advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জনপ্রিয়তায় ভাটা তবু এগিয়ে মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২২ ০৯:১৬ এএম
advertisement

ভারতে ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে উঠেছিল মোদি ঢেউ। মোদি জোয়ারে ভেসে যায় বিরোধী শিবির। এর পর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই জোয়ার অটুট থাকে। সেবারও বিরোধীদের ভাসিয়ে দিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেন মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি জোট। প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর একে একে ৮ বছর চলছে। এ সময়ের মধ্যে মোদিকে কম ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়নি। বিশেষ করে করোনার মহামারী, মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, জ¦ালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা সব কিছু মিলিয়ে মোদির জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে এখনো দেশটির জনগণের কাছে মোদির গ্রহণযোগ্যতা অন্য বিরোধী নেতাদের থেকে অনেক বেশি। সম্প্রতি এক জরিপে এমনই চিত্র উঠে এসেছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জাতীয় নেতাদের জনপ্রিয়তার ওপর একটি জরিপ করে। সেই জরিপের ফল গত শুক্রবার প্রকাশ হয়েছে। জরিপে দেখা গেছেÑ ভারতের ৫৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জনগণ এখনো দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে নরেন্দ্র মোদিকেই দেখতে চান। ৯ শতাংশ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে এ পদে সবচেয়ে যোগ্য মনে করেন এবং আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান ৭ শতাংশ ভারতীয়।

advertisement

খবরে বলা হয়, ‘মুড অব দ্য নেশন’ নামের এ জরিপটি পরিচালিত হয় ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার ১৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় জরিপটিতে অংশ নেন।

advertisement 4

এর আগে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি একই বিষয়ে জরিপের ফল প্রকাশ করছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল লিডার অ্যাপ্রুভাল ট্র্যাকার মর্নিং কনসাল্ট। সেখানে দেখা গেছে ভারতের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৭১ শতাংশই দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদিকে দেখতে চান।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, জনপ্রিয়তার এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও মোদি জোয়ার বইবে। আর সেটি হলো নরেন্দ্র মোদির হ্যাটট্রিক হবে।

ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার মোট আসনসংখ্যা ৫৪৩টি। কোনো দল যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চায়, সে ক্ষেত্রে সেই দলকে ন্যূনতম ২৮৬ আসনে জয়ী হতে হবে। ২০১৯ সালে বিজেপি ও তার মিত্ররা মোট ৩০৭টি আসনে জয় পেয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে এ সংখ্যা কমে যেতে পারে বলে ধারণা অনেক বিশেষজ্ঞের। কারণ বিজেপির প্রধান দুই মিত্র দল বিহারের জেডিইউ ও পাঞ্জাবের শিরোমণি আকালি— উভয়ে ইতোমধ্যে বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করেছে। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী দল কংগ্রেসের অবস্থা আশানুরূপ পরিবর্তন হয়নি। বরং বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন রাজ্য ক্ষমতা হারাতে দেখা গেছে দলটিকে। কংগ্রেসের বাইরে অথবা কংগ্রেসকে নিয়ে মোদি বিরোধী হাওয়া তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নরেন্দ্র মোদির বিরোধী হিসেবে মমতার নাম কয়েকবারই এসেছে। এমনকি মমতা নিজেও এ ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারে মমতার যখন পা ভেঙে গেল সেই মমতা বলেছিলেন, এক পায়ে বাংলা বিজয়, আর দুই পায়ে দিল্লি বিজয় করবেন। যদিও ওই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ওই নির্বাচনে মোদির দল বিজেপি হেরেছিল কিন্তু এটাও ঠিক রাজ্যে আগের চেয়ে বিজেপি সমর্থক অনেক বেড়েছে সেটি তাদের প্রাপ্ত আসন সংখ্যাই বলে দিচ্ছে। কিন্তু ভারতের মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি দেশে, এখনকার পরিস্থিতিতে মমতা বড় চমক দেখাবেন এটা আশা করা যায় না। এ ছাড়া আঞ্চলিক দলগুলো এক ছাতার নিচে আসবে এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি। এদিক থেকে দেখা যাচ্ছে আগামী নির্বাচনেও মোদির পাল্লাই ভারী হবে।

 

 

advertisement