advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

একই ধারাবাহিকতায় ইশরাক!

মনিরুল ইসলাম রানা
২২ আগস্ট ২০২২ ০৯:৩৪ পিএম | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২২ ০৯:৩৪ পিএম
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। পুরোনো ছবি
advertisement

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন তখন শহরের নতুন মুখ। আমি বেশ পুলকিত হয়েছিলাম। কারণ রণাঙ্গনের যে যোদ্ধারা পরে জামায়াতের সঙ্গেই আসন ভাগ করে মহান ও পবিত্র সংসদে বসেছিল, তাদের বিদেশ পড়ুয়া আগামী প্রজন্ম মেইনস্ট্রিম রাজনীতিতে আসছে। জন্মের পর থেকে ইশরাক যেমন বিদেশে পড়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে পেরেছিল, একই ধারাবাহিকতায় রাজনীতিতে পা ফেলার আগেই তিনি একটি গণমাধ্যমের মালিকানার অংশীদারত্ব নিয়েই বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজের ক্যারিয়ারের স্বপ্ন বুনতে শুরু করলেন।

আমি অবশ্য জানি না যে, ইশরাকের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের দরকার আছে কি না। কারণ পৈতৃকসূত্র তাকে ওই সুবিধাজনক উত্তম অবস্থানেই রেখেছে। এলেন, দেখলেন, জেলে গেলেন, ফলোয়ার পেলেন। বিএনপির গঠনতন্ত্র নিয়ে কিছু আলাপ-আলোচনা করলে অবশ্য এ ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে যে, তিনি ঠিক কতটা ঘেঁটে মাঠে নেমেছেন। গঠনতন্ত্রের সাথে পারিবারিক কিংবা রাজনৈতিক যোগসূত্রতা নেই বললেই চলে।

advertisement 3

ইশরাক আমাকে বেশ স্বপ্ন দেখিয়েছিল। একে তো নতুন প্রজন্ম, তার ওপরে সঠিক ইংরেজি বলা ব্যক্তিত্ব এবং স্প্যানিশ লীগ, লা লিগা, মানি হাইটস সব কিছুর আবহের সঙ্গে একটু ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’। অবশ্য ওই স্বপ্ন গত কিছু ভিডিওতে তার বক্তব্য শুনে নিমিষেই নাই হয়ে গেছে। বিএনপির মতো একটি জনপ্রিয় দল স্বাধীনতার পর এখন অবধি আওয়ামী লীগের মতো দলের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে জনপ্রিয়তার জায়গায় মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ নিচে নেমেছে। একটা বিশাল প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিনা স্বার্থেই এই দুই দলকে নীরব ভালোবাসা দিয়েছে। চালের দাম বৃদ্ধি কিংবা মুদ্রাস্ফীতির মতো গুরুতর ইস্যুও সেই ভালোবাসায় প্রভাব ফেলতে পারেনি।

advertisement 4

হাওয়া বদলের ওই স্বপ্নে ইশরাক প্রথমে যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন,এটা যে ঘটতে পারে তা তার নির্বাচন কমিউনিকেশন দেখে আগেই আন্দাজ করেছিলাম। বিদেশে পড়াশোনা করে আসা আগামী প্রজন্মের হাতে কী ক্যারিশমেটিক কিছুই ছিল না, যা ভোটারদের সংযুক্ত করবে, মানুষকে নতুন স্বপ্ন দেখাবে, বাস্তবায়ন করবে, একজন আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য গণমানুষের নেতা হয়ে উঠবে, শহরটা নিজের ভাববে? কেউ কি এমন কোনো কিছু ইশরাক বা তার টিম থেকে পেয়েছিল? 

ধারাবাহিকতার দীর্ঘসূত্রতায় বন্দি যে রাজনীতি, ইশরাক সেখানে নতুন প্যাকেজিং ছাড়া নতুন কিছু যুক্ত করতে পারেনি। অন্তত ১৫ আগস্ট তার কেক কাটা ও প্রেস স্টেটমেন্ট দেখে তাই মনে হয়েছে।

ইতিহাস পাঠের যে বিকল্প নেই, সেই কথা স্মরণ করে বলি, তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে থাকা স্বাধীনতা বিরোধীশক্তির সঙ্গে একই দলে থেকেও দূরত্ব রেখেছিলেন। কেউ কেউ চড়-থাপ্পড় দেওয়ার গল্পও করেন। তবে তা কতটা সত্যি তা নিশ্চিত নই।

১৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে শূন্যতা ও ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে, তা জাতি হিসেবে সব দলের জন্য শোকের ও ঘৃণার। প্রধান রাজনৈতিক দলের এমন শোকের দিনে দ্বিতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক দলের একটুও শোকানুভূতি থাকবে না? ভিত্তিহীন, তথ্যহীন ও হীনম্মন্যতাকে ধরে রেখে একই ধারাবাহিকতায় গা ভাসাতে হবে? বিএনপি থেকে কেন একদিন বা একবারও মনে হয়নি শেখ মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই কিংবা ফুল নিয়ে লাইনে দাঁড়াই? অথচ ডিজে ডেকে ডিস্কো করার ইচ্ছাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ইতিহাস স্বীকার করে রাজনীতি করতে চাওয়া জেনারেশন কি তবে এরাও নয়? সেই সতিনের খুনশুটি আর কী বিকল্পের হাওয়া দেদে একই ধারাবাহিকতা ছাড়া!

নেত্রীর জন্মদিনের কেক খেয়েছেন নিশ্চয়ই? একটা আবদার, গুগল থেকে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্ম-তারিখ নিয়ে পড়াশোনা করবেন—এটুকুচাওয়া। ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ লাগবে না!

লেখক: গীতিকবি ও উদ্যোক্তা

advertisement