চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, রাতে নাজমা ও তার স্বামী পারিবারিক বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করছিলেন। তিনি সেখানে গিয়ে তাদের শান্ত করার চেষ্টা চালান। তবে পানির লাইন বন্ধ করা ও মারধরের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুছ ছালেক জানান, শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। কলেজশিক্ষিকা ও তার স্বামীকে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

advertisement