advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সুস্থ সবল জাতি গঠনে খেলাধুলায় গুরুত্ব দিতে হবে

অভিনন্দন সাবিনা-কৃষ্ণাদের

২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০২:৩৪ এএম
advertisement

অবশেষে বাংলাদেশের ঘরে ফুটবলের একটা শিরোপা এলো। সাফ নারী ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েদের দল গত সোমবার সাফ টুর্নামেন্টে ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে হারিয়ে দিয়েছে। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল আগাগোড়া দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে। ফাইনালের আগে তারা কোনো গোলই হজম করেনি বরং প্রতিপক্ষের জালে ইচ্ছেমতো গোল দিয়েছে। আশা করব তাদের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকবে। আমরা বিজয়ী দলের সব সদস্য ও কোচসহ কোচিং স্টাফদের জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন।

ময়মনসিংহের এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা কিছু ফুটবলপাগল কিশোরীই মূলত জাতিকে প্রথম চমক দিয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৪ দলের শিরোপা জিতে। তারা অনূর্ধ্ব-১৬ বা ১৯ দল হিসেবেও বারবার সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু সেই বয়সে তাদেরই আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে টুর্নামেন্ট খেলতে হয়েছে। শারীরিক সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতার অভাবে তখন তারা কাক্সিক্ষত ফল অর্জন করতে পারেনি। এখন বাংলাদেশ নারী ফুটবল একটি রূপান্তরিত দলের কাহিনি, গত ১৬ বছরে এই পরিবর্তনটা ঘটেছে। এরা কেবল প্রতিপক্ষ দলকেই পরাস্ত করেনি, পদে পদে বিভিন্ন রকম পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিকূলতা জয় করেই তারা এ পর্যন্ত এসেছে। আমরা অবশ্যই তাদের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনকে বাহবা দেব, গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের এসব মেয়েকে এই পর্যায়ে ফুটবলে দক্ষ করে তোলার জন্য। আবারও কোচসহ পুরো টিমকে জাতির পক্ষ থেকে অভিনন্দন।

advertisement 3

এই বিজয় এবং এই দলের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের সাফল্য খেলাধুলা নিয়ে নতুন করে ভাবনার পথ খুলে দিয়েছে। বাফুফে এই দলকে দিয়ে সাফল্য আদায়ে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পেরেছিল। এই মেয়েরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে বাফুফে ভবনে থেকে মূলত ফুটবলের মধ্যেই ছিল। এই একাগ্র সাধনার ফলেই তারা এবং আমরা আজকে পেয়েছি এই সফলতা। তবে সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হলে মাঠ পর্যায় থেকে নিয়মিত খেলোয়াড় তুলে আনার প্রক্রিয়াটি চলমান রাখতে হবে। স্কুলভিত্তিক ছেলে ও মেয়েদের টুর্নামেন্টগুলো চালু রাখার পাশাপাশি জেলাভিত্তিক লিগ চালু করাও দরকার। তাতে মেয়েদের খেলাধুলা নিয়ে সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি যেমন পাল্টাবে, তেমনি দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি হওয়ার পথও খুলে যাবে। খেলাধুলা যে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমও হতে পারে সেটাও সমাজ উপলব্ধি করবে। কিন্তু ব্যাপক হারে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরি করতে হলে দেশব্যাপী তার নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। আর তা কেবল ফুটবলকেন্দ্রিক হলেও চলবে না। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড এবং ফুটবল-ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলাতেও জেলাভিত্তিক লিগের খেলা চালু করা জরুরি। সেই সঙ্গে জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন খেলাধুলার কোচিং ক্যাম্প চালু করার কথা ভাবতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়াও জরুরি। একটি সুস্থ সবল জাতি গঠন করতে হলে তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হবে। সাবিনা, কৃষ্ণাদের সাফল্যের মধ্য দিয়ে জাতি এবং নীতিনির্ধারকরা এই পথনির্দেশটির দিকে মনোযোগ দেন সেটাই আমরা কামনা করি।

advertisement 4

advertisement